ভয়ঙ্কর সেই দৃশ্যে এখনও শিউরে ওঠে ভোলার মানুষ

ঢাকা, সোমবার, ২৩ জুলাই ২০১৮ | ৮ শ্রাবণ ১৪২৫

ভয়ঙ্কর সেই দৃশ্যে এখনও শিউরে ওঠে ভোলার মানুষ

ভোলা প্রতিনিধি ৫:১৪ অপরাহ্ণ, জুলাই ০৮, ২০১৮

print
ভয়ঙ্কর সেই দৃশ্যে এখনও শিউরে ওঠে ভোলার মানুষ

আজ নাসরিন লঞ্চ দুর্ঘটনার ১৫ বছর অতিবাহিত হলো। ২০০৩ সালের ৮ জুলাই ঢাকা থেকে লালমোহনগামী এমভি নাসরিন-১ চাঁদপুরের ডাকাতিয়া এলাকায় অতিরিক্ত যাত্রী ও মালবোঝাই করার কারণে পানির তোড়ে তলা ফেটে গেলে প্রায় ২ হাজারের বেশি যাত্রী নিয়ে লঞ্চটি ডুবে যায় মেঘনা নদীতে। ওই দিন প্রায় ৮ শতাধিক মানুষের সলিল সমাধি ঘটে। দিনটি ভোলাবাসীর জন্য এক শোকাবহ দিন। সেই ভয়ঙ্কর দৃশ্য মনে করে এখনও শিউরে উঠে ভোলার মানুষ।

১৯৭০ এর প্রলয়ংকারী ঘূর্ণিঝড়ের পর ভোলাবাসীর জন্য সবচেয়ে বড় ভয়াবহ সংবাদ ছিল নাসরিন লঞ্চ ট্রাজেডির ঘটনা। অনেকে তার প্রিয়জনদের হারিয়েছেন এই দিনে। আর এর মধ্য দিয়েই ঘটে যায় লঞ্চ দুর্ঘটনার ইতিহাসে সবচেয়ে বড় দুর্ঘটনাটিও। এ সময় জীবিত মৃত সব মিলে ৪’শ যাত্রীর সন্ধান মিললেও প্রায় ৮’শ যাত্রীর প্রাণহানি ঘটে। দুর্ঘটনার দুইদিন পর থেকে ভোলার মেঘনা পরিণত হয়েছিল লাশের নদীতে।

বেসরকারি সেবা সংস্থা কোস্ট ট্রাস্টের হিসাব অনুযায়ী নাসরিন দুর্ঘটনায় আট শতাধিক যাত্রী নিহত ও নিখোঁজ হয়। এর মধ্যে চরফ্যাশনের ১৯৮ জন, লালমোহনের ২৬৪ জন এবং তজুমদ্দিনের ১৩ জনকে শনাক্ত করা গেছে। এদের মধ্যে ১১০ জন ছিল নারী।

নিহত বা নিখোঁজ যাত্রীদের মধ্যে ছিল ৩৩ জন রিকশা/ভ্যান চালক, দুইজন ফেরিওয়ালা, তিনজন গার্মেন্টস শ্রমিক, ২৪ জন চাকরিজীবী, ৫৪ জন দিনমজুর, ৩৬ জন কৃষক, ১০ জন ড্রাইভার, ৩৬ জন ব্যবসায়ী, ৩৩ জন ছাত্র, ৬৬ জন গৃহিনী, ৯ জন গৃহপরিচারিকা, ৯৬ জন শিশু ও বৃদ্ধা। এই দুর্ঘটনায় ৪০২টি পরিবারের এক বা একাধিক ব্যক্তি মারা যান। এসব পরিবারের মধ্যে ১২৮টি পরিবারের উপার্জনক্ষম পুরুষ ব্যক্তি মারা যায়।

সেদিনের দুর্ঘটনায় নিহত ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার সাচড়া ইউনিয়নের দরুন বাজার গ্রামের হাওলাদার বাড়ির মোবারক হোসেনের স্ত্রী লুতফা বেগম জানান, স্বামী হারিয়ে গত ১৫ বছর তিনি ২ মেয়ে ও ১ ছেলে নিয়ে অনাহারে অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছেন। কেউই তাদের জন্য সাহায্যের হাত বাড়ায়নি।

শুধু লুতফা বেগম নয় এমন অনেক পরিবার আছে সেদিনের দুর্ঘটনায় উপার্জনকারী স্বজন হারিয়ে দিন কাটছে নানা সমস্যার মধ্যে।

এতবড় দুর্ঘটনা ঘটলেও ভোলা-লালমোহন রুটে সরকারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী নিরাপদ লঞ্চ দেয়া হয়নি আজও। দুর্ঘটনার পরের সেই ফিটনেস বিহীন লঞ্চগুলো এখনো অবাধে চলছে ঢাকা-লালমোহন রুটে। এ কারণে ২০০৯ সালের ২৭ নভেম্বর আবারো দুর্ঘটনায় পড়ে কোকো-৪ লঞ্চটি।

এ দুর্ঘটনায় ৮১ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়। বার বার এমন দুর্ঘটনা ঘটলেও সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের টনক নড়ছে না। মানুষ এসব লঞ্চে বাধ্য হয়ে উঠলেও ভীত সন্তস্ত্র থাকে।

এ ব্যাপারে লালমোহন পৌর মেয়র এমদাদুল ইসলাম তুহিন বলেন, লালমোহন বাসীর দীর্ঘ দিনের দাবি ঢাকা-লালমোহন রুটে একাটি মানসম্পন্ন লঞ্চের। কিন্তু লঞ্চ মালিকদের উদাসীনতা ও খামখেয়ালীর কারণে প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই পথে যাতায়াত করছে।

এ ব্যাপারে তিনি কর্তৃপক্ষের আশু সুদৃষ্টি কামনা করেন।

এদিকে নাসরিন ট্রাজেডি উপলক্ষ্যে লালমোহন প্রেসক্লাব, রিপোর্টারস ইউনিটি, নব মোহন ও গীতি চয়ন সংগঠনসহ বিভিন্ন সেচ্ছাসেবী, সাংস্কৃতিক সংগঠন মানববন্ধন ও আলোচনা সভাসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

এএম/এসএফ

 
.



আলোচিত সংবাদ