পণ্যে ফের বসল মার্কিন শুল্ক, পাল্টা হুমকি চীনের

ঢাকা, ৪ জুলাই, ২০১৯ | 2 0 1

পণ্যে ফের বসল মার্কিন শুল্ক, পাল্টা হুমকি চীনের

পরিবর্তন ডেস্ক ৪:৪৩ অপরাহ্ণ, মে ১০, ২০১৯

পণ্যে ফের বসল মার্কিন শুল্ক, পাল্টা হুমকি চীনের

যুক্তরাষ্ট্র পণ্যের ওপর শুল্ক আরও বৃদ্ধি করার পর চীনও সমুচিত জবাবের ঘোষণা দিয়েছে। এর ফলে বিশ্বের দুই বৃহত্তম অর্থনীতির দেশের মধ্যকার বাণিজ্যযুদ্ধের তীব্রতা নতুন করে বৃদ্ধি পেল।

মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএন জানায়, শুক্রবার ট্রাম্পের প্রশাসন চীন থেকে আমদানি করা ২০০ বিলিয়ন ডলার সমমানের পণ্যের ওপর শুল্ক ১০% থেকে বাড়িয়ে ২৫% করেছে।

চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক বাড়ানোর কথা ঘোষণা করার কয়েক মিনিট পরেই বেইজিং পাল্টা পদক্ষেপ নেয়ার ঘোষণা দেয়।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপ এমন সময় এলো যখন উভয় দেশের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা একটি চুক্তির জন্য ওয়াশিংটনে চেষ্টা চালানোর পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছিলেন।

সাম্প্রতিক সময়ে দেশ দুটি কয়েক মাসের বিরোধের অবসানের কাছাকাছি পৌঁছেছিল বলে ধারণা করা হচ্ছিল।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপের জবাবে পাল্টা শুল্ক আরোপ করেছিল চীনও।

দেশ দুটির মধ্যে বাণিজ্যযুদ্ধ ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের মধ্যে যেমন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে তেমনি বিশ্ব অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলেছে।

তবে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে কারণ ডোনাল্ড ট্রাম্প ৩২৫ বিলিয়ন ডলারের চীনা পণ্যের ওপর ২৫% শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন।

অন্যদিকে দেশ দুটির মধ্যে বাণিজ্য আলোচনাও চলছে।

বৃহস্পতিবার ট্রাম্প বলেছেন তিনি চীনা প্রেসিডেন্টের কাছ থেকে একটি চমৎকার চিঠি পেয়েছেন এবং হয়তো ফোনে কথা বলবেন।

হোয়াইট হাউজের একজন মুখপাত্র বলেছেন, শুক্রবার আলোচনা শুরুর জন্য চীনা উপ-প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা একমত হয়েছেন।

দুশো বিলিয়ন ডলারের চীনা পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক এ বছরের শুরুতেই হওয়ার কথা ছিল। আলোচনা চলার কারণে সেটা বিলম্বিত হয়েছে। তবে ট্রাম্প এখন বলছেন আলোচনার গতি অত্যন্ত ধীর।

যদিও ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির ওপর এর প্রভাব কেমন তা কিছুটা এড়িয়ে গেছেন। কিন্তু, কিছু আমেরিকান কোম্পানি ও ক্রেতাদের জন্য শুল্ক বাড়ানোটা একটা ধাক্কার মতো বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

এশিয়ান ট্রেড সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক ডেবোরাহ এলমস বলছেন, ‘এটা অর্থনীতিতে একটা বড় ধাক্কা দিতে যাচ্ছে।’

হোয়াইট হাউজের একজন উপদেষ্টা ক্লিটি উইলেমস বলছেন, শুল্ক বাড়ানোটাই শেষ খেলা নয়।

তবে তিনি আশা করেছেন, দু’পক্ষই আলোচনা অব্যাহত রাখবে।

সাম্প্রতিক সময়ে আলোচনায় অগ্রগতি হচ্ছিল বলেও মনে করা হচ্ছিল।

গত ডিসেম্বরে একটি যুদ্ধবিরতিতে একমত হওয়ার পর এটাই প্রথম আলোচনা ছিল।

এবারের আলোচনায় ইন্টেলেকচুয়াল প্রোপার্টি প্রটেকশনের বিষয়টিও উঠে এসেছে বলে জানা যাচ্ছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, চীন আলোচনায় আগ্রহী। কারণ, এ সমস্যা সমাধানের গুরুত্ব তারা স্বীকার করে।

চীন প্রায়শই ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষোভের টার্গেট হয়, বিশেষ করে বাণিজ্য বৈষম্য নিয়ে।

যদিও চীনে একটি অংশ মনে করে, দেশটির উত্থানকে খর্ব করার জন্যই পশ্চিমারা এ বাণিজ্যযুদ্ধ চাপিয়ে দিয়েছে।

দু’পক্ষই ইতোমধ্যেই বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার মূল্যের পণ্যের ওপর শুল্ক চাপিয়েছে।

এমআর/আইএম

 

এশিয়া: আরও পড়ুন

আরও