ওয়াশিংটনকে ইরানের উপদেশ ও হুঁশিয়ারি

ঢাকা, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ | 2 0 1

ওয়াশিংটনকে ইরানের উপদেশ ও হুঁশিয়ারি

পরিবর্তন ডেস্ক ৯:১০ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১১, ২০১৯

ওয়াশিংটনকে ইরানের উপদেশ ও হুঁশিয়ারি

আমেরিকার জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টনকে অপসারণের পর বুধবার ইরানের মন্ত্রীসভার বৈঠকে ওয়াশিংটনের প্রতি উপদেশ ও হুঁশিয়ারি বার্তা উচ্চারণ করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রূহানী।

তিনি বলেন, আমেরিকার জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টনের অপসারণের সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের চেষ্টা ও যুদ্ধকে সমর্থন করার নীতি ত্যাগ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, মার্কিন প্রশাসনের বোঝা উচিত, এই যুদ্ধংদেহী নীতি ওয়াশিংটনের জন্য মঙ্গলজনক হবে না।

রূহানী বলেন, প্রতিশ্রুতির বিনিময়ে প্রতিশ্রুতি হচ্ছে পারমানবিক চুক্তিতে তেহরানের নীতি। আর ইরানের পারমানবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি।

মন্ত্রীসভার বৈঠকে রূহানী আরও বলেন, ইরান প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন স্থগিত রাখার ক্ষেত্রে তৃতীয় ধাপে যেসব পদক্ষেপ নিয়েছে তা আগের দুই ধাপের চেয়ে অনেক গুরুত্বপূর্ণ। আবশ্যক হয়ে পড়লে তেহরান সামনে আরও পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করবে।

উল্লেখ্য যে, ইউরোপের দেশগুলো প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ব্যর্থ হওয়ায় সম্প্রতি ইরান তৃতীয় ধাপে আরও কিছু প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন স্থগিত করে দিয়েছে। এর ফলে পারমাণু ক্ষেত্রে গবেষণার ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে আরও উন্নত মানের সেন্ট্রিফিউজের সাহায্যে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করছে ইরান।

ইরানের প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ের পরিচালক মাহমুদ ভাইজি বলেন, জন বোল্টন ইরানের উপর তার লক্ষ্য অর্জন না করেই চলে গেছেন, কিন্তু ইরানের সরকার রয়ে গেছে।    

তিনি আরও যোগ করেন, বোল্টনের বহিষ্কারের বিষয়টি স্পষ্ট করে দেয় যে, ওয়াশিংটন উপলব্ধি করেছে যুদ্ধ ও হুমকির মাধ্যমে তারা লক্ষ্য অর্জন করতে পারবে না।

জাতিসংঘে ইরানের রাষ্ট্রদূত মজিদ তখত রাওয়ানজি বলেছেন, আমেরিকা ইরানের উপর অর্থনৈতিক চাপের নীতি ত্যাগ না করা পর্যন্ত সংলাপের কোন অবকাশ নেই। তিনি বলেন, বোল্টনের প্রস্থান তেহরানকে ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনা পুনর্বিবেচনা করতে প্ররোচিত করবে না।

বোল্টন গতকাল মঙ্গলবার অফিস ত্যাগ করেছেন। তিনি এর আগে সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের প্রশাসনে গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। টুইটারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প লিখেন, বোল্টন তার বেশকিছু পরামর্শ প্রত্যাখ্যান করলে তিনি তাকে বরখাস্ত করেন।

এর আগে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র গত বছর একচেটিয়াভাবে পরমাণু চুক্তি থেকে বের হয়ে যায়। যে চুক্তির অধীনে ইরান বিশ্ব বাণিজ্যের দ্বার উন্মুক্ত করার বিনিময়ে তার পারমাণবিক কর্মসূচির উপর বিধিনিষেধ আরোপের বিষয়ে সম্মত হয়েছিল।

তখন থেকেই ওয়াশিংটন ইরানের উপর সর্বোচ্চ চাপের নীতি অবলম্বন করে, ইরানের তেল রপ্তানিতে আরোপিত নিষেধাজ্ঞাগুলোও যার অন্তর্ভুক্ত।

ইরান পারমানবিক চুক্তিতে নিজের দায়বদ্ধতা হ্রাস করতে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে, যদিও দেশটি বলছে, তারা এখনও এই চুক্তি বহাল রাখতে চাইছে।

ট্রাম্প ইঙ্গিত করেছেন যে, তিনি ইরানের সঙ্গে নতুন চুক্তির জন্য আলোচনা চালিয়ে যেতে আগ্রহী। কিন্তু ইরান সবসময় বলে আসছে, ওয়াশিংটন আগে নিষেধাজ্ঞাগুলি সরিয়ে না নিলে ইরানের পক্ষে কোন আলোচনা চালানো সম্ভব নয়।

সূত্র: আল জাজিরা আরবী

এমএফ/

 

এশিয়া: আরও পড়ুন

আরও