বঙ্গবন্ধু জেলা গভর্নর সিস্টেম চালুর দ্বারপ্রান্তে ছিলেন: আমু

ঢাকা, রবিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮ | ৮ আশ্বিন ১৪২৫

বঙ্গবন্ধু জেলা গভর্নর সিস্টেম চালুর দ্বারপ্রান্তে ছিলেন: আমু

ঝালকাঠি প্রতিনিধি ৯:৩৮ অপরাহ্ণ, জুলাই ০৭, ২০১৮

বঙ্গবন্ধু জেলা গভর্নর সিস্টেম চালুর দ্বারপ্রান্তে ছিলেন: আমু

শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু বলেছেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৫ সালে জেলার উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সমন্বয়ের জন্য জেলা গভর্নর সিস্টেম চালু করার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছিলেন।

তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু চেয়েছিলেন- জেলার সর্বময় ক্ষমতা থাকবে একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির হাতে। তখন বঙ্গবন্ধু আমাকে ঝালকাঠি জেলার গভর্নর হিসেবে মনোনীত করেছিলেন।’

‘কিন্তু ৬৪ মহকুমাকে জেলায় রুপান্তর এবং জেলা গভর্নর সিস্টেম চালু করার আগেই পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট স্বাধীনতা বিরোধীদের চক্রান্তে ঘাতকরা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে সে পরিকল্পনাকে ধ্বংস করে দেয়’ যোগ করেন শিল্পমন্ত্রী।



তিনি বলেন, ২০০৯ সালে শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নিয়ে জেলা পরিষদকে শক্তিশালী করার কাজে হাত দেন এবং তৃণমূল জনপ্রতিনিধিদের ভোটে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচনের আইন করেন। কারণ শেখ হাসিনা মনে করেন, যারা তৃণমূলে জনসেবা করেন তারাই আসল জনসেবক।

শনিবার বিকালে ঝালকাঠি শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে জেলা পরিষদ আয়োজিত সংবর্ধনার জবাবে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আমু এসব কথা বলেন। 

তিনি বলেন, এদেশ থেকে আওয়ামী লীগের নাম মুছে ফেলার জন্য ১৯৭৫ সালে শুধু বঙ্গবন্ধুকে নয়, বঙ্গবন্ধুর পর যারা আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব দিতে পারে এমন নেতাদেরও জেলখানায় হত্যা করেছিল। কিন্তু তৃণমূল পর্যন্ত আওয়ামী লীগের শেকড় থাকায় ২১ বছর পর আওয়ামী লীগ আবার ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় আসে।

শিল্পমন্ত্রী বলেন, ২০০৪ সালে তারেক রহমানের প্রত্যক্ষ মদদে গ্রেনেড হামলা করে শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। ব্যর্থ হলেও তারা থেমে নেই। এখনও তারা শেখ হাসিনাকে হত্যা করে এদেশ থেকে আওয়ামী লীগের নাম-নিশানা মুছে ফেলার চেষ্টা করছে। কিন্তু তাদের এ চেষ্টা কোনদিন সফল হবে না।

তিনি আরও বলেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সংবিধান অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধিনেই অনুষ্ঠিত হবে। বিএনপি সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিরোধিতা করে আমেরিকার মত বড় বড় মোড়ল রাষ্ট্রের কাছে ধর্না দিচ্ছে। তবে কোনো রাষ্ট্রের চাপে বা হুমকিতে সংবিধানের বাইরে গিয়ে কোনো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে না। 

এছাড়া শিল্পমন্ত্রী বলেন, পদ্মা সেতু, পায়রা বন্দর এবং দক্ষিণাঞ্চলে রেললাইন চালু করতে হলে আগামী নির্বাচনে অবশ্যই আওয়ামী লীগকে বিজয়ী করতে হবে। আওয়ামী লীগ নির্বাচিত হতে না পারলে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড থেমে যাবে। 

ঝালকাঠি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি সরদার মো. শাহ আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ধর্ম মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও ঝালকাঠি-১ আসনের সংসদ সদস্য বজলুল হক হারুন, ঝালকাঠির ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক মো. শহীদুল ইসলাম, পুলিশ সুপার মো. জোবায়েদুর রহমান, জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট খান সাইফুল্লাহ পনির প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

জেআইজে/এমএসআই