শীর্ষ ২০ ঋণ খেলাপির দায়িত্ব নিতে শাখা প্রধানদের নির্দেশ

ঢাকা, ৩১ জুলাই, ২০১৯ | 2 0 1

শীর্ষ ২০ ঋণ খেলাপির দায়িত্ব নিতে শাখা প্রধানদের নির্দেশ

পরিবর্তন প্রতিবেদক ১১:০৮ পূর্বাহ্ণ, মে ২৭, ২০১৯

শীর্ষ ২০ ঋণ খেলাপির দায়িত্ব নিতে শাখা প্রধানদের নির্দেশ

রাষ্ট্রয়ত্ত সোনলী ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ইস্যুতে চাওয়া আর পাওয়ার মধ্যে আকাশ-পাতাল তফাত থেকেই যাচ্ছে। ব্যাংকটি চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) পর্যন্ত সময়ে মাত্র ২৮১ কোটি ৭১ লাখ টাকা আদায় করেছে। অথচ এ বছর মোট খেলাপি ঋণ থেকে ৬ হাজার ৬৪৫ কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সোনালী ব্যাংক। এ অবস্থায় প্রিন্সিপাল ও আঞ্চলিক অফিস প্রধানদের তাদের অঞ্চলের শীর্ষ ২০ ঋণ খেলাপিদের কাছে থেকে টাকা আদায়ে দায়িত্ব গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে প্রধান কার্যালয়।

জানা গেছে, বছরের প্রথম ৩ মাসে সোনালী ব্যাংক যে পরিমাণ খেলাপি ঋণ আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে তা বছর জুড়ে আদায়ের মোট লক্ষ্যমাত্রার মাত্র ৪ দশমিক ২৪ শতাংশ। এ হিসাবে বছরের বাকি নয় মাসে ব্যাংকটিকে লক্ষ্যমাত্রা পূরণে আরো প্রায় ৯৬ শতাংশ খেলাপি ঋণ আদায় করতে হবে।

এদিকে সোনালী ব্যাংকের অবলোপনকৃত খেলাপি ঋণ থেকে লক্ষ্যমাত্রার ১ শতাংশও আদায় হয়নি। চলতি বছর অবলোপনকৃত ঋণ থেকে আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৭১০ কোটি টাকা। এর বিপরীতে বছরের প্রথম প্রান্তিকে ব্যাংকটি আদায় করতে পেরেছে মাত্র ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। যা মোট লক্ষ্যমাত্রার প্রায় শূন্য দশমিক ৬২ শতাংশ। সোনালী ব্যাংকের মোট অবলোপনকৃত খেলাপি ঋণ রয়েছে ৭ হাজার ৮৮ কোটি টাকা।

খেলাপি ও অবলোপনকৃত ঋণ থেকে আদায় পরিস্থিতিকে হতাশাব্যঞ্জক ও খুবই নাজুক বলে মনে করে স্বয়ং করেছে সোনালী ব্যাংকের হেড অফিস। সম্প্রতি ব্যাংকটির ‘লোন রিকভারি ডিভিশন’ থেকে শাখাগুলোকে এ চিঠি দেওয়া হয়।

চিঠিতে চলতি বছরের প্রথম তিন মাসের খেলাপি ঋণ আদায়ের অর্জনকে হতাশাজনক বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ওই চিঠি ব্যাংকটির সব মহাব্যবস্থাপক (জিএম), সব সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম), স্থানীয় কার্যালয়, বঙ্গবন্ধু এভিনিউ করপোরেট শাখা, রমনা করপোরেট শাখাসহ সব করপোরেট শাখা ও প্রিন্সিপাল শাখায় পাঠানো হয়েছে।

চিঠিতে খেলাপি ও অবলোপনকৃত ঋণ থেকে আদায় বাড়ানোর জন্য বেশকিছু নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ব্যাংকের শাখা প্রধানরা শাখার শীর্ষ ২০ খেলাপি ঋণ আদায়ের দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবেন। অবশিষ্ট খেলাপি ঋণ আদায়ের দায়িত্ব শাখার অন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে দাপ্তরিক নির্দেশের মাধ্যমে বণ্টন করা হবে। করপোরেট শাখাগুলো মাস শেষে খেলাপি ঋণ আদায় অগ্রগতি প্রতিবেদন প্রস্তুত করে নিয়ন্ত্রণকারী কার্যালয়ে পাঠাবে।

সব করপোরেট শাখা নিজ কার্যালয়ে তিন সদস্যবিশিষ্ট খেলাপি ঋণ আদায় মনিটরিং ও মামলা পরিচালনার জন্য একটি মনিটরিং সেল গঠন করবে জানিয়ে চিঠিতে বলা হয়েছে, ওই সেল মাস শেষে খেলাপি ঋণ আদায় ও মামলা নিষ্পত্তিসংক্রান্ত তথ্য নিয়ন্ত্রণকারী কার্যালয়ে প্রেরণ করবে। প্রিন্সিপাল বা আঞ্চলিক অফিসপ্রধানরা তাদের অঞ্চলের শীর্ষ ২০ খেলাপি ঋণ আদায়ের দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। তাদের কার্যালয়ের অন্যান্য নির্বাহী ও কর্মকর্তার মধ্যে শাখাওয়ারি সব খেলাপি ঋণ আদায় ও মনিটরিংয়ের দায়িত্ব দেবেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সাল শেষে সোনালী ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১২ হাজার ৬১ কোটি টাকা। ব্যাংকটির বিতরণকৃত ঋণের ৩০ শতাংশই খেলাপি। একই সময়ে ৭ হাজার ৮৮ কোটি টাকার খেলাপি ঋণ অবলোপন করেছে ব্যাংকটি।

এফএ

 

ব্যাংক ও বীমা: আরও পড়ুন

আরও