উইঘুর মুসলিমদের জন্য চীনের গোপন বন্দিশিবির (ভিডিও)

ঢাকা, ৪ জুলাই, ২০১৯ | 2 0 1

উইঘুর মুসলিমদের জন্য চীনের গোপন বন্দিশিবির (ভিডিও)

পরিবর্তন ডেস্ক ৪:০১ অপরাহ্ণ, মে ০৮, ২০১৯

উইঘুর মুসলিমদের জন্য চীনের গোপন বন্দিশিবির (ভিডিও)

চীনের প্রধান মুসলিম সম্প্রদায় হলো উইঘুর। দেশটির পশ্চিমাঞ্চলীয় জিনজিয়াং প্রদেশেই মূলত তাদের বাস। কিন্তু চীনের কমিউনিস্ট সরকার বছরের পর বছর এই মুসলিম সম্প্রদায়ের ওপর দমনপীড়ন চালিয়ে আসছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সেই অত্যাচার-নির্যাতন আরো বেড়েছে। তাদের ওপর নানা আইন-কানুন চাপিয়ে দিয়ে ইসলামী রীতিনীতি চর্চা থেকে মুসলমানদের বিরত রাখা হচ্ছে। গুড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে মসজিদ, মাদ্রাসা। টুপি পড়লে কিংবা দাড়ি রাখলে জরিমানা করা হচ্ছে। রোজা রাখতে দেওয়া হচ্ছে না।

এত কিছুর পরও ‍উইঘুর মুসলিমদের ইসলাম পালন থেকে বিরত রাখতে না পেরে বেইজিং ১০ লাখের বেশি উইঘুর মুসলিমকে বন্দিশিবিরে আটকে রেখেছে। যাদের দেশটির কমিউনিস্ট সরকারের প্রতি আনুগত্য প্রকাশে বাধ্য করা হচ্ছে। এ জন্য নানা প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। স্লোগান শেখানো হচ্ছে। না মানলে তাদের ওপর নেমে আসে অবর্ণনীয় নির্যাতন।

বন্দিশিবির থেকে পালিয়ে যাওয়া, কিংবা আগে বন্দি থেকে মুক্তি পেয়েছেন তাদের এবং বিভিন্ন সূত্রের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও মানবাধিকার সংগঠন এসব খবর প্রকাশ করে আসছে অনেক আগে থেকেই। জাতিসংঘ ও পশ্চিমা বিশ্বও চীনের এই মানবাধিকার লঙ্ঘনের সমালোচনা করছে।

গতকাল মঙ্গলবার ভক্স.কম নামের ওয়েবসাইট ভিডিওসহ একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

এতে বলা হচ্ছে, পশ্চিম চীনে নতুন করে বিস্তৃত পরিসরে আরো অনেক নির্মাণ অবকাঠামো লক্ষ্য করা গেছে। নির্জন এলাকায় নির্মিত এসব ভবন আকাশ থেকে দেখলে অনেকটাই কারখানা কিংবা স্কুলের মতো দেখা যায়। কিন্তু কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায়- সেখানে রয়েছে ওয়াচটাওয়ার। সেইসঙ্গে রয়েছে চারদিকে ঘেরা দেয়াল, যা কাঁটাতার দিয়ে সুরক্ষিত। আর এগুলোই হলো অন্তরণ শিবির বা বন্দিশিবির।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব ক্যাম্পের ভেতর চীন কমপক্ষে ১০ লাখ উইঘুর মুসলিমকে অন্তরীণ করে রেখেছে। 

কিন্তু আন্তর্জাতিক চাপের মুখে বেইজিং বলছে, মুসলিমরা যাতে সন্ত্রাসবাদে জড়াতে না পারে সেজন্য তাদের পুনঃশিক্ষণ তথা কারিগরি শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে, যাতে তারা কাজকর্ম করে দারিদ্র্যের অবসান ঘটাতে পারে। কিন্তু বেইজিং তার এই বক্তব্যের ব্যাপারে যুক্তিসঙ্গত কোনো প্রমাণ দেখাতে পারেনি। কারণ জাতিসংঘ কিংবা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিদের ওই অঞ্চল পরিদর্শন করতে দেওয়া হচ্ছে না।

ভক্স.কম বলছে, প্রথম থেকেই চীন এসব বন্দিশিবিরের কথা অস্বীকার করে আসছে। কিন্তু বিশ্বের মানবাধিকার কর্মী ও শিক্ষাবিদদের নেটওয়ার্ক ইন্টারনেটের বেসিক টুল ব্যবহার করে ওইসব ক্যাম্প চিহ্নিত করতে পেরেছেন। আর বিশ্ব সুপারপাওয়ার চীন ক্যাম্পগুলো ট্রেস করার যাবতীয় অনুষঙ্গ অপসারণের আগেই সেটা করতে সক্ষম হয়েছে ওই নেটওয়ার্ক।

ভিডিও লিংক...

আরপি

 

এশিয়া: আরও পড়ুন

আরও