অস্ট্রেলিয়ার অতি-ডানপন্থী দলের সঙ্গে মার্কিন অস্ত্র সংস্থার আঁতাত

ঢাকা, বুধবার, ২২ মে ২০১৯ | ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬

অস্ট্রেলিয়ার অতি-ডানপন্থী দলের সঙ্গে মার্কিন অস্ত্র সংস্থার আঁতাত

পরিবর্তন ডেস্ক ১২:০৭ অপরাহ্ণ, মার্চ ২৭, ২০১৯

অস্ট্রেলিয়ার অতি-ডানপন্থী দলের সঙ্গে মার্কিন অস্ত্র সংস্থার আঁতাত

অস্ট্রেলিয়ার অতি ডানপন্থী দল ওয়ান নেশনের নেতা পলিন হ্যানসন, দেশটিতে মুসলিম অভিবাসন বন্ধ ও বন্দুক আইন শিথিল করার সমর্থক দলটি।

অস্ট্রেলিয়ার অতি-ডানপন্থী দল ওয়ান নেশনের নেতাদের সঙ্গে গোপন যোগাযোগ রয়েছে মার্কিন অস্ত্র সংস্থা ন্যাশনাল রাইফেল অ্যাসোসিয়েশনের (এনআরএ)। এনআরএ দলটির সিনিয়র নেতাদের অস্ট্রেলিয়ার কঠোর বন্দুক আইনের সমালোচনা এবং জনগণের দৃষ্টি ঘুরিয়ে দেওয়ার  পরামর্শ দিয়েছে। আলজাজিরার এক সাংবাদিক তিন বছর অনুসন্ধান  চালিয়ে এ সংক্রান্ত একটি গোপন ভিডিও সংগ্রহ করেছেন।

অস্ট্রেলিয়ার অভিবাসনবিরোধী দল ওয়ান নেশনের নেতাদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ায় এআরএ’র প্রধান কার্যালয়ে ওই পরামর্শ দেওয়া হয়। অস্ট্রেলিয়ায় রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য বিদেশি সহায়তা নেওয়া বন্ধের আইন হওয়ার আগেও দলটি দুই কোটি ডলার রাজনৈতিক সাহায্য চেয়েছিল।

গোপন ওই ভিডিওর বরাত দিয়ে ফিন্যান্সিয়াল টাইমস বলছে, ওই রাজনৈতিক দলটির প্রধান জেমস অ্যাশবি এবং দলটির কুইন্সল্যান্ড শাখার প্রধান স্টিভ ডিকসনকে পরামর্শ দিতে দেখা গেছে এনআরএ কর্মকর্তাদের। বড় ধরনের গোলাগুলির ঘটনায় কী ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখাতে হয় তা শেখানো হয় ওই বৈঠকে।

অস্ট্রেলিয়ার অন্যান্য রাজনৈতিক নেতার সঙ্গে পলিন হ্যানসন (বাম থেকে দ্বিতীয়)

মার্কিন অস্ত্র সংস্থাটির লিয়াজোঁ অফিসার ক্যাথেরিন মর্টেনসেন ওয়ান নেশনের নেতাদের বলেন, বড় ধরনের নৃশংসতার পর মিডিয়া যখন অনুসন্ধান করে তখন পরিস্থিতি মোকাবিলার সহজ উপায় হচ্ছে অস্বীকার করা। কিন্তু তারপরও যদি জোরাজোরি করা হয় তাহলে আক্রমণাত্মক ভঙ্গি দেখাতে হবে। কৌশলের অংশ হিসেবে জনগণের দৃষ্টি সরিয়ে দিতে অস্ত্র আইন সমর্থকদের সমালোচনা শুরু করতে হবে।

সংস্থাটির জনসংযোগ বিভাগেরে সদস্য লার্স ডালসাইড বলেন, ‘পুরো বিষয়টার সমালোচনা করুন। তাদের উদ্দেশ করে বলুন, আপনাদের নীতি যদি নিজেদের অবস্থানেই দাঁড়াতে না পারে, অন্যের মৃত্যুর পাটাতনে দাঁড়িয়ে দাবি তোলার সাহস করেন কীভাবে? কীভাবে শিশুদের কবরের ওপর দাঁড়িয়ে নিজেদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিল করতে চান।’

এ সময় ডিকসন বলেন, ‘বিষয়টা আমার পছন্দ হয়েছে।’ ওয়ান নেশন অস্ট্রেলিয়ার বন্দুক আইনের ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখতে পারবে যদি পার্লামেন্টে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে পারে।

গান লবি থেকে পাওয়া রাজনৈতিক অনুদানের সবচেয়ে বেশি সুবিধাভোগী অস্ট্রেলিয়ার ফেডারেল এমপি বব কাটার

এআরএ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে ডিকসন বলেন, ‘আমাদের ক্ষমতা ভারসাম্য আনতে হবে। সহজ বিষয় হলো- সকল ক্ষেত্রে সরকারের ক্ষমতার মূল বিষয় আমাদের হাতে থাকতে হবে।’

সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, মঙ্গলবার আলজাজিরার ডকুমেন্টারিটি প্রচারের পর অস্ট্রেলিয়ার রাজনৈতিক আকাশে যেন বজ্রপাত হয়েছে। ইতোমধ্যে নিউজিল্যান্ডে দুটি মসজিদে হামলায় ৫০ জন মুসল্লি নিহতের ঘটনায় অতি ডানপন্থী দলটির ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। কারণ গত ১৫ মার্চ ক্রাইস্টচার্চে ওই দুটি মসজিদে হামলা চালায় অস্ট্রেলীয় বংশোদ্ভূত উগ্রবাদী অতি ডানপন্থী সন্ত্রাসী ব্রেনটন টারান্ট। স্বয়ংক্রিয় মেশিনগান নিয়ে নামাজরত মুসল্লিদের ওপর সে হামলা চালায় এবং নৃশংস সেই ঘটনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লাইভ প্রচার করে।

এদিকে, অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন টুইট বার্তায় বলেছেন, দেশটির ওয়ান নেশন পার্টি নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার করতে মার্কিন গান লবির কাছ থেকে অনুদান পাওয়ার চেষ্টা করেছে এবং দেশের বন্দুক আইনকে অবজ্ঞা করছে যা ‘গভীর উদ্বেগের’।

তবে মার্কিন অস্ত্র সংস্থা এআরএ তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে মন্তব্য করেনি।      

বিশ্লেষকরা বলছেন, ওয়ান নেশনের নেতাদের সঙ্গে দেখা করে পরামর্শ দেওয়া সংক্রান্ত এনআরএ ও মার্কিন অন্যান্য গ্রুপের আগ্রহ এটা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, অতি ডানপন্থী রাজনৈতিক বলয়ে তাদের কতটা প্রভাব রয়েছে।

২০১৮ সালের এক শ্যুটিং ইভেন্টে অস্ট্রেলিয়ার পার্লামেন্টের কয়েকজন এমপি

অস্ট্রেলিয়ার গ্রিফিতি ইউনিভার্সিটির পপুলিজম বিষয়ক বিশেষজ্ঞ ডানকান ম্যাকডোনেল বলছেন, ‘এর মাধ্যমে এটা প্রমাণ হয় যে, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও সমাজগুলোতে প্রভাব বিস্তারের জন্য এআরএ’র মতো মার্কিন গ্রুপগুলো বিশ্বের অতি ডানপন্থী বা সমমনা সংস্থা বা সংগঠনগুলোকে অর্থায়ন করতে কতটা আগ্রহী।’

ফিন্যান্সিয়াল টাইমস বলছে, এই খবর এমন সময় বের হলো যার কয়েক মাস আগে স্টিভ ব্যানন (মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাবেক প্রধান স্ট্র্যাটেজিস্ট) অতি ডানপন্থী গ্রুপগুলোকে সহায়তা দেওয়ার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে ইউরোপ সফর করেন।

প্রসঙ্গত, অস্ট্রেলিয়ার অতি ডানপন্থী রাজনৈতিক দল ওয়ান নেশনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন পলিন হ্যানসন। দলটি অস্ট্রেলিয়ায় মুসলিম অভিবাসন বন্ধ এবং দেশটির কঠোর বন্দুক আইন সহজ করার পক্ষে। এ জন্য দলটিও প্রচারণাও চালাচ্ছে। অবশ্য কয়েক মাস আগে দলটি বিদেশি অনুদান বন্ধের আইনে সমর্থন দিয়েছে।

তবে মঙ্গলবার ওয়ান নেশন বলেছে, অস্ট্রেলিয়ার আসন্ন নির্বাচনে হস্তক্ষেপের অংশ হিসেবে এটি বিদেশি চক্রান্ত।

আরপি