আমানতসহ ঋণের নতুন প্রডাক্ট চালু করবে রূপালী ব্যাংক

ঢাকা, সোমবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৮ | ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৫

আমানতসহ ঋণের নতুন প্রডাক্ট চালু করবে রূপালী ব্যাংক

পরিবর্তন প্রতিবেদক ১:১২ পূর্বাহ্ণ, জুন ২৭, ২০১৮

আমানতসহ ঋণের নতুন প্রডাক্ট চালু করবে রূপালী ব্যাংক

রূপালী ব্যাংকে নতুন করে ঋণ যেন খেলাপি না হয় সেই জন্য সর্বাত্মক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি বলে জানিয়েছেন কোম্পানির চেয়ারম্যান মনজুর হোসেন। একই সঙ্গে সামনে গ্রাহকদের চাহিদা মোতাবেক আমানতসহ ঋণের নতুন নতুন প্রডাক্ট চালু হবে।

মঙ্গলবার রাজধানীর কাকরাইলের আইডিইবি ভবেন রূপালী ব্যাংকের ৩২তম বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) সভায় এ কথা বলেন চেয়ারম্যান। এজিএমে শেয়ার হোল্ডারদের সম্মতিক্রমে কোম্পানির পূর্ব ঘোষিত এজেন্ডা অনুমোদন হয়েছে।

রূপালী ব্যাংকের এই এজিএমে শেয়ার হোল্ডারদের সম্মতিক্রমে ডিসেম্বর ২০১৭ সমাপ্ত বছরের জন্য পূর্ব ঘোষিত ২৪ শতাংশ স্টক ডিভিডেন্ড অনুমোদিত হয়েছে। এজিএমে শেয়ার হোল্ডারদের সম্মতিক্রমে ২০১৭ সমাপ্ত অর্থবছরের জন্য আরো পূর্ব ঘোষিত ৪টি আলোচ্য সূচি (এজেন্ডা) অনুমোদিত হয়। বাকি আলোচ্যসূচি হলো- ৩১তম এজিএমের কার্যবিবরণী যাচাই করণ ও অনুমোদন, ২০১৭ সমাপ্ত বছরের আর্থিক বিবরণী অনুমোদন, পরিচালক নির্বাচন, নিরীক্ষক নিয়োগসহ নিরীক্ষকের পারিশ্রমিক নির্ধারণ অনুমতি।

চেয়ারম্যান মনজুর হোসেন বলেন, স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে রূপালী ব্যাংকের পরিশোধিত মূলধন ১ কোটি টাকা, শাখা ১৫৯টি ও ২৪১৬ জন লোকবল নিয়ে যাত্রা শুরু করে। সেখান থেকে উন্নয়ন অগ্রযাত্রা তা বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে ব্যাংকের মূলধন ৩০৪ কোটি টাকা, আমানত ৩২ হাজার কোটি টাকা, ঋণ ও অগ্রীম প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকা, শাখা সংখ্যা ৫৬৫টি ও লোকবল ৫ হাজার ৭৫ জনে দাঁড়িয়েছে। আশা করছি, সবার ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় রুপালী ব্যাংক সামনে জনগণের আস্থার মাধ্যমে তার অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে।

তিনি আরো বলেন, ১৯৭২ সাল থেকে রূপালী ব্যাংকের হিসাব বিবরণী লক্ষ্য করলে দেখা যায় ২০১৭ সালে ব্যাংকটি সর্বোচ্চ মূনাফা অর্জন করেছে। এ বছর খেলাপি ঋণ আদায়কে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছি। আবার নতুন করে ঋণ যেন খেলাপি না হয় সেই জন্য সর্বাত্মক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। একই সঙ্গে লো কস্ট (low cost ) একং নো কস্ট (no cost) আমানত গ্রহণ এবং ভাল গ্রাহকদের ঋণ প্রদানের বিষয়কে সম্প্রসারণের লক্ষ্যে বিগত বছরের ন্যায় ২০১৭ সালেও ব্যাংকের নতুন শাখা খোলা হয়েছে। আগামীতেও আরো শাখা খোলা হবে।

রেমিট্যান্স প্রসঙ্গে চেয়ারম্যান বলেন, সহজ ও কম খরচে প্রবাসীরা যাতে কষ্টার্জিত বৈদেশিক মুদ্রা প্রিয়জনের কাছে প্রেরণ করতে পারে সে জন্য মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ, জাপানসহ পৃথিবীর বহু দেশের সাথে আমাদের বিদ্যমান রেমিট্যান্স চুক্তির সাথে সাথে আরো নতুন চুক্তি করা হচ্ছে। আবার গ্রাহকদের চাহিদা মোতাবেক রূপালী ব্যাংকে আমানত ও ঋণের নতুন নতুন প্রডাক্ট চালু হবে।

রূপালী ব্যাংকের শিওর ক্যাশ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ ক্যাশের মাধ্যমে এক কোটি মায়ের একাউন্ট খোলা হয়েছে। এই কোটি মায়ের একাউন্টের মাধ্যমে বর্তমানে এক কোটি ত্রিশ লাখ ছাত্র-ছাত্রী সরাসরি সেবা পাচ্ছে। এ ব্যাংকের ৫৬৫টি শাখাই অনলাইন ব্যাংকিং সেবার অধীনে আনা হয়েছে। ইতিমধ্যে ব্যাংকের নিজস্ব ব্রান্ডের এটিএম কার্ড চালু হয়েছে। বর্তমানে এটিএম বুথের সংখ্যা ৪টি, যা শিগগির আরো ৭টি চালু হবে। আমাদের গ্রাহকরা এসব এটিএম বুথ ব্যবহার করে এনপিএসবি ও কিউ-ক্যাশের মাধ্যমে দেশের যেকোন জায়গা থেকে অর্থ উত্তোলন করতে পারবে।

এজিএমে ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আতাউল রহমান পাঠান বলেন, ২০১৭ সালে শ্লোগান ছিল ঘুরে দাঁড়াবে রূপালী ব্যাংক। সেই হিসাবে আমরা গত বছরে ঘুরেও দাঁড়িয়েছি। তাই ২০১৮ সালের আমাদের অঙ্গীকার থাকবে, ব্যাংকের শ্রেণীকৃত ঋণ থেকে আদায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সম্পদের মান উন্নয়ন করে এ বছরেই শ্রেষ্ঠ ব্যাংক তালিকায় চলে আসব রূপালী।

মূলধন সঙ্কট রয়েছে এমন মন্তব্যে করে এমডি বলেন, রূপালী ব্যাংক ৬০০ কোটি টাকার বন্ড ইস্যুর প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নিয়েছে। আবার রাইট শেয়ার ইস্যুর অনুমোদন জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ে পত্র প্রেরণ করা হয়েছে। যা সম্পন্ন হলে আমাদের মূলধন সংকট থাকবে না।

সভায় আরো মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব কামরুল নাহার আহমেদ, কোম্পানির পরিচালক অরিজিৎ চৌধুরী, মিসেস ডিনা আহসান, আবু সুফিয়ান, মোহাম্মদ আব্দুল বাসেত খান, স্বতন্ত্র পরিচালক অধ্যাপক সুশীল রঞ্জন হাওলাদার, সচিব মোহাম্মদ নাজমূল হুদা প্রমুখ।

‘এ’ ক্যাটাগরির রূপালী ব্যাংক ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) ১৯৮৬ সালে তালিকাভুক্ত হয়। ব্যাংকটির অনুমোদিত মূলধন সাত হাজার কোটি টাকা এবং পরিশোধিত মূলধন ৩০৩ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। শেয়ার দর রয়েছে (২৬ ‍জুন) ৩৯.৬০ টাকায়। কোম্পানির রিজার্ভ রয়েছে ৫৯৯ কোটি ৬১ লাখ টাকা। কোম্পানিটির মোট শেয়াররের মধ্যে ৯০.১৯ শতাংশ শেয়ার ধারণ করছেন সরকার। বাকি শেয়ার ধারণ করছেন প্রাতিষ্ঠানিক ও সাধারণ বিনিয়োগকারী।

জেডএস/এএস