সিসির অনুরোধ শোনেনি সিবিএস, সাক্ষাৎকার প্রচার

ঢাকা, ৪ জুলাই, ২০১৯ | 2 0 1

সিসির অনুরোধ শোনেনি সিবিএস, সাক্ষাৎকার প্রচার

পরিবর্তন ডেস্ক ১:২৫ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ০৭, ২০১৯

সিসির অনুরোধ শোনেনি সিবিএস, সাক্ষাৎকার প্রচার

মার্কিন টেলিভিশন নেটওয়ার্ক সিবিএসকে সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকার দিয়েছেন মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল সিসি। কিন্তু পরে মিসর সরকারের পক্ষ থেকে সাক্ষাৎকারটি প্রচার না করার অনুরোধ করা হলেও তা প্রচার করেছে সিবিএস।

সিবিএসের ৬০ মিনিটস টিমের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মিসরীয় দূতের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করে সাক্ষাৎকারটি প্রচার না করার কথা বলা হয়। তবে সিসির কোন বক্তব্যের বেলায় কায়রোর আপত্তি ছিল তা উল্লেখ করেনি সিবিএস।

সিবিএসের বরাত দিয়ে আলজাজিরা বলেছে, মিসরের সিনাই উপদ্বীপে আইএস ও অন্যান্য সশস্ত্র যোদ্ধাদের দমনে কায়রো যে ইসরাইলের সরাসরি সহযোগিতা নিচ্ছে- সেটা সাক্ষাৎকারে স্বীকার করেন মিসরীয় প্রেসিডেন্ট। বলেন, ‘অভিযান চালাতে গিয়ে বিমানবাহিনীকে অনেক সময়ই ইসরাইলি সীমান্তে প্রবেশ করতে হয়। সেজন্য আমরা ইসরাইলের সঙ্গে বিস্তৃত পরিসরে সমন্বয় করছি।’

অথচ গত বছর মিসরীয় সেনাবাহিনী উত্তর সিনাইয়ে বিদ্রোহীদের দমনে ইসরাইলি সহযোগিতা নেওয়ার কথা অস্বীকার করেছিল।

মার্কিন সামরিক বাহিনী থেকে ১০০ কোটি ডলার সাহায্য পাওয়ার পরও কেন ‘ধারণা করা এক হাজার সন্ত্রাসী’কে নির্মূল করতে পারেননি- এমন প্রশ্নের জবাবে সিসি পাল্টা প্রশ্ন করে বলেন, ‘ওয়াশিংটনও তো আফগানিস্তানে তালেবানদের মোকাবিলা করছে। বিগত ১৭ বছরে ট্রিলিয়ন ডলার ব্যয় করার পরও যুক্তরাষ্ট্র কেন ‘সন্ত্রাসী’দের নির্মূল করতে পারেনি?’

মিসরের রাবা আল-আদাবিয়া স্কয়ারে ২০১৩ সালে অবস্থান ধর্মটে অভিযান চালিয়ে মুসলিম ব্রাদারহুডের আট শতাধিক কর্মী-সমর্থকে হত্যা করা হয়। সে সময় মিসরের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ছিলেন সিসি। সাক্ষাৎকারে তাকে জিজ্ঞেস করা হয়- ওই অভিযানের নির্দেশ তিনি দিয়েছিলেন কি না?

জবাবে সিসি হোস্টকে বলেন, ‘আমাকে একটি প্রশ্ন করার অনুমতি দেন।’ ‘আপনি মিসরের পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেছেন? এসব তথ্য আপনি কোথা থেকে পেয়েছেন? হাজার হাজার সশস্ত্র লোক ৪০ দিন ধরে ওই অবস্থান ধর্মঘটে অবস্থান করছিল। তাদের সরাতে আমরা শান্তিপূর্ণ সব উপায় অবলম্বন করেছি।’

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচের (এইচআরডব্লিউ) প্রতিবেদনের- যেখানে বিক্ষোভকারীদের ওপর সাঁড়াশি অভিযানের বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়েছে- বরাত দিয়ে পেলি তাকে জিজ্ঞেস করেন, মিসরের শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য নিরাপত্তা বাহিনীর ওই অভিযানের প্রয়োজনীয়তা ছিল কি না?

জবাবে অভিযোগ অস্বীকার করে সিসি বলেন, হিউম্যান রাইটস ওয়াচের প্রতিবেদন ‘যথাযথ’ ছিল না।

মিসরে ৬০ হাজারের মতো রাজনৈতিক নেতাকর্মীকে বন্দি করা হয়েছে- আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোর এ সংক্রান্ত প্রতিবেদনও প্রত্যাখ্যান করেন সিসি।

মিসরের সাবেক সেনাপ্রধান বলেন, ‘আমি জানি না, তারা এই সংখ্যা কোথায় পেল। আমি বলতে চাই, মিসরে কোনো রাজনৈতিক বন্দি নেই।’ এ সময় ঘামে সিসির মুখমণ্ডল চিক চিক করছিল।

‘যেহেতু বড় একটা অংশ তাদের সন্ত্রাসী আদর্শ চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে সেহেতু আমাদের হস্তক্ষেপ করতে হয়েছে, সেখানে সংখ্যা যাই হোক,’ বলেন সিসি।

প্রসঙ্গত, গত বছরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সিসি দ্বিতীয়বারের মতো নির্বাচিত হয়েছেন, যেখানে প্রায় কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিই ছিল না।

আরপি

 

এশিয়া: আরও পড়ুন

আরও