জানাজা কোথায় হবে জানে না নিহতদের পরিবারগুলো

ঢাকা, ২০ মার্চ, ২০১৯ | 2 0 1

জানাজা কোথায় হবে জানে না নিহতদের পরিবারগুলো

পরিবর্তন ডেস্ক ৩:১৪ অপরাহ্ণ, মার্চ ১৮, ২০১৯

জানাজা কোথায় হবে জানে না নিহতদের পরিবারগুলো

শুক্রবার নিউজিল্যান্ডের মসজিদে সন্ত্রাসী হামলায় নিহতদের অনেকের মৃতদেহই এখনও ফিরিয়ে দেয়া হয়নি। বিভিন্ন কারনে মৃতদেহ শনাক্ত করে সেগুলো পরিবারের সদস্যদের কাছে ফিরিয়ে আরও এক-দুই দিন লাগতে পারে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

ইসলামি রীতি অনুযায়ী মৃতদেহ দ্রুততম সময়ের মধ্যে দাফন করতে না পারায় নিহতদের পরিবারের সদস্যরা আরও বেশি মুষড়ে পড়ছেন বলে জানায় মার্কিন পত্রিকা ওয়াশিংটন পোস্ট।

নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আরডার্ন রোববার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, ওইদিন রাতেই কয়েকটি মৃতদেহ পরিবারের কাছে ফেরত দেয়া হবে এবং তিনি আশা করছেন সবগুলো মৃতদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে বুধবারের মধ্যে।

‘আমাদের শুধু মৃতদেহ গুলো ফিরিয়ে দাও,’ রোববার টিভির পর্দায় চিৎকার করতে শোনা যায় স্থানীয় এক ইন্দোনেশীয় জনগোষ্ঠীর নারীকে। তারা জড়ো হয়েছিলেন লিলিক আবদুল হামিদের পরিবারের সদস্যদের সান্তনা দিতে। তিনি এয়ার নিউজিল্যান্ডের একজন ইঞ্জিনিয়ার ছিলেন।

হামলায় হতাহত শনাক্ত করতে কাজ করছে ৯০ জন কর্মকর্তা, যাদের মধ্যে ২০ জন বিদেশি। কিন্তু কাপড়চোপড় শনাক্ত করা, মেডিকেল রেকর্ড রাখা এবং আঙ্গুলের ছাপ নিতে অনেক দেরি হচ্ছে।

ডেপুটি পুলিশ কমিশনার ওয়ালি হাউমাহা বলেন, তিনি বুঝতে পারছেন মৃতদেহ ধর্মীয় রীতিতে দ্রুত দাফন করতে না পারায় নিহতদের পরিবারের সদস্যদের মানসিক বেদনা আরও বাড়ছে।

‘আমাদের একমাত্র লক্ষ্য হচ্ছে আমাদের প্রিয়জনদের ফিরে পাওয়া এবং আমাদের রীতি অনুযায়ী তাদের গোসল দেয়া ও কাফন পরানো,’ রোববার বলেন তিনি।

ক্রাইস্টচার্চের মেমোরিয়াল পার্ক সেমিটারি বা গোরস্থানে কবর খুঁড়তে ব্যবহার করা হচ্ছে ভারি মেশিন। হামলার শিকার দ্বিতীয় মসজিদটির কাছেই ওই গোরস্থান। ইসলামি রীতিতে মৃতদেহ গোসল দেয়ার জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে স্থানীয় একটি অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার জায়গা।

কিন্তু নিহতদের পরিবারের সদস্যরা জানেন না জানাজা কোথায় হবে। সন্ত্রাসী হামলার পর ক্রাইস্টচার্চের মসজিদ দু’টি এখনও বন্ধ।
আল নূর মসজিদের সামনে রোববারও বহু মানুষ ফুল আর নোট রেখে গেছে। এর অনেকগুলোকে লেখা ছিল ‘কিয়া কাহা’ মাওরি ভাষায় যার অর্থ ‘শক্ত থাকুন’।

হতাহতদের পরিবারের সদস্যদের সান্তনা দিতে দেখা যায় অনেককেই। অনেকে তাদের জন্য নিয়ে যান বাড়িতে বানানো বিস্কুট।

স্থানীয় মুসলিমরা এখন ছুটে বেড়াচ্ছেন একটি কমিউনিটি কলেজে স্থাপিত ফামিলি সেন্টার আর হাসপাতালে। মসজিদের সামনের পার্কের ওপারেই অবস্থিত এই দু’টি জায়গা।

পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত পুরুষদেরকে তাদের ঐতিহ্যবাহী সালোয়ার কামিজের ওপর সম্পূর্ণ কালো জার্সি পরে থাকতে দেখা যায়। বাংলাদেশি, সিরীয়, ফিলিস্তিনি ও ভারতীয় বংশোদ্ভূত নিউজিল্যান্ডের নাগরিকরা একে অপরকে দুঃখ ভারাক্রান্ত কণ্ঠে সম্বোধন করেন। হাসপাতালের কংক্রিটের প্রবেশদ্বারে প্রতিধ্বনিত হতে শোনা যায় আরবিতে ভাষার সম্ভাষণ।

ইব্রাহিম আলি নামের সোমালি জনগোষ্ঠীর এক নেতা অপিরিচিত কয়েকজনকে জিজ্ঞেস করেন, ‘তোমরা কোথা থেকে আসছ?’ টুপি পরিহিত অপরজন উত্তর দেন অকল্যান্ড। ‘না, তার আগে কোথা থেকে এসছিলে,’ জিজ্ঞেস করেন আলি। উত্তর আসে, ফিজি থেকে নিউজিল্যান্ডে গিয়েছিল তার পরিবার।

কিন্তু, এই মুহূর্তে এটা পরিষ্কার যে তারা সবাই নিউজিল্যান্ডবাসী।

‘এই ঘটনায় নিউজিল্যান্ড সম্পর্কে আমার অনুভূতি পাল্টাবে না,’ বলেন সাইদ আব্দুকাদির। তার ৭০ বছর বয়সী বাবা এই সন্ত্রাসী হামলায় নিহত হয়েছেন। অভিযুক্ত সন্ত্রাসী ব্রেনটন টারান্ট অস্ট্রেলীয়ার নাগরিক। শান্তিপূর্ণ দেশ হিসেবে খ্যাত নিউজিল্যান্ডে তাণ্ডব সৃষ্টি করতে তিনি ওই দেশ বেছে নেন।

ওইদিন মসজিদে যেতে দেরি হয়ে গিয়েছিল আব্দুকাদিরের, হামলাকারী যখন হত্যাকাণ্ড শেষে বেরোচ্ছিল, তখন আব্দুকাদির সেখানে উপস্থিত হন।

‘সন্ত্রাসী এটাই চায়। ও চায় আমরা যেন কোথাও নিরাপদ বোধ না করি। কিন্তু আমি জানি নিউজিল্যান্ড কেমন,’ হ্যাগ্লি পার্কের ভিতর দিয়ে মসজিদের দিকে যেতে যেতে বলেন তিনি।

এমআর/এএসটি

 

অস্ট্রেলিয়া: আরও পড়ুন

আরও