চায়না ইন্টারন্যাশনাল ইমপোর্ট এক্সপো- ২০১৯ অনুষ্ঠিত

ঢাকা, শনিবার, ৭ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

চায়না ইন্টারন্যাশনাল ইমপোর্ট এক্সপো- ২০১৯ অনুষ্ঠিত

ছাইয়েদুল ইসলাম, চীন ২:১৬ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১১, ২০১৯

চায়না ইন্টারন্যাশনাল ইমপোর্ট এক্সপো- ২০১৯ অনুষ্ঠিত

চীনের সাংহাই শহরে দ্বিতীয় চায়না ইন্টারন্যাশনাল ইমপোর্ট এক্সপো- ২০১৯ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ৯টি প্রতিষ্ঠানসহ বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এই এক্সপোতে অংশগ্রহণ করেছে। এক্সপো উদ্বোধন করেন চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং।

৫ নভেম্বর থেকে ১০ নভেম্বর পর্যন্ত চায়না সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং সাংহাই পৌর কর্তৃপক্ষের যৌথ উদ্যেগে চায়না ইন্টারন্যাশনাল ইমপোর্ট এক্সপো চীনের বৃহত্তম শহরগুলির মধ্যে একটি এবং বিশ্বের একটি আর্থিক কেন্দ্র সাংহাই এর জাতীয় সম্মেলন ও প্রদর্শনী কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হয়।

৬টি আলাদা সেমিনারে বক্তব্য রাখেন বিভিন্ন দেশের অর্থনীতিবিদ, ব্যবসায়ী ও বাজার বিশ্লেষকরা। পুরো প্রদর্শনীকে ৭টি ভাগে করা হয়। এতে দেড়শতাধিক দেশের ৩ হাজার প্রতিষ্ঠানের স্টল ছিল। খাবার, তৈরি পোশাক, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা থেকে চিকিৎসা বিজ্ঞান সামগ্রী ও নতুন উদ্ভাবনের প্রদর্শনী হয়।

বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান এমপি এর নেতৃত্বে ৮ সদস্যের প্রতিনিধি দল সিআইআইই হং ছিয়াও ফোরামে এবং রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) এর পরিচালক (টেক্সটাইল) মো. শামসুউদ্দীন আহমেদ এর পরিচালনায় ১৭ সদস্যের প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ প্যাভিলিয়নে অংশগ্রহণ করে। চীনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মাহবুব উজ জামান বাংলাদেশ প্যাভিলিয়ন পরিদর্শন করেন। 

বাংলাদেশ প্যাভিলিয়নে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠান গুলো হল, বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশন (বিসিক), বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা), বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড, বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরন এলাকা কর্তৃকক্ষ (বেপজা), বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), জুট ডাইভারসিফিকেশন প্রমোশন কর্তৃপক্ষ (জেডিপিসি), বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) এর ডিরেক্টর জেনারেল অভিজিত চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশের সাথে চীনের যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, সেই সম্পর্ককে আরো দীর্ঘস্থায়ী করার জন্য, বর্তমান সরকারের যে পলিসি, সেই পলিসি ও নীতি অনুযায়ী আমরা বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো ব্যবস্থাপনায় এইবারে চায়না ইন্টারন্যাশনাল ইমপোর্ট এক্সপো অংশগ্রহণ করেছি। চায়না সরকার আমাদেরকে ফ্রি স্টল এবং সুন্দর ডিজাইন ব্যবস্থা করে দিয়েছে। পরপর দুইবার এক্সপো অংশগ্রহন করার ফলে চায়না সরকারের সাথে আমাদের আরো গভীর সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। এক্সপোতে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি আসার ফলে, বাংলাদেশকে তাদের কাছে উপস্থাপন করতে পেরেছি।

বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশন (বিসিক) এর চেয়ারম্যান মো. মোস্তাক হাসান এনডিসি বলেন, বেসিককে প্রমোট করাই আমাদের মূল উদ্দেশ্য। বেসিক সম্প্রতি একটি মেগা পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। পরিকল্পনা অংশ হিসাবে আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে ২০ হাজার একর জমির মধ্যে ৫০টি ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক করা। বেসিক পক্ষ থেকে এক কোটি লোকের কর্মসংস্থান আমরা করবো। ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক গুলোতে দেশীয় উদ্যোক্তার পাশাপাশি বিদেশী উদ্যোক্তাদের আকৃষ্ট করতে চাই।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) এর পরিচালক (টেক্সটাইল), মো. শামসুউদ্দীন আহমেদ বলেন, বাংলাদেশ প্যাভিলিয়নে আমরা চায়না সরকারের যথেষ্ট সহযোগিতায় বাংলাদেশ সরকারের ৯টি প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহন করেছে এবং তাদের প্রত্যেকে প্রকাশনা ও পর্ণ্য নিয়ে এসেছে। আমি আশাবাদী চায়না ইন্টারন্যাশনাল ইম্পোর্ট এক্সপোর মাধ্যমে বাংলাদেশের এক্সপোর্ট  আরো বাড়বে।

বাংলাদেশ এম্বাসি, বেইজিং এর কমার্শিয়াল কাউন্সিলর মোহাম্মদ মনসুর উদ্দীন বলেন, কান্টি প্যাভিলিয়নে গতবারের মত এবারও চায়না ইন্টারন্যাশনাল ইম্পোর্ট এক্সপোতে বাংলাদেশ অংশগ্রহন করে। কোম্পানী পর্যায়ে বিজেএমসি ও দাদা বাংলা এই দুইটি প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহন করে। ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড সেন্টার (আইটিসি) প্যাভিলিয়নে এসএমই পর্যায়ে সাতটি প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহন করে। 

চীনা প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং শাংহাইয়ে দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক আমদানি মেলায় বৈদেশিক উন্মুক্তকরণের ৫টি পদক্ষেপ ঘোষণা দিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে বাজার উন্মুক্তকরণ সম্প্রসারণ করা, উন্মুক্তকরণের কাঠামো পূরণ করা, ব্যবসা পরিবেশ উন্নত করা, বহুপক্ষীয় ও দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা গভীরতর করা এবং অব্যাহতভাবে ‘এক অঞ্চল, এক পথ’ উদ্যোগ নির্মাণ করা। তিনি বিশ্বাস করেন চীনের অর্থনীতির ভবিষ্যত আরো সুউজ্জ্বল হবে।

তিনি আরো বলেন, বর্তমানে বিশ্বের ১৩৭টি দেশ ও ৩০টি আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে সহযোগিতার চুক্তি স্বাক্ষর করেছে চীন। চীন অব্যাহতভাবে ‘এক অঞ্চল এক পথ’ নির্মাণ করবে, অভিন্ন পরামর্শ, গঠন ও উপভোগের ভিত্তিতে উন্মুক্ত, সবুজ চেতনায় অবিচল থাকবে এবং উচ্চ মানদণ্ড, জনগণের কল্যাণকর ও টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রায় ‘এক অঞ্চল এক পথ’ গুণগতমান উন্নয়ন বাস্তবায়ন করবে। ভবিষ্যতের দিকে দাঁড়িয়ে চীন উন্নয়নের নতুন চেতনার ভিত্তিতে অব্যাহতভাবে সৃজনশীলতার মাধ্যমে উন্নয়ন বাস্তবায়নের কৌশল কার্যকর করবে এবং কাঠামো সুবিন্যস্ত করে অর্থনীতির উচ্চ গুণগত মানের উন্নয়ন বাস্তবায়ন করবে।

আমন্ত্রিত হয়ে দ্বিতীয় আমদানি মেলায় অংশগ্রহণকারি ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাকখোঁ বলেন, চীনের সংস্কার ও উন্মুক্ততার ৪০ বছরের মধ্যে যে লক্ষ্যণীয় সাফল্য অর্জিত হয় তা মানবজাতির ইতিহাসের বৃহত্তম মহান ঘটনা।

২০১৮ সালে প্রথমবারের মতো আয়োজিত এ প্রদর্শনীতে ৫ হাজার ৭৮০ কোটি ডলারের বাণিজ্য চুক্তি হয়েছিল।

সিআই/এমকে

 

এশিয়া: আরও পড়ুন

আরও