ঘুষ খাবে না, কোরআন নিয়ে শপথ করালেন অর্থমন্ত্রী

ঢাকা, রবিবার, ১৬ জুন ২০১৯ | ২ আষাঢ় ১৪২৬

ঘুষ খাবে না, কোরআন নিয়ে শপথ করালেন অর্থমন্ত্রী

পরিবর্তন প্রতিবেদক ১২:১৯ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ২৬, ২০১৯

ঘুষ খাবে না, কোরআন নিয়ে শপথ করালেন অর্থমন্ত্রী

আর কখনো ঘুষ খাব না এই মর্মে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত করে সোনালী ব্যাংক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শপথ বাক্য পাঠ করিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

সোমবার রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের (আইডিইবি) সম্মেলন কক্ষে সোনালী ব্যাংকের বার্ষিক সম্মেলনে এ শপথ বাক্য পাঠ করান অর্থমন্ত্রী।

এতে সভাপতিত্ব করেন সোনালী ব্যাংক পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান মো. আশরাফুল মকবুল। এ সময় সোনালী ব্যাংক কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ঘুষ না খাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে শপথ পড়েন।

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সোনালী ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপকসহ শীর্ষ কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসা করেন, আপনারা কি ঘুষ খান? উপস্থিত কর্মকর্তাদের অনেকেই চুপ থাকেন। কিছু কর্মকর্তা না বলে আওয়াজ তুলেন। অর্থমন্ত্রী আবারো জানতে চান, ঘুষ কেমনে খায়? আমার শরীরে ইনজেকশান দিয়েও ঘুষ খাওয়াতে পারবেন না।

তিনি বলেন, আমরা একে অপরের সততায় বিশ্বাসী। পৃথিবীতে সৎ মানুষের বড়ই অভাব। তবে এখনো সৎ মানুষের সংখ্যাই বেশি। না হলে পৃথিবী অনেক আগেই ধ্বংস হয়ে যেতো।

এ সময় অর্থমন্ত্রী বলেন, এখন থেকে আমি কি আপনাদেরকে বিশ্বাস করতে পারি? উপস্থিত সোনালী ব্যাংক কর্মকর্তারা হ্যাঁ বলে জবাব দেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব গ্রহণের পর ‘এখানে আপনার একটি স্বপ্ন আছে’ এ ট্যাগ লাইন দিয়েছিলাম। এ স্বপ্নের কোন শেষ নেই। জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ৬ থেকে ৭ শতাংশে উন্নিত হওয়ার পর আরেকটি ট্যাগ লাইন দিয়েছিলাম। সেটি হলো-‘সময় এখন আমাদের, সময় এখন বাংলাদেশের’। আমি অনেক সময় নিয়ে এ ট্যাগ লাইন দুটি নির্ধারণ করেছিলাম। এবার অর্থমন্ত্রণালয়ের জন্য ‘আমরা অাপনার সততায় বিশ্বাসী’ এ বাক্যটি ট্যাগ লাইন নির্ধারন করা হয়েছে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে গভর্নর ফজলে কবির বলেন, দেশের সবচেয়ে বড় ব্যাংক হিসেবে সোনালীর ব্যান্ডিং ইমেজ আছে। এটি আইকনিক ব্যাংক। এজন্য সোনালী ব্যাংক কর্মকর্তাদের দায়িত্বও অনেক।

সোনালী ব্যাংকের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালনকালীন সময় স্মরণ করে গভর্নর বলেন, আমি সোনালী ব্যাংকেই ছিলাম। শাপলা চত্বর পার হয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকে গিয়েছি। ২০১৮ সালে সোনালী ব্যাংকের পরিচালন মুনাফা বেড়েছে। কিন্তু প্রভিশন ঘাটতি, অবলোপনকৃত ঋণ থেকে আদায়, খেলাপি ঋণের দিক থেকে তেমন উন্নতি হয়নি। বিদায়ী বছরে সোনালী ব্যাংক দুই হাজার কোটি টাকা পুনঃতফসিল করেছে। এরপরও খেলাপি ঋণ আশানুরুপ কমেনি। ব্যাংকের কোন ঋণ খেলাপি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মামলা না করে বিকল্প মাধ্যমে আদায়ে জোর দিতে হবে। ঋণ যাতে কেন্দ্রীভূত না হয়ে যায়, সেটি লক্ষ্য রাখাতে হবে।

আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব মো. আসাদুল ইসলাম বলেন, সোনালী ব্যাংক অনেক বড় ব্যাংক। আমিও এ ব্যাংকের গ্রাহক। উন্নত দেশগুলোতে সব গ্রাহককে ব্যাংকাররা সমান চোখে দেখে। আমাদেরকেও ছোটবড় সব গ্রাহককে সমান মূল্যায়ন করতে হবে। আমি আশা করি, সোনালী ব্যাংক কর্মকর্তারা ভালো সেবা দিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে। সোনালী ব্যাংক বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করে।

তিনি বলেন, সারাবিশ্বে ব্যাংকিং খাতে প্রযুক্তিগত উন্নয়ন হচ্ছে। আপনাদেরকেও সে পথে হাঠতে হবে। সোনালী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের কাছে আমাদের প্রত্যাশা অনেক বেশি। ব্যাংকের অভ্যন্তরে সুশাসন কার্যকর হোক। বর্তমানে সুশাসনের ঘাটতি নিয়ে অনেক কথা হচ্ছে। এটি হওয়াই স্বাভাবিক।

সোনালী ব্যাংকের চেয়ারম্যান মো. আশরাফুল মকবুল বলেন, ২০১৮ সালে পুরো ব্যাংকিং খাতে আমানতের সংকট থাকলেও সোনালী ব্যাংকে তা হয়নি। অনেকে হয়তো বলবেন, রাষ্ট্রের গ্যারান্টি থাকায় এটি হয়েছে। কিন্তু প্রকৃত বাস্তবতা তা নয়। কারণ রাষ্ট্র মালিকানাধিন অন্য ব্যাংকগুলোও সোনালী ব্যাংকের কাছ থেকে আমানত ধার নেয়ার জন্য শরণাপন্ন হচ্ছে। হলমার্ক কেলেঙ্কারি থেকে শিক্ষা নিয়ে সোনালী ব্যাংক সতর্কতার সঙ্গে পথ চলছে।

এফএ/এআরই