তিস্তার জট খুলবে কি?

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৯ | ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

তিস্তার জট খুলবে কি?

পরিবর্তন প্রতিবেদক ১১:১৭ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ১১, ২০১৬

তিস্তার জট খুলবে কি?
পশ্চিমবাংলার বিধানসভার নির্বাচন শুরু হলো আজ। সম্প্রতি জরিপে বলা হচ্ছে, মমতা ব্যানার্জির নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় থেকে যাচ্ছে। ২০১১ সালে দীর্ঘ ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় এসেছিল এবং মমতা ব্যানার্জি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন। 

পশ্চিমবাংলার বিধানসভার নির্বাচন শুরু হলো আজ। সম্প্রতি জরিপে বলা হচ্ছে, মমতা ব্যানার্জির নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় থেকে যাচ্ছে। ২০১১ সালে দীর্ঘ ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় এসেছিল এবং মমতা ব্যানার্জি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন।

এখন যে প্রসঙ্গটি বড় হয়ে দেখা দিয়েছে, তা হচ্ছে, মমতা ব্যানার্জি পুনরায় ক্ষমতায় এলেও তিস্তার পানিবণ্টনের সমস্যার কি সমাধান হবে?তিস্তার পানিবণ্টনের বিষয়টি আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেকেই স্মরণ করতে পারেন শুধুমাত্র মমতা ব্যানার্জির আপত্তির কারণে তিস্তার পানিচুক্তি হয়নি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঢাকা সফরের সময় ওই চুক্তিটি সাক্ষরিত হবার কথা ছিল। কিন্তু হয়নি শুধুমাত্র মমতা ব্যানার্জির কারণে। তখন অনেক ভারতীয় বিশ্লেষক বলেছিলেন, বিধানসভার নির্বাচন থাকায় মমতা তখন কোনো চুক্তিতে সম্মত হননি।

কেননা এটা পশ্চিমবঙ্গে একটি রাজনৈতিক ইস্যু। তিস্তার পানিবণ্টনকে ইস্যু করে তিনি উত্তরবঙ্গে তার জনপ্রিয়তা বাড়াতে চেয়েছিলেন। তখন যদি চুক্তি হত এবং তাতে বাংলাদেশের শতকরা ৫০ ভাগের ওপর পানিপ্রাপ্তি নিশ্চিত হত, তাতে তার ভোট কাটত। তিনি জনপ্রিয়তা হারাতেন। এখন এই এপ্রিলে পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভার নির্বাচন শেষ হবে, তাই ঝুঁকি তিনি নেননি ভোটের স্বার্থে। একটি ‘সমঝোতায়’ আসতে তিনি এখন রাজি হতে পারেন। তবে তা পশ্চিমবঙ্গের স্বার্থকে বিসর্জন দিয়ে নয়। ঢাকায় এসে তিনি সেই পুরনো কথাই বলেছিলেন—তার উপর আস্থা রাখতে।

তিস্তার পানিবণ্টনের বিষয়টি আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেকেই স্মরণ করতে পারেন শুধুমাত্র মমতা ব্যানার্জির আপত্তির কারণে তিস্তার পানিচুক্তি হয়নি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঢাকা সফরের সময় ওই চুক্তিটি সাক্ষরিত হবার কথা ছিল। কিন্তু হয়নি শুধুমাত্র মমতা ব্যানার্জির কারণে। তখন অনেক ভারতীয় বিশ্লেষক বলেছিলেন, বিধানসভার নির্বাচন থাকায় মমতা তখন কোনো চুক্তিতে সম্মত হননি। কেননা এটা পশ্চিমবঙ্গে একটি রাজনৈতিক ইস্যু। তিস্তার পানিবণ্টনকে ইস্যু করে তিনি উত্তরবঙ্গে তার জনপ্রিয়তা বাড়াতে চেয়েছিলেন। তখন যদি চুক্তি হত এবং তাতে বাংলাদেশের শতকরা ৫০ ভাগের ওপর পানিপ্রাপ্তি নিশ্চিত হত, তাতে তার ভোট কাটত। তিনি জনপ্রিয়তা হারাতেন। এখন এই এপ্রিলে পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভার নির্বাচন শেষ হবে, তাই ঝুঁকি তিনি নেননি ভোটের স্বার্থে। একটি ‘সমঝোতায়’ আসতে তিনি এখন রাজি হতে পারেন। তবে তা পশ্চিমবঙ্গের স্বার্থকে বিসর্জন দিয়ে নয়। ঢাকায় এসে তিনি সেই পুরনো কথাই বলেছিলেন—তার উপর আস্থা রাখতে।

দ্বিতীয়ত, তিস্তার পানিবণ্টনের ব্যাপারে একবার তিনি একটি ফর্মুলা দিয়েছিলেন—শতকরা ৭৫ ভাগ পানি পশ্চিমবঙ্গের জন্য রেখে বাকি পানি বাংলাদেশকে দেয়া। এই ফর্মুলায় বাংলাদেশ রাজি হয়নি তখন। কেননা এতে আমাদের স্বার্থ রক্ষিত হয়নি।

তৃতীয়ত, মমতা ব্যানার্জি পশ্চিমবঙ্গের পানি-বিশ্লেষক কল্যাণ রুদ্রকে আহবায়ক করে একটি কমিশন গঠন করেছিলেন। তাদের দায়িত্ব ছিল তিস্তার পানিবণ্টনের ব্যাপারে একটা সুপারিশ করা। রুদ্রকমিশন তার সুপারিশে উল্লেখ করেছিলেন (যার আংশিক রিপোর্ট পশ্চিমবঙ্গের সংবাদপত্রে প্রকাশিত হয়েছিল), পশ্চিমবঙ্গের চাহিদা মিটিয়েও বাংলাদেশে তিস্তার ৫০ ভাগ পানি দেয়া সম্ভব। তিনি এও মত দিয়েছিলেন যে, ‘ম্যানেজমেন্ট প্রযুক্তি’ ব্যবহার করে তিস্তার পানি মজুদ করা। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক প্রণব কুমারও তার সাথে একমত হয়েছিলেন। কিন্তু যতদূর জানা যায়, মমতা ব্যানার্জি রুদ্রকমিশনের মতামতের ব্যাপারে সন্তুষ্ট ছিলেন না। যে কারণে রুদ্রকমিশনের রিপোর্টটি তিনি প্রকাশ করেননি। আজ তিনি সেই রুদ্রকমিশনের ফর্মুলায় পানি ভাগাভাগিতে রাজি হবেন, এটা মনে হয় না।

চতুর্থত, তাহলে তিনি কী নরেন্দ্র মোদির প্রস্তাবে রাজি হয়ে এখন নির্বাচনের পর একটি চুক্তিতে রাজি হবেন? অতীতে মনমোহন সিংয়ের সাথে তার ঢাকায় আসা চূড়ান্ত হলেও শেষ মুহূর্তে তিনি বেঁকে বসেছিলেন। পরে এসেছিলেন মোদির সঙ্গে। কিন্তু কোনো চুক্তিতে সম্মত হননি। নির্বাচনের পর তিনি কী সিদ্ধান্ত নেন, তা দেখার বিষয়।

এখানে অনেকগুলো সম্ভাবনা আছে। একটি ‘প্যাকেজ ডিল’র আওতায় তিনি স্থলসীমান্ত চুক্তি সমর্থন করেছিলেন। রাজ্যসভায় তৃণমূল সমর্থন না করলে বিলটি পাস হত না। কেন্দ্র থেকে তার আর্থিক সাহায্য ও সহযোগিতা দরকার। নরেন্দ্র মোদি এই আর্থিক সহযোগিতার বিষয়টিকে তার স্বার্থে ব্যবহার করেছেন। মমতা ঢাকায় আসার ব্যাপারেও সেই মানসিকতা কাজ করেছিল। নরেন্দ্র মোদির ঢাকা সফরের অগ্রাধিকার তালিকায় ছিল কানেকটিভিটির প্রশ্নটি। তিনি ভারতের এক অঞ্চলকে অন্য অঞ্চলের সাথে সংযুক্ত করতে চেয়েছেন বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে।

আসাম, মেঘালয় ও পশ্চিমবঙ্গ এই তিনটি রাজ্য এই প্রক্রিয়ায় জড়িত। মোদি এজন্যই চেয়েছিলেন এই তিন রাজ্যের তিন মুখ্যমন্ত্রী ঢাকায় যাবেন। তাই মমতা এসেছিলেন। তিস্তা এখানে প্রধান বিষয় ছিল না। অনেক পরিকল্পনা মমতা বাস্তবায়ন করতে পারবেন না যদি না কেন্দ্র তাকে আর্থিকভাবে সাহায্য করে। তখন সামনে নির্বাচন ছিল। মমতা তাই ঝুঁকিটি নিতে চাননি।

পঞ্চমত, কেন্দ্রের গোয়েন্দা সংস্থা সিবিআিই’র একটি চাপ ছিল মমতার উপর। সারদা কেলেঙ্কারি, তৃণমূল কংগ্রেসের ব্যাংক অ্যাকাউন্টের উপর সিবিআই তার নজরদারী বাড়িয়েছে। ফলে এই ‘চাপ’কে অনেকটা নিউট্রাল করতে তিনি মোদির সাথে ঢাকায় আসতে রাজি হয়েছিলেন। কোনো চুক্তি করতে নয়।

ষষ্ঠ. মমতা ব্যানার্জি পুনরায় বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ (জাতীয় গণতান্ত্রিক মোর্চা) জোটে যোগ দিতে পারেন। একসময় তিনি এই জোটে ছিলেন। কেন্দ্রের রেলমন্ত্রী ছিলেন। আবার বেরিয়েও এসেছিলেন।এখন যদি পশ্চিমবঙ্গে তার বিজয় নিশ্চিত হয়ও সব কেলেঙ্কারি থেকে ‘মুক্ত’ হতে তিনি যদি আবারো এনডিএ জোটে ফিরে যান, তাতে অবাক হওয়ার কিছু নেই।

সপ্তম. যতদূর জানা যায়, তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের সাথে ঢাকায় আসেননি একটাই কারণে; আর তা হচ্ছে, ক্ষমতাকে উপেক্ষা করে কেন্দ্র এককভাবে বাংলাদেশের সাথে তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি করতে চাচ্ছিল, যা মমতার মনোপুত হয়নি। ভারতের সংবিধানে রাজ্য সরকারের কিছুটা অধিকার স্বীকৃত। রাজ্য সরকারকে উপেক্ষা করে কেন্দ্র এককভাবে কোনো চুক্তি করতে পারে না।

ঢাকা সফরের আগে মোদি তাকে কথা দিয়েছিলেন তিনি ঢাকায় তিস্তার ব্যাপারে কোনো চুক্তি করবেন না এবং তিস্তার ব্যাপারে ঢাকার সাথে কোনো কথা হবে না। যদি কথা বলতেই হয়, এ ব্যাপারে মমতাই কথা বলবেন। মমতা কথা বলেছিলেন। কূটনৈতিক বিষয়ে বলেছিলেন তার উপর আস্থা রাখতে। বাংলাদেশের মানুষ আস্থা রেখেছিল। এখন নির্বাচন শেষ হবে। এবং সবকিছু ঠিক থাকলে তিনি আগামী পাঁচ বছরের জন্য জনগণের ম্যান্ডেট পাবেন।

বিহারে নীতিশ কুমারের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে (বিহারের রাজধানী পাটনায়) তিনি যোগ দিয়ে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন একটা মহাজোট গঠনের সম্ভাবনা জাগিয়ে তুলেছিলেন। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে জাতীয় কংগ্রেসের সাথে তার কোনো সহাবস্থান হল না। জাতীয় কংগ্রেস ঐক্য করল বামফ্রন্টের সাথে। তার জাতীয় কংগ্রেসের সঙ্গে ঐক্য না করা কেন্দ্রে মোদি সরকারকে খুশি করে থাকবে। ফলে মমতা যদি না চান, তাহলে তিস্তার পানি ভাগাভাগির ব্যাপারে মোদি সরকার তাকে চাপ দেবে না।

আমাদের জন্য তিস্তার পানিবণ্টনের বিষয়টি অত্যন্ত জরুরী। আন্তর্জাতিক আইন আমাদের পক্ষে। ভাটির দেশ হিসেবে আমাদের অধিকার স্বীকৃত। ভারত (এক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গ) পানি একতরফাভাবে প্রত্যাহার করে নিতে পারে না। পশ্চিমবঙ্গ তাই করছে। ফলে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চল পানিশূন্য হচ্ছে।

উল্লেখ্য, তিস্তা একটি আন্তর্জাতিক নদী। সিকিম হয়ে ভারতের দার্জিলিং ও জলপাইগুড়ি হয়ে পশ্চিমবঙ্গের ডুয়ারের সমভূমি দিয়ে লাহাটি থেকে চার-পাঁচ কিলোমিটার পূর্বে বাংলাদেশের নীলফামারী জেলার উত্তর খড়িবাড়ির কাছে ডিমলা উপজেলার ছাতনাই দিয়ে প্রবেশ করেছে এই নদী। ছাতনাই থেকে এ নদী নীলফামারীর ডিমলা, জলঢাকা, লালমনিরহাটের সদর, পাটগ্রাম, হাতিবান্ধা, কালীগঞ্জ, রংপুরের কাউনিয়া, পীরগাছা কুড়িগ্রামের রাজারহাট, উলিপুর হয়ে চিলমারীতে গিয়ে ব্রহ্মপুত্র নদে মিশেছে।

ডিমলা থেকে চিলমারী এ নদীর বাংলাদেশে অংশের মোট ক্যাচমেট এরিয়া প্রায় ১ হাজার ৭১৯ বর্গকিলোমিটার। ১৯৭২ সালে বাংলাদেশ-ভারত যৌথ নদী কমিশন গঠনের পর তিস্তার পানিবণ্টন নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। ১৯৮৩ সালের জুলাই মাসে দুই দেশের মন্ত্রীপর্ষদের এক বৈঠকে তিস্তার পানিবণ্টনে শতকরা ৩৬ ভাগ বাংলাদেশ ও ৩৯ ভাগ ভারত এবং ২৫ ভাগ নদীর জন্য সংরক্ষিত রাখার বিষয়ে একটি সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছিল। কিন্তু ওই সিদ্ধান্তে তিস্তার পানিপ্রবাহের পরিমাণ বা কোন জায়গায় পানি ভাগাভাগি হবে এ রকম কোনো বিষয় উল্লেখ না থাকায় তা আর আলোর মুখ দেখেনি।

২০০৭ সালের সেপ্টেম্বরে তিস্তার পানির ৮০ ভাগ দু’দেশের মধ্যে বণ্টন করে বাকি ২০ ভাগ নদীর জন্যে রেখে দেয়ার প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল। কিন্তু ভারত সেই প্রস্তাবে রাজি না হয়ে উল্টো তিস্তার কমান্ড এরিয়া তাদের বেশি, এই দাবি তুলে বাংলাদেশ তিস্তার পানির সমান ভাগ পেতে পারে না বলে প্রম্তাবনা উপস্থাপন করেছিল। এরপর আর তিস্তার পানিবণ্টনের জট খোলেনি। এখানে বলা ভালো, বাংলাদেশ উত্তরাঞ্চলের নীলফামারী, রংপুর, দিনাজপুর, গাইবান্ধা, জয়পুরহাট ও বগুড়া জেলার ৩৫টি উপজেলায় তিস্তা সেচপ্রকল্প হতে বর্ষা মৌসুমে সম্পূরক ও শুষ্ক মৌসুমে সেচ দেয়ার উদ্দেশ্যে ১৯৭৯ সালের আগস্টে দেশের বৃহত্তম সেচপ্রকল্প তিস্তা ব্যারাজের প্রথম ফেজ কাজের উদ্বোধন করে।

এরপর ভারত ১৯৮৫ সালে তিস্তার উৎসমুখে এবং তিস্তা ব্যারাজ সেচপ্রকল্পের মাত্র ৬৫ কিলোমিটার উজানে গজলডোবা নামক স্থানে গজলডোবা ব্যারাজ নির্মাণ করে। এর ফলে তিস্তা ব্যারাজ সেচপ্রকল্পটি সেচ প্রদানে অকার্যকর হয়ে পড়ে। এই সেচপ্রকল্পের উপকৃত এলাকা ৭ লাখ ৫০ হাজার হেক্টর। এদিকে কিশোরগঞ্জ উপজেলার (নীলফামারী জেলার অন্তর্গত) বাহাগিলি নামক স্থানে তিস্তা প্রকল্পের দ্বিতীয় প্রকল্পের কাজও হাতে নেয়া হয়েছে। এ কাজ বাস্তবায়ন হলে রংপুর, গাইবান্ধা, বগুড়া ও জয়পুরহাট জেলার ৪ লাখ ৪৮ হাজার হেক্টর জমি সেচের আওতায় আসবে।

কিন্তু পানির অভাবে তিস্তা এখন শুধু নামে আছে। পানি নেই বললেই চলে। ভরাট হয়ে গেছে ৬৫ কিলোমিটার নদী। তিস্তা আন্তর্জাতিক নদী হওয়ায় জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক পানিপ্রবাহ কনভেনশন ১৯৯৭ অনুযায়ী বাংলাদেশের পানি প্রাপ্তি সেখানে স্বীকৃত।এখানে ভারতের কাছে চাওয়ার কিছু নেই। মমতা ব্যানার্জির আপত্তিও গ্রহণযোগ্য নয়। তিস্তা চুক্তিটি হওয়াটা বাঞ্ছনীয়। তিস্তা চুক্তি না হলে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ককে আরো উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া যাবে না। নরেন্দ্র মোদি নিশ্চয় এটা বোঝেন। মমতা ব্যানার্জিকে বোঝানোর দায়িত্ব তার। এখানে বাংলাদেশের করণীয় কিছু নেই। একটা কথা বিবেচনায় নিতে হবে। এপ্রিল মাসে বিধানসভা নির্বাচনের পর (পশ্চিমবঙ্গ) একটি সমঝোতা যদি হয়, তাতে যেন বাংলাদেশের স্বার্থ অক্ষুণ্ণ থাকে। আমরা যেন মমতা ব্যানার্জির চাপের কাছে আত্মসমর্পণ না করি।

পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভার নির্বাচনের পর পরই আমাদের উচিত হবে দ্বিমাসিক আলোচনায় তিস্তার পানিবণ্টনের প্রসঙ্গটি উপস্থাপন করা। আমাদের দাবি ভারত সরকারের কাছে, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কাছে নয়। আমরা শুধু স্মরণ করিয়ে দেবো, মমতা ব্যানার্জি আমাদের আশ্বস্ত করেছিলেন। আস্থা রাখতে বলেছিলেন। সামনে শুষ্ক মৌসুম আসছে। সুতরাং তিস্তার পানিবণ্টনের প্রশ্নে এখনই আলোচনা শুরু করা জরুরী।  

 . তারেক শামসুর রেহমান : আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক ও অধ্যাপক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।
[email protected]

 

 

মতান্তর: আরও পড়ুন

আরও