রাজনৈতিক বিবেচনায় ব্যাংক, বাড়বে বোঝা

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৫ এপ্রিল ২০১৯ | ১২ বৈশাখ ১৪২৬

রাজনৈতিক বিবেচনায় ব্যাংক, বাড়বে বোঝা

জাহিদ সুজন ১০:১৮ পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০১৯

রাজনৈতিক বিবেচনায় ব্যাংক, বাড়বে বোঝা

পাহাড়সম খেলাপি ঋণে এমনিতেই ব্যাংকিংখাতে ভঙ্গুরদশা। সোনালী ব্যাংকে হলমার্ক কেলেঙ্কারি, বেসিক ব্যাংক জালিয়াতি, অগ্রণী ব্যাংকে সানমুন স্টার গ্রুপের জালিয়াতি, জনতা ব্যাংকের ক্রিসেন্ট গ্রুপ জালিয়াতি, ৫ ব্যাংকে বিসমিল্লাহ গ্রুপের জাতিয়াতির ধাক্কা আজও কেটে উঠতে পারেনি।

চতুর্থ প্রজন্মের ব্যাংক বলে যেগুলোর অনুমোদন দেয়া হয়েছিল, তাদের ব্যবসায়িক অবস্থা ভাল না। আমানত সঙ্কটও প্রকট।

ইতোমধ্যে রাজনৈতিক বিবেচনায় পাওয়া সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহিউদ্দীন খান আলমগীরের মালিকানাধীন ফারমার্স ব্যাংক বিলীন হয়ে নতুন নামে পুনরুদ্ধারের চেষ্টা চলছে।

নানা পদক্ষেপের পরও খেলাপি ঋণ কমিয়ে আনতে পারছে না ব্যাংক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংক। এমন কঠিন সময়ে সংস্কারের পদক্ষেপ না নিয়ে উল্টো নতুন ব্যাংক অনুমোদনের কোনো যৌক্তিকতা দেখছেন না অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা।

তাদের ভাষ্যে, ছোট্ট বাংলাদেশে যে হারে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের তৎপরতা রয়েছে, তা যথেষ্ট। এখন নতুন কোনো উদ্ভাবনী আইডিয়া ছাড়া রাজনৈতিক বিবেচনায় গতানুগতিক ধারার ব্যাংক এসে পুরো ব্যাংকিং খাতকেই জটিল করে তুলতে পারে।

এ বিষয়ে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ‘দেশে এমনিতেই ব্যাংকের সংখ্যা অনেক বেশি। এরপর নতুন ব্যাংক অনুমোদনের কোনো যৌক্তিকথা আমি দেখি না।’

তিনি বলেন, ‘ব্যাংক খাতে দীর্ঘদিন ধরেই বিশৃঙ্খলা বিরাজ করছে। সেগুলোর সমাধান না করে নতুন ব্যাংক অনুমোদন ব্যাংকিং খাতে জটিলতা বাড়াবে।’

এ বিষয়ে বিশ্ব ব্যাংকের ঢাকা অফিসের প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ‘উদ্ভাবনী চিন্তা ছাড়া নতুন ব্যাংক কোনো কাজে আসবে না। যৌক্তিকতা ছাড়াই রাজনৈতিক বিবেচনায় আসা এসব ব্যাংক শেষ পর্যন্ত আলোর মুখ দেখবে কিনা আমার যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।’

রাজনৈতিক বিবেচনায় গত রোববার আরও তিনটি নতুন ব্যাংককে কার্যক্রম পরিচালনার চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবিরের সভাপতিত্বে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় এ অনুমোদন দেয়া হয়।

ব্যাংকগুলো হলো— বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংক, পিপলস ব্যাংক ও দ্য সিটিজেন ব্যাংক। এ নিয়ে বাংলাদেশে ব্যাংকের সংখ্যা ৬২তে উন্নীত হতে যাচ্ছে। যদিও কার্যক্রম আছে ৫৭টির। সর্বশেষ গত অক্টোবরে চূড়ান্ত অনুমোদন পায় পুলিশ সদস্যদের মালিকানায় ‘কমিউনিটি ব্যাংক অব বাংলাদেশ’। তবে, এটি এখনও তাদের কার্যক্রম শুরু করতে পারেনি।

নতুন অনুমোদন পাওয়া ব্যাংকগুলোর মালিকানায় রয়েছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা। এর মধ্যে বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংক লিমিটেডের জন্য আবেদন করেন বেঙ্গল গ্রুপের ভাইস-চেয়ারম্যান মো. জসিম উদ্দিন। শুরুতে ‘বাংলা ব্যাংক’ নামে অনুমোদনের আবেদন জমা দেয়া হলেও পরে তা পরিবর্তন করা হয়।

বেঙ্গল গ্রুপের চেয়ারম্যান হিসেবে আছেন নোয়াখালী-২ আসনের আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য মোরশেদ আলম। তিনি মার্কেন্টাইল ব্যাংকেরও পরিচালক। ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্স ও বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল আরটিভির চেয়ারম্যানের দায়িত্বে রয়েছেন মোরশেদ আলম।

পিপলস ব্যাংক লিমিটেডের জন্য আবেদন করেছেন যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী আওয়ামী লীগ নেতা এমএ কাশেম। চট্টগ্রামের সন্দ্বীপের এই ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।

আর দ্য সিটিজেন ব্যাংকের আবেদন করেছেন আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হকের পরিবার। তার মা জাহানারা হককে ব্যাংকটির চেয়ারম্যান হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে আবেদনে।

জেডএস/আইএম
আরও পড়ুন...
নতুন ৩ ব্যাংক অনুমোদন, কারা পেলেন