নতুন ঋণ পাবেন না পুনঃতফসিলের আবেদনকারীরা

ঢাকা, বুধবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৯ | ২৯ কার্তিক ১৪২৬

নতুন ঋণ পাবেন না পুনঃতফসিলের আবেদনকারীরা

পরিবর্তন প্রতিবেদক ১০:৪২ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৩, ২০১৯

নতুন ঋণ পাবেন না পুনঃতফসিলের আবেদনকারীরা

যেসব ঋণ খেলাপিরা দুই শতাংশ ডাউন পেমেন্ট দিয়ে ঋণ পুনঃতফসিল করার আবেদন করেছেন বা এককালীন ঋণ পরিশোধ করেছেন, তারা অন্যকোনো ব্যাংক থেকে নতুন করে ঋণ নিতে পারবেন না।

বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংক এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে দেশের ব্যবসারত সকল তফসিলি ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পাঠিয়েছে।

বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো সার্কুলারে বলা হয়, চলতি বছরের ৩ সেপ্টেম্বর ঋণ পুনঃতফসিল ও এককালীন পরিশোধে বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালার সময়সীমা ২০ অক্টোবর পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছিল।

এ বিষয়ে উচ্চ আদালতে দায়ের করা রিট নিষ্পত্তি না হওয়ায় এই পুনঃতফসিলের সময়সীমা আরও একমাস বৃদ্ধি করা হয়েছে। তবে এ সময় নতুন করে কোনো আবেদনপত্র গ্রহণ করা যাবে না। আগের আবেদনের কার্যক্রম পরিচালনা করা যাবে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, নির্ধারিত সময়ে যেসব ঋণ খেলাপিরা দুই শতাংশ ডাউন পেমেন্ট দিয়ে পুনঃতফসিল সুবিধার আবেদন করেছেন, তারা নতুন করে কোনো ঋণ গ্রহণ করতে পারবেন না।

এর আগে চলতি বছরের ১৬ মে বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ থেকে দুই শতাংশ ডাউন পেমেন্ট দিয়ে ঋণ পুনঃতফসিল সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এ বিষয়ে দায়ের করা রিটের শুনানি নিয়ে ২১ মে ওই প্রজ্ঞাপনের ওপর ২৪ জুন পর্যন্ত স্থিতাবস্থা বজার রাখার জন্য আদেশ দিয়েছিলেন আদালত।

এ আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করে বাংলাদেশ ব্যাংক। ২ জুলাই আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত ৮ জুলাই পর্যন্ত হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করেন। ৮ জুলাই এ স্থগিতাদেশের মেয়াদ আরও দুই মাস বাড়ান।

তবে যারা দুই শতাংশ ডাউন পেমেন্টের সুবিধা নেবেন, তারা নতুন করে ঋণ নিতে পারবেন না। সে আদেশ অনুসারে রিট মামলাটি উক্ত আদালতের কার্যতালিকায় উঠে। রুল শুনানি অবস্থায় দুই শতাংশ ডাউন পেমেন্ট নিয়ে আদালতের আদেশ কয়েকবার বাড়িয়েছেন।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালের জুন শেষে ব্যাংক খাতে ঋণ বিতরণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯ লাখ ৬২ হাজার ৭৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে এক লাখ ১২ হাজার ৪২৫ কোটি টাকা।

আর রাইটঅফ বা অবলোপন করা ঋণের পরিমাণ যোগ করা হলে খেলাপি ঋণ দেড় লাখ কোটি টাকা ছাড়াবে।

এর আগে ২০১৮ সালের জুনে শেষে অবলোপন বাদে খেলাপি ঋণ ছিল ৯০ হাজার ৩৭২ কোটি টাকা।

এ হিসাবে বিগত এক বছরে খেলাপি ঋণ বেড়েছে প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকা। আগের প্রান্তিক চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ এই তিন মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছিল প্রায় ১৭ হাজার কোটি টাকা।

জেডএস/এইচআর

 

ব্যাংক ও বীমা: আরও পড়ুন

আরও