মহাকাশে নতুন ‘স্বর্গীয় প্রাসাদ’ পাঠাচ্ছে চীন

ঢাকা, শনিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৮ | ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৫

মহাকাশে নতুন ‘স্বর্গীয় প্রাসাদ’ পাঠাচ্ছে চীন

পরিবর্তন ডেস্ক ১০:১৫ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ০৬, ২০১৮

মহাকাশে নতুন ‘স্বর্গীয় প্রাসাদ’ পাঠাচ্ছে চীন

নতুন একটি মহাকাশ স্টেশনের প্রতিলিপি জনসমক্ষে প্রদর্শন করেছে চীন। পৃথিবীর বাইরে এটাই চীনের সবচেয়ে উচ্চাভিলাষী প্রকল্প।

পৃথিবীর কক্ষপথে প্রদক্ষিণরত আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশনের জায়গা নিবে চীনের নতুন এই মহাকাশ গবেষণাগার।

মঙ্গলবার চীনের একটি দ্বিবার্ষিক এয়ারশো চায়নার অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল পঞ্চান্ন ফুটের এই মডেলটি।

ঝুনহাই শহরে আয়োজিত এয়ারশো চীনের এরোস্পেস বা মহাকাশ যান শিল্পের প্রধান প্রদর্শনী।

প্রদর্শনীর বাইরে ঝুনহাইয়ের আকাশে উড়ন্ত চীনের জে-১০ ও জে-২০ মডেলের যুদ্ধবিমান দর্শকদের চমৎকৃত করে। প্রদর্শনীর পেছনের দিকে চীনের ড্রোনের বহর অন্যান্য সামরিক যন্ত্রপাতিও নজর কাড়ে দর্শনার্থীদের।

চীনা মিথলজি অনুসরণে সিলিন্ডার আকৃতির মহাকাশ স্টেশনটির নাম রাখা হয়েছে ‘তিয়াংগং’ অর্থাৎ স্বর্গীয় প্রাসাদ।

চীনের মহাকাশ স্টেশনটিতে নভোচারীদের থাকা ও গবেষণা করার ব্যবস্থা থাকবে।

মডেলেও এই বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়। এতে সূর্য থেকে শক্তি উৎপাদনের ব্যবস্থাও সংযুক্ত করা হবে।

পৃথিবীকে প্রদক্ষিণরত ৬০ টন ওজনের গবেষণাগারে সব সময় অবস্থান করবেন তিন নভোচারী। সেখানে তার ন্যূনতম মাধ্যাকর্ষণে জীববিজ্ঞান ও অণুজীব বিজ্ঞান নিয়ে গবেষণা করবেন।

২০২২ সালের মধ্যে এটি নির্মাণ সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে বলে জানায় বার্তা সংস্থা এএফপি। মহাকাশে এটি ১০ বছর সচল থাকার কথা।

বর্তমানে পৃথিবীকে প্রদক্ষিণরত ইন্টারন্যাশনাল স্পেস স্টেশন (আইএসএস) পরিচালনা করছে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, কানাডা, ইউরোপ এবং জাপান। ১৯৯৮ সাল থেকে এটি পৃথিবীর কক্ষপথে রয়েছে কিন্তু, ২০১৪ এটি বন্ধ করে দেয়ার কথা।

তখন চীনের স্বর্গীয় প্রাসাদই হবে পৃথিবীর একমাত্র স্পেস স্টেশন। তবে আইএসএসের চেয়ে এটি আকারে অনেক ছোট। ৪০০ টনের আইএসএস একটি ফুটবল মাঠের সমান বড়।

মে মাসে চীন জানায় তাদের মহাকাশ গবেষণাগারে পৃথিবীর সব দেশ বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা চালাতে পারবে।

ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সি ইতোমধ্যেই প্রশিক্ষণ নেয়ার জন্য নভোচারীদের চীনে পাঠিয়েছে। স্পেস স্টেশনটি চালু করার সঙ্গে সঙ্গেই তারা এর ভেতরে কাজ শুরু করতে পারবে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, চীন নিশ্চিতভাবেই বিভিন্ন দেশ ও সংস্থার সঙ্গে অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে সক্ষম হবে।

এমআর/আইএম