‘ঋণের জালে জড়িয়ে প্রতিবেশীদের ওপর প্রভাব বাড়াচ্ছে চীন’

ঢাকা, বুধবার, ১৯ জুন ২০১৯ | ৪ আষাঢ় ১৪২৬

‘ঋণের জালে জড়িয়ে প্রতিবেশীদের ওপর প্রভাব বাড়াচ্ছে চীন’

পরিবর্তন ডেস্ক ১:২৪ অপরাহ্ণ, মার্চ ১৬, ২০১৯

‘ঋণের জালে জড়িয়ে প্রতিবেশীদের ওপর প্রভাব বাড়াচ্ছে চীন’

পাকিস্তানের গোয়াদর বন্দর

ঋণের জালে জড়িয়ে প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর চীন তাদের প্রভাব বিস্তার করছে। এর মাধ্যমে ধীরে ধীরে আগ্রাসনের পথে হাঁটা শুরু করেছে বেইজিং। আর এটাই চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে আমেরিকার। মার্কিন সিনেটের আর্মড সার্ভিসেস কমিটির কাছে বৃহস্পতিবার গোটা বিষয়টি জানিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন মার্কিন জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জোসেফ ডানফোর্ড।

খবরে বলা হয়েছে, চীনের আর্থিক সহযোগিতায় বেলুচিস্তান প্রদেশে গোয়াদর বন্দর বানাচ্ছে পাকিস্তান। বন্দরসহ বিভিন্ন নির্মাণাধীন প্রকল্পের জন্য চীনের কাছে থেকে ১ হাজার কোটি ডলার ঋণ নিয়েছে ইসলামাবাদ।

ডানফোর্ড জানিয়েছেন, এভাবেই প্রতিবেশী দেশগুলিকে ঋণের জালে ফাঁসিয়ে নিজেদের প্রভাব বিস্তারে মরিয়া হয়ে উঠেছে চীন। বেইজিংয়ের এই ঋণনীতি আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে যে যথেষ্ট প্রভাব বিস্তার করতে পারে সে সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেছেন ডানফোর্ড।

চীনের এই ‘ছদ্মবেশী ঋণনীতি’ সম্পর্কে বলতে গিয়ে শ্রীলঙ্কা এবং মালদ্বীপের উদাহরণও তুলে ধরেন ডানফোর্ড। সমুদ্রবন্দর বানানোর জন্য চীনের কাছ থেকে ঋণ নিয়েছিল শ্রীলঙ্কা। পরিবর্তে ওই বন্দর ৯৯ বছর ব্যবহারের জন্য চীনকে লিজ দেয় দেশটি। শুধু তাই নয়, শর্ত অনুযায়ী বন্দরের ৭০ শতাংশই আয়ত্তে থাকবে চীনের। মালদ্বীপের ক্ষেত্রেও একই নীতি নিয়েছে চীন।

কলকাতাভিত্তিক আনন্দবাজার এক প্রতিবেদনে বলছে, বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বন্ধুত্বের হাত বাড়াচ্ছে চীন। তাতে রাজিও হয়ে যাচ্ছে বিভিন্ন দেশ। সেইসঙ্গে ধীরে ধীরে ঋণের জালে জড়িয়ে পড়ছে। আর সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে দক্ষিণ এশিয়াসহ বিশ্বের অন্যান্য প্রান্তেও নিজেদের প্রভাব বাড়াচ্ছে চীন।

ডানফোর্ড তাই আশঙ্কা প্রকাশ করে জানিয়েছেন, এখনই যদি চীনের এই ‘ছদ্মবেশী ঋণনীতি’কে গুরুত্ব সহকারে নজর দেওয়া না হয়, তা হলে এর প্রভাব আমেরিকার ওপরও পড়তে পারে।

ডানফোর্ডের অভিযোগ, প্রতিবেশী দেশগুলোর সেনাবাহিনীর ওপর ইতিমধ্যেই যথেষ্ট প্রভাব বিস্তার করেছে চীন। দক্ষিণ চীন সাগরে যেভাবে চীন দাপট বাড়ানোর চেষ্টা করছে তা যথেষ্ট চিন্তার বিষয়। ২০১৩ থেকে ২০১৮-র মধ্যে দক্ষিণ চীন সাগর এবং ওই অঞ্চলে বিমানবাহিনী এবং নৌবাহিনীর তৎপরতা ১২ গুণ বাড়িয়েছে বেইজিং।

শুধু তাই নয়, ওই অঞ্চলে আত্মরক্ষামূলক এবং আক্রমণাত্মক অস্ত্র মোতায়েনের পরিমাণও বাড়াচ্ছে তারা। ছদ্ম ঋণনীতি থেকে শুরু করে প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব বিস্তার যে আমেরিকার পক্ষে কতটা মারাত্মক হতে পারে সেটাও মনে করিয়ে দেন ডানফোর্ড।

আরপি