মসজিদে হামলার সর্বকনিষ্ঠ শিকার মুকাদ মনে করেছিল ভিডিও গেম চলছে

ঢাকা, ২০ মার্চ, ২০১৯ | 2 0 1

মসজিদে হামলার সর্বকনিষ্ঠ শিকার মুকাদ মনে করেছিল ভিডিও গেম চলছে

পরিবর্তন ডেস্ক ২:১৯ অপরাহ্ণ, মার্চ ১৮, ২০১৯

মসজিদে হামলার সর্বকনিষ্ঠ শিকার মুকাদ মনে করেছিল ভিডিও গেম চলছে

নিউজিল্যান্ডের আল নূর মসজিদ থেকে যখন মুকাদ ইব্রাহিমকে বের করা হয় তখনও তার পায়ে ছিল ছোট ছোট সাদা মোজা, যেগুলো পরলে বাচ্চারা হোঁচট খায় না।

শুক্রবার নিউজিল্যান্ডের মসজিদে সন্ত্রাসী হামলায় নিহতদের মধ্যে সবচেয়ে কমবয়সী মুকাদ ইব্রাহিম (৩)।

তখনও মসজিদের প্রবেশ পথে তার জুতা পড়েছিল। শুক্রবার বাবা আর বড় ভাইয়ের সঙ্গে মসজিদে ঢুকার আগে সেখানেই সেগুলো সে খুলে রেখে যায়। হামলার পর অ্যাম্বুলেন্সে তোলার সময় তার বড় বড় হাস্যোজ্জ্বল চোখ দু’ট ছিল বন্ধ।

সেই শেষবার ইব্রাহিমের পরিবারের সদস্যরা তাকে দেখতে পেয়েছে বলে জানায় মার্কিন পত্রিকা ওয়াশিংটন পোস্ট।

তারা আশা করছে সোমবার তারা তাকে কাফন পরিয়ে কবর দিতে পারবে। ইসলামের নির্দেশিত সময়ের চেয়ে এটা অনেক দেরিতে হচ্ছে। সাধারণত ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই কবর মৃতদেহ দাফন করা ইসলামের নিয়ম।

ইংরেজি বানানে ‘মুকাদ’ লেখা হলেও, আরবিতে এটা আসলে উচ্চারণ করা হয় ‘মুয়াদ’। সোমালিয়ার যুদ্ধ থেকে পালিয়ে ২০ বছর আগে নিউজিল্যান্ডে গিয়ে আশ্রয় নেয় তার পরিবার।

ইব্রাহিম ছিল ‘প্রাণচঞ্চল, খেলাধুলায় আগ্রহী আর খুব হাসতে পছন্দ করত’ জানায় তার ভাই আবদি। ফেসবুকে তিনি লেখেন, ‘আমরা খুব মিস করব ভাই’।

দু’টি মসজিদের হামলায় নিহত ৫০ জনের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ মুকাদ ইব্রাহিম। সন্ত্রাসী হামলার পর গোটা নিউজিল্যান্ড বিশেষ করে ওই শহরটিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এখানেই ২০১১ সালে  ভয়াবহ ভুমিকম্পে ১৮৫ জন মারা গিয়েছিল।

যুক্তরাষ্ট্রের কানেটিকাটের স্যান্ডি হুকে প্রথম শ্রেণির বাচ্চাদের ওপর হামলা যেমন মানুষের হৃদয় দুমড়ে দিয়েছিল, মুকাদের মৃত্যুও তেমনভাবেই সবাইকে স্তব্ধ করে দিয়েছে মানুষের তৈরি এই বিপর্যয়ে।

‘ও বড় হলে ব্রিলিয়ান্ট একজন ডাক্তার হতে পারত বা প্রধানমন্ত্রী,’ বলেন মোহাম্মদ হাসান, স্থানীয় সোমালি জনগোষ্ঠীর একজন সদস্য। তিনি তারা মাথা নাড়ান অনুচ্চারিত এক প্রশ্নের ভঙ্গিতে, ‘কেন?’

মুকাদের বাবা আদান ইব্রাহিম তাকে দুপুর বেলা জুম্মার নামাজের জন্য মসজিদে নিয়ে যান। নামাজের পর মুকাদ আর আবদি দুই ভাই প্রায়ই হ্যাগলি পার্কে ফুটবল খেলতে যেত।

কিন্তু খুতবা শুরু হওয়ার ১০ মিনিটের মাথায় যখন বন্দুকধারী হামলা চালায় এবং বৃষ্টির মতো গুলি করতে শুরু করে, তখন মুকাদ মনে করে এটা বোধহয় কোনও ভিডিও গেম, যেগুলো ওর ভাই খেলতে পছন্দ করে। ও বন্দুকধারীর দিকেই ছুটে যায় বলে জানায় হাসান। গোলমালের মধ্যে ওর বাবা আর ভাই ছুটে যায় ভিন্ন ভিন্ন দিকে।

হত্যাযজ্ঞ শেষ হওয়ার পর একজন মুসল্লি তাকে আগত চিকিৎসা কর্মীদের দিকে এগিয়ে যান।

রোববার রাতে মুকাদের বাবা হাসপাতালে অপেক্ষা করছিলেন মারা যাওয়ার পর প্রথমবারের মতো তার কনিষ্ঠ ছেলের মৃতদেহ দেখার জন্য। তিনি আশা করছিলেন সোমবার তাকে হয়ত দাফন করতে পারবেন।

এমআর/এএসটি

আরও পড়ুন...
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে জাস্টিন ট্রুডো’র ফোন
নিজেই আদালতে শুনানি করবে ‘উদ্ধত’ টারান্ট
ক্রাইস্টচার্চ হামলা: ২২ মার্চ বৈঠকে বসবে ওআইসি
হামলাকারী টারান্টের বাড়িতে পুলিশের তল্লাশি

 

অস্ট্রেলিয়া: আরও পড়ুন

আরও