সিটি ব্যাংকের ৩ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির মামলা

ঢাকা, ১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ | 2 0 1

সিটি ব্যাংকের ৩ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির মামলা

পরিবর্তন প্রতিবেদক ৪:৫৪ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২১, ২০১৯

সিটি ব্যাংকের ৩ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির মামলা

সিটি ব্যাংকের তিন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ মামলা করা হয়েছে।

রোববার রাজধানীর গুলশান থানায় মামলাটি করেন সিটি ব্যাংকের সদ্য চাকরিচ্যুত সহকারী ভাইস প্রেসিডেন্ট মনিরা সুলতানা পপি।

মামলায় সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসরুর আরেফিন, হেড অব সিএসআরএম আবদুল ওয়াদুদ ও বোর্ড সেক্রেটারি কাফি খানকে আসামি করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসরুর আরেফিন বলেন, মামলায় যৌন হয়রানির অভিযোগটি মিথ্যা। মূলত মনিরা সুলতানার কাছে ব্যাংকের ১ কোটি টাকারও বেশি ঋণ আছে। এ টাকা না দেয়ার জন্যই তিনি এ মামলাটি করেছেন।

চাকরিচ্যুতির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তাকে (মনিরা সুলতানা) যুক্তিসঙ্গত কারণেই চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে অসদাচরণ, চাকরিবিধি লঙ্ঘন ও ব্যাংকের গাড়ি অপব্যবহারের অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে। এসব বিষয়ে ব্যাংক তাকে বার বার সতর্ক করলেও তিনি সংশোধন হয়নি। তাই শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।

মনিরা সুলতানা পপির করা মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ব্যাংকে যোগদান করার পরপরই মাসরুর আরেফিনের নিয়মিত ইভটিজিংয়ের শিকার হন। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হওয়ায় এমডির এসব আচরণ সহ্য করেই তাকে কাজ করতে হয়।

২০১১ সালে অপর আসামি হেড অব সিএসআরএম আবদুল ওয়াদুদ গাড়িতে লিফট দেয়ার নাম করে তার ওপর অতর্কিত আক্রমণ করে বসেন। লিফটের ভেতরে, সিঁড়িতে অফিস চলাকালীন তার হয়রানির শিকার হতে হয়। এ ঘটনা বোর্ডের চেয়ারম্যান আজিজ আল কায়সার টিটো এবং তাবাসসুম কায়সার জানেন। বোর্ডে আলোচনায় আসার পর কনসালট্যান্ট রাজা দেবনাথ লিখিত অভিযোগ করতে বলেন। এরপর ব্যাংকের সিনিয়র কর্মকর্তারা তাকে নিয়ে আলোচনায় বসেন।

ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে একই ফ্লোরে কাজের পরিবেশ নেই জানানোর পর সেপ্টেম্বরে মনিরা সুলতানাকে ট্রান্সফার করা হয়। এরপর ৩১ ডিসেম্বর ডিএমডি (অপারেশন) মাহিয়া জুনেদ এবং মানবসম্পদ বিভাগের প্রধান তাকে চাকরি খুঁজতে বলেন।

মামলার এজাহারে  আরও বলা হয়, দুর্নীতি ও অনিয়মের মাধ্যমে লাকি শিপ বিল্ডার্সকে বিপুল অঙ্কের লোন দেয়া হয়। এ প্রক্রিয়ায় আমি যুক্ত হতে রাজি হইনি। এ কারণেও আমাকে ব্যাংকের রোষানলে পড়তে হয়।

২১ জানুয়ারি ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসরুর আরেফিনের সঙ্গে দেখা করে অন্যত্র চাকরি খুঁজতে বলার কারণ জানতে চাইলে এমডি ব্যক্তিগত ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, তার কথা অনুযায়ী না চলা এবং নোংরা আবেদনে সাড়া না দেয়া ও দুর্নীতিগ্রস্ত ঋণ প্রদান প্রক্রিয়ায় জড়িত না থাকাই আমার অপরাধ।

এজাহারে বলা হয়, ১ জানুয়ারি বোর্ড সেক্রেটারি আমাকে ডেকে বলেন, আমি যেন অফিসে আর না ঢুকি। এমডি মাসরুর আরেফিন, আবদুল ওয়াদুদ, কাফি খান আমার সঙ্গে অসদাচরণ করেছেন। সরাসরি গায়ে আপত্তিজনকভাবে হাত দেয়া, কটূক্তি ও লালসার শিকার বানানোর চেষ্টা করেন। ব্যর্থ হয়ে তারা আমার দীর্ঘ ১৭ বছরের কর্পোরেট ক্যারিয়ার ধ্বংস করে দেন।

এফএ/এসবি

 

ব্যাংক ও বীমা: আরও পড়ুন

আরও