এতো বেশি সুদ বিশ্বের কোথাও নেই: অর্থমন্ত্রী

ঢাকা, রবিবার, ৮ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

এতো বেশি সুদ বিশ্বের কোথাও নেই: অর্থমন্ত্রী

পরিবর্তন প্রতিবেদক ৬:৫০ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ০১, ২০১৯

এতো বেশি সুদ বিশ্বের কোথাও নেই: অর্থমন্ত্রী

বাংলাদেশের মতো এতো বেশি সুদ বিশ্বের কোথাও নেই মন্তব্য করে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, ‘সুহদার বাড়লে খেলাপি ঋণ বাড়বেই। ১৪ থেকে ১৫ শতাংশ সুদহার হলে এটা দিয়ে ঋণ গ্রহীতারা কুলাতে পারে না। তাই সুদহার ৯ শতাংশের নিচে নিয়ে আসা অত্যন্ত জরুরি এবং আমরা সে চেষ্টাই করে যাচ্ছি।’

রোববার রাজধানীর শেরে বাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের অন্যতম চ্যালেঞ্জ নন-পারফরমিং লোন বা খেলাপি ঋণ। আমি বলেছিলাম ঋণখেলাপি বাড়বে না বরং সামনে ধীরে ধীরে খেলাপি ঋণের হার কমবে। কিন্তু তারপরেও খেলাপি ঋণ বাড়ছে এটা সত্য, কিন্তু কেন বাড়লো সেটা আমাদের জানা দরকার। এনপিএল বৃদ্ধির মূল কারণ উচ্চ সুদ হার।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের আজকের সভাও বিশেষভাবে ৯ শতাশেংর নিচে সুদহার আনয়নের ব্যবস্থা নিরুপণে ডাকা হয়েছে। সুতরাং সুদহার ৯ শতাংশ হলে এনপিএল বাড়বে না। আশা করা যায় ১০ বছর পরে আমাদের ব্যালেন্সসিটও পরিষ্কার হয়ে যাবে।’

আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, ‘আমরা চাই যে উদ্দেশ্যে সরকার ব্যাংকগুলোকে অনুমোদন দিয়েছে সেই জায়গা থেকে ব্যাংক কাজ করবে। এনপিএল কমাতে হবে এবং সুদহারও কমাতে হবে। আমাদের বেসরকারি ব্যাংক অনেক এলাকা কাভার করে। আমাদের দেশের উন্নয়ন এখন দৃশ্যমান। এগুলো সম্ভব হওয়ার পেছনে আমাদের সরকারি-বেসরকারি ব্যাংকগুলোর বড় অবদান রয়েছে।’

অর্থমন্ত্রী জানান, ‘এনপিএল কমাতে পৃথিবীর অন্যান্য দেশের মতো সুদহার বসাতে হবে। আমরা সবাই বসেছিলাম কিভাবে সুদহার কমানো যায়, অথবা কমপিটিটিভ একটা এনভায়রনমেন্টে আনা যায়। সবাই আমরা একবাক্যে স্বীকার করেছি যে সুদহার কমাতেই হবে। সুদহার সিঙ্গেল ডিজিটে আনলে আমাদের অনেক এনপিএল কমে যাবে। সুদহার কমলে আমাদের সঙ্গে বিদেশিরা ব্যবসা করে শান্তি পাবে, কোনো প্রশ্ন করবে না। বিদেশিরা আমাদের এলসিগুলো গ্রহণ করবে।’

অর্থমন্ত্রী আরো বলেন, ‘সুদহার কমানোর জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের গর্ভনরের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হবে। গভর্নর যতজন মেম্বার প্রয়োজন মনে করবেন কমিটিতে ততজন থাকবে। যারা রিপ্রেজেন্ট করবে ব্যাংককে, রিপ্রেজেন্ট করবে প্রাইভেট-পাবলিক খাতকে- তাদের সবাইকে নিয়ে গভর্নর একটি কমিটি গঠন করে দেবেন।’

‘কমিটি সকল বিষয়ে নির্দিষ্ট ব্যাখ্যা দেবেন। কারণ খুঁজে বের কর আগামী সাত দিনের মধ্যেই তারা এই কাজ করবেন। কিভাবে আমরা সুদহার কমাবো এই বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য থাকবে।’ যোগ করেন মন্ত্রী।

তিনি আরো বলেন, ‘খেলাপি ঋণ যদি বাড়ে তবে কোথা থেকে বাড়ে। এদেশের সকল নাগরিকের কাছ থেকেই খেলাপি ঋণ বাড়ে। তাদের কষ্টার্জিত টাকা। আমি তাদের পক্ষ নিয়েই বলেছিলাম খেলাপি ঋণ বাড়বে না। আমরা সঠিকভাবে সঠিক কাজ করতে পারলে সব কিছুই সম্ভব।’

এফএ/এইচআর

আরও পড়ুন...
সুদের হার এক অংকে নামাতে কমিটি হচ্ছে: অর্থমন্ত্রী

 

ব্যাংক ও বীমা: আরও পড়ুন

আরও