রোহিঙ্গা পুনর্বাসন: যে কারণে পদত্যাগ করলেন মিয়ানমার গঠিত প্যানেলপ্রধান

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৪ আগস্ট ২০১৮ | ৩০ শ্রাবণ ১৪২৫

রোহিঙ্গা পুনর্বাসন: যে কারণে পদত্যাগ করলেন মিয়ানমার গঠিত প্যানেলপ্রধান

পরিবর্তন ডেস্ক ১:২১ অপরাহ্ণ, জুলাই ২১, ২০১৮

print
রোহিঙ্গা পুনর্বাসন: যে কারণে পদত্যাগ করলেন মিয়ানমার গঠিত প্যানেলপ্রধান

মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বর্বরোচিত অভিযানের শিকার হয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা প্রায় সাত লাখ রোহিঙ্গা মুসলিমকে কীভাবে দেশটির রাখাইন রাজ্যে পুনর্বাসন করা যায় সে ব্যাপারে পরামর্শ করতে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি ‘তথাকথিত’ প্যানেল গঠন করেছে নেইপিদো। কিন্তু জানুয়ারিতে প্যানেল গঠন করা হলেও তার কার্যক্রমের কোনো অগ্রগতি নেই এবং আরো কয়েকটি অভিযোগ তুলে পদত্যাগ করেছেন প্যানেলের সেক্রেটারি এবং থাইল্যান্ডের অবসরপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত ও দেশটির সাবেক সংসদ সদস্য কোবসাক চুতিকুল। এর ফলে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বিষয়ে বার্মিজ সরকারের আন্তরিকতা নিয়ে আরো একবার প্রশ্ন দেখা দিলো। কারণ প্যানেলটি গঠনের পরপরই সুচি সরকারের আন্তরিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তা থেকে পদত্যাগ করেন মার্কিন প্রবীণ রাজনীতিবিদ বিল রিচার্ডসন।

নিজের পদত্যাগের কারণ ব্যাখ্যা করে কোবসাক বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, ‘বিদেশি ও স্থানীয় বিশেষজ্ঞদের নিয়ে গঠিত ওই প্যানেলে একটি ‘সূক্ষ্ম প্রতিবন্ধকতা’ রাখা হয়েছে এবং প্যানেল গঠনের পর গত ছয় মাসে খুব সামান্যই অর্জিত হয়েছে।’ চলতি সপ্তাহে তৃতীয়বারের মতো বৈঠক করেছে কমিটি।

কোবসাক জানান, গত ১০ জুলাই তিনি পদত্যাগ করেছেন। কিন্তু সে খবর ওইভাবে প্রচার পায়নি।

মিয়ানমার সরকারের গঠন করা এই প্যানেলের উদ্দেশ্য ছিল দেশটির রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা মুসলিমসহ অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায় নিয়ে বছরের পর বছর যে সংকট চলছে- তা সমাধানে জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনানের নেতৃত্বাধীন কমিশন যে ‍সুপারিশ করেছে তা কীভাবে বাস্তবায়ন করা যায় সে ব্যাপারে সরকারকে পরামর্শ দেওয়া।

অবসরপ্রাপ্ত থাই রাষ্ট্রদূত বলছেন, প্যানেল পরিচালনার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক ফান্ড গ্রহণে বাধা দেওয়া হয় সরকারের পক্ষ থেকে। এ ছাড়া প্যানেলের একটি স্থায়ী অফিস স্থাপনের ব্যাপারেও অনুমতি দেওয়া হয়নি। বরং অনলাইনের মাধ্যমে বৈঠক পরিচালনা করতে বলা হয়েছে। তাছাড়া দেশটির সেনাবাহিনীর প্রতিনিধিরা আলোচনার টেবিলে বসতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।

এ ব্যাপারে মিয়ানমার আর্মির এক মুখপাত্রের মন্তব্য চাওয়া হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি বলে উল্লেখ করেছে রয়টার্স।

কোবসাক বলছেন, ‘তারা কী করছে? বহির্বিশ্ব থেকে নেইপিদোতে গিয়ে একটি হ্যান্ডসাম ডিনার গ্রহণ করলেই কি চলবে? সবচেয়ে বিপজ্জনক বিষয় হলো- মূল ইস্যু থেকে দৃষ্টি সরানোর চেষ্টা করা হচ্ছে এবং এমন একটি মিথ্যা আবহ তৈরি করা হচ্ছে যে, কাজকর্ম ঠিকভাবে চলছে।’

প্যানেলের স্থানীয় সদস্য এবং মিয়ানমারের জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান উইন ম্রা থাইল্যান্ডের ওই সাবেক কর্মকর্তার অভিযোগকে প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, প্যানেল তার কাজ করছে।

তিনি বলেন, ‘সরকার আমাদের পরামর্শ বাস্তবায়ন করছে এবং তার অগ্রগতিও লক্ষ করা যাচ্ছে। আপনি বলতে পারেন যে, কাজের অগ্রগতি নেই।’

রয়টার্স বলছে, মিয়ানমার সরকারের মুখপাত্র জ হতয়ের মন্তব্য জানতে শুক্রবার তাকে ফোন করা হলেও তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

এ ছাড়া কোবসাকের পদত্যাগের ব্যাপারে থাইল্যান্ডের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুরাকিরাত সাথিরাথাইয়ের মন্তব্য চাওয়া হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। গত বছর মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলর, কার্যত সরকার প্রধান, অং সান সুচি কমিটি ফর ইমপ্লিমেন্টেশন অব দ্য রিকমেন্ডেশনস অন রাখাইন স্টেটের প্রধান হিসেবে সুরাকিরাতকে পছন্দ করেছিলেন।

প্রসঙ্গত, প্যানেলের প্রধান হিসেবে কোবসাকের দায়িত্ব ছিল বৈঠকের জন্য প্রস্তুতিমূলক কাজ করা, পেছনের তথ্য সংগ্রহ ও সংকলন করা এবং এ বিষয়ে আগ্রহী বিভিন্ন গ্রুপের কাছ মতামত সংগ্রহ করা।

উল্লেখ্য, প্যানেলটি গঠনের প্রাথমিক পর্যায়েই একটি ধাক্কা খায়, যখন প্যানেলের আন্তর্জাতিক পাঁচ সদস্যের অন্যতম সদস্য ও মার্কিন দক্ষ রাজনীতিবিদ বিল রিচাডসন পদত্যাগ করেন। পদত্যাগের সময় এই প্যানেলকে অং সান সুচির লোক দেখানো কর্মসূচি বলে অভিহিত করেন রিচার্ডসন।

পদত্যাগের পর মার্কিন এ রাজনীতিবিদ তার সাবেক বন্ধু সুচি সম্পর্কে বলেন যে, তার নেতৃত্বে নৈতিকতার অভাব রয়েছে।

কিন্তু সুচির অফিস থেকে বলা হয়, রিচার্ডসন তার নিজস্ব এজেন্ডা বাস্তাবায়নের চেষ্টা করেন এবং তাকে প্যানেল থেকে পদত্যাগের আহ্বান জানানো হয়।

আরপি

 
.


আলোচিত সংবাদ