জলবায়ু পরিবর্তন প্রভাবে ঝুঁকিতে ভোলার নারী ও শিশুরা

ঢাকা, বুধবার, ১৫ আগস্ট ২০১৮ | ৩১ শ্রাবণ ১৪২৫

জলবায়ু পরিবর্তন প্রভাবে ঝুঁকিতে ভোলার নারী ও শিশুরা

ভোলা প্রতিনিধি ২:১৬ পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০১৮

print
জলবায়ু পরিবর্তন প্রভাবে ঝুঁকিতে ভোলার নারী ও শিশুরা

জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে প্রতিনিয়ত দক্ষিণাঞ্চলের সমুদ্রের উচ্চতা বাড়ছে। এর ফলে মিঠা পানির এলাকাগুলো লবনাক্ত হয়ে পড়ছে, কৃষক তার কৃষি জমি হারাচ্ছে। নদী ভাঙ্গনের সাথে সাথে দ্বীপ জেলা ভোলার আয়োতন ছোট হয়ে আসছে। পাশাপা‌শি নারী এবং শিশুরা চরম স্বাস্থ্য হুমকির মুখে পড়ছে।

একইসাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে উদ্বাস্ত মানুষের সংখ্যা। এর জন্য চাই সময় উপযোগী পদক্ষেপ। এর মাধ্যমেই জলবায়ু পরিবর্তন এর সাথে সাথে উপকূলীয় জেলা ভোলার মানুষ মানিয়ে নিতে পারবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা । জলবায়ু পরিবর্তনের এমন নানাবিষয়ের কথা বলেছেন “জলবায়ু পরিবর্তন ও অভিযোজন” বিষয়ক কর্মশালায়।

সোমবার দিনব্যাপী জেলা প্রশাসন ও সেন্টার ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ এন্ড এনভায়ার মেন্টাল রিসার্চ এর আয়োজনে জাতিসংঘ শিশু তহবিল (ইউনিসেফ)এর সহযোগিতায় জেলা প্রশাসক সম্মেলন কক্ষে এই কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। কর্মশালায় স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক মাহমুদুর রহমানের সভাপতিত্বে ভোলার জেলা প্রশাসক মো: সেলিম উদ্দিন প্রধান অতিথি হিসেবে এ কর্মশালার উদ্ধোধন করেন।

এসময় বক্তারা বলেন, ভোলা একটি ঘুর্ণিঝড় ও নদীভাঙন প্রবণ দ্বীপাঞ্চল। ঝড় ঝঞ্চার সাথে সংগ্রাম করে বেড়ে ওঠে এখানকার লড়াকু মানুষ। জীবন সংগ্রামের কারনেই তারা পরিবর্তিত পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে নিচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারনে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ শিশু ও নারীরা । এক্ষেত্রে অর্থিক সংকটের কারনে জীবনযাত্রায় বিরুপ প্রভাব পরায় সামাজিক নিরাপত্তাও বিঘিœত হয়। এসময় ভোলাকে শুধুমাত্র সমস্যায় জর্জরিত নয় বরং এ দ্বীপ জেলাটিতে অপার সম্ভাবনাও রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এসময় জেলা প্রশাসক জলবায়ু পরিবর্তন বিরুপ প্রভাব মোকাবিলায় একাডেমিক জ্ঞানের সাথে স্থানীয় মানুষের জ্ঞান কাজে লাগিয়ে সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে স্বমন্নিত পথনকশা তৈরি করার প্রতি গুরাত্বারোপ করেন। জলবায়ু অভিযোজনে শিশু ও যুবদের ক্ষমতায়িত করতে হবে। তাদেরকে কল্পনার সুযোগ দিতে হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

বক্তারা আরো বলেন,জলবায়ু পরিবর্তন প্রভাব ব্যাপকভাবে আলোচিত হলেও উপকূলীয় অঞ্চলে এর ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে খুব কম সংখ্যাক মানুষই জানে। স্বাস্থ্য, অবকাঠামো,স্যানিটেশন সহ অন্যান্য বিষয়গুলো কমিউনিটির লোকজনদের নিয়ে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলার কৌশল নির্ধারন করতে হবে বলে বক্তারা মত প্রকাশ করেন।

তারা আরো বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবেলায় উপকূলের নারীরা হিমশিম খাচ্ছে। এতে মা ও শিশুর অপুষ্টি এবং মাতৃমৃত্যুহার বেড়ে চলছে। বিশেষ করে পরিবারে মহিলারা প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যে খাদ্য প্রস্তুত,জ্বালানি ও বিশুদ্ধ পানি সংগ্রহ করতে বেশি শ্রম দিতে হচ্ছে। অনেকে কিশোরীরা প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা পাচ্ছেনা। ফলে ঝুকিঁর মধ্যে বেড়ে উঠছে। এছাড়াও জীবন-জীবিকা হুমকীর মুখে পড়ে অনেক পরিবার উদ্বাস্ত হয়ে পড়ছে। অনেকেই নদী ভাঙ্গন সহ নানা কারনে এলাকা ছেড়ে রাজধানীতে গিয়ে আশ্রয় নিচ্ছেন। ফলে উদ্বাস্ত মানুষের সংখ্যা বেড়েই চলছে। তাই সময়ের প্রয়োজনে এখনই সরকারি ও বে-সরকারি ভাবে সকলের সম্মলিত ভাবে জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে পরিকল্পনা গ্রহন করার আহবান জানান। 

এলসিবিসি অফিসার মো: আবদুস সালামের সঞ্চালনায় আলোচনায় অংশ নেয় জেলা প্রশাসক মোহাং সেলিম উদ্দিন। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন - বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ফরিদ মিয়া, প্লানিং ও মনিটরিং অফিসার আল মুুমিন মো: গোলাম সরোয়ার, প্রোগ্রাম অফিসার আ: জলিল, ঘূর্নিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচী (সিপিপি) উপ-পরিচালক মো: শাহাবুদ্দিন, পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উপ-পরিচালক মাহামুদুল হক আজাদ, কোস্ট ট্রাস্ট টিম লিডার রাশিদা বেগম, আইইসিএম প্রকল্পের সম্মনয়কারী মো: মিজানুর রহমান, প্রথম আলো জেলা প্রতিনিধি নেয়ামত উল্ল্যাহ , যুবরেড ক্রিসেন্ট এর যুব প্রধান আদিল হোসেন তপু, ইয়ূথনেট ক্লাইমেট এর সম্মনয়কারী সোহানুর রহমান, যুব সদস্য মাইনুল এহসান প্রমুখ। কর্মশালায় বিভিন্ন সরকারী-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, যুব রেড ক্রিসেন্ট এর স্বেচ্ছাসেবীরা, কিশোর-কিশোরী ক্লাবের সদস্য ও জেলার বিভিন্ন উপজেলা বিশেষকরে মনপুরা দ্বীপ থেকে শিশু ও যুব প্রতিনিধিরা অংশ নিয়ে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় মতামত ব্যক্ত করেন । 

এএম/আরজি

 
.


আলোচিত সংবাদ