অবিরাম বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত মুম্বাই, নিহত অন্তত ২১

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৯ | ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

অবিরাম বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত মুম্বাই, নিহত অন্তত ২১

পরিবর্তন ডেস্ক ১০:২০ অপরাহ্ণ, জুলাই ০২, ২০১৯

অবিরাম বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত মুম্বাই, নিহত অন্তত ২১

গত চব্বিশ ঘণ্টার অবিশ্রান্ত বৃষ্টিতে ভারতের বাণিজ্যিক রাজধানী মুম্বাইতে জনজীবন স্তব্ধ হয়ে পড়েছে। বৃষ্টিজনিত নানা দুর্ঘটনায় শহরে অন্তত ২১ জন মারা গেছেন বলে মঙ্গলবার জানিয়েছে ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি।

এর মধ্যে শহরতলির মালাড অঞ্চলে একটি বস্তিতে দেওয়াল ধসেই মৃত্যু হয়েছে ১৯ জনের, জখম হয়েছেন আরও অনেকে।

পানি জমে রয়েছে বহু রাস্তায়। মুম্বাইতে এদিন সরকারি ছুটিও ঘোষণা করা হয়েছে।

শহরের ‘লাইফলাইন’ বলে পরিচিত যে লোকাল ট্রেন সার্ভিস বা শহরতলির ট্রেন পরিষেবা, সেটাও প্রায় বন্ধ।
অন্যদিকে শতাধিক ফ্লাইট বাতিল অথবা অন্য গন্তব্যে সরিয়ে নিতে হয়েছে।

বস্তুত মুম্বাই ও তার আশপাশে গত চব্বিশ ঘণ্টায় যে পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়েছে, ২০০৫ সালে সেখানে ভয়াবহ ও বিধ্বংসী বন্যার পর তা আর কখনও হয়নি।

এদিন ভোররাতে উত্তর শহরতলির মালাড ইস্টে টিলার নিচে একটি বস্তির ওপর কম্পাউন্ড ওয়াল ধসে পড়লে বহু লোক হতাহত হয়। ১০ বছরের একটি বাচ্চা মেয়ে ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে।

বস্তিবাসীরা বলছিলেন, ‘ওই দেওয়াল ঘেঁষে আগে একটা নালা ছিল, কিন্তু সেটাও এখন বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। নালা দিয়ে পানি বেরোতে না পেরে ওই পানির ধাক্কাতেই দেওয়াল ধসে পড়েছে।’

সরকারের কাছে ক্ষতিপূরণের দাবিও জানাচ্ছেন তারা। নিহতদের পরিবারের জন্য মহারাষ্ট্র সরকার এককালীন ৫ লাখ রুপির সহায়তাও ঘোষণা করেছে।

মুম্বাইয়ের কাছে থানেতেও একটি স্কুলবাড়ির দেওয়াল ধসে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে মাত্র তিন বছরের একটি শিশুও ছিল। সেখানেও স্থানীয় বাসিন্দারা যথারীতি ক্ষুব্ধ।

মালাডের আহত বস্তিবাসীদের হাসপাতালে দেখে আসার পর মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফাডনবিস জানান, নজিরবিহীন বৃষ্টিই আসলে প্রশাসনকে বেসামাল করে দিয়েছে।

তিনি বলছিলেন, ‘গত রাতে মুম্বাইজুড়ে খুব বেশি পরিমাণে বৃষ্টি হয়েছে। কোথাও কোথাও ৪শ মিলিমিটারেরও বেশি। মালাডে দেওয়াল ধসে পড়াসহ নানা দুর্ঘটনা হয়েছে এই বৃষ্টিতেই।’

মুখ্যমন্ত্রী জানান, ‘মুম্বাই বিমানবন্দরের মূল রানওয়ে থেকে একটি বিমান ছিটকে পড়ায় সেটিও বন্ধ রয়েছে। ট্রেনলাইন পানির নিচে ডুবে যাওয়ায় সেন্ট্রাল লাইন এখনও অচল, তবে ওয়েস্টার্ন লাইন সার্ভিস ধীরে ধীরে শুরু হচ্ছে।’

এদিকে গতকাল সোমবার গভীর রাতে শহরের একটি জলমগ্ন আন্ডারপাসে একটি গাড়ি আটকে যাওয়ার পর গাড়ির ভেতরেই দুই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। কারণ জ্যাম হয়ে যাওয়ায় তারা আর গাড়ির দরজা খুলতে পারেননি।

বিবিসি মারাঠিকে বীনা পারুলকর বলছিলেন, রাতের ডিউটি সেরে বহু মানুষ এদিন নিজেদের বাড়িতেও ফিরতে পারেননি। দাদার স্টেশনেই আটকে পড়েছেন বহু শ্রমজীবী মহিলা। কেউ কেউ আবার ছুটির দিনে ফাঁকা রাস্তার সুযোগ নিয়ে খুব তাড়াতাড়ি নিজের কাজের জায়গায় চলে এসেছেন।

তার কথায়, ‘ওয়েস্টার্ন এক্সেপ্রেসওয়েতে অন্যদিনের দু’ঘণ্টার রাস্তা আজ মাত্র কুড়ি মিনিটে চলে এলেও অফিসে সহজে ঢুকতে পারিনি, কারণ রাস্তাটা ছিল এক মানুষ পানির নিচে।’

যারা রোজ উবার বা ওলার মতো অ্যাপে ক্যাব বুক করে অফিসে আসেন ভোগান্তিতে পড়েছেন তারাও।

মৌশুমি বৃষ্টির মাসগুলোতে মুম্বাই প্রায় প্রতিবারই বৃষ্টিতে নাকাল হয়ে থাকে, কিন্তু এবার প্রায় গোড়ার দিকেই ভারতের বাণিজ্যিক রাজধানী যেভাবে বিপর্যস্ত তা গত দেড় দশকে হয়নি।

এমআর/এইচআর

 

এশিয়া: আরও পড়ুন

আরও