শিশু বিক্রি, সব মাদার তেরেসা কেয়ারে তদন্তের নির্দেশ

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৬ আগস্ট ২০১৮ | ৩১ শ্রাবণ ১৪২৫

শিশু বিক্রি, সব মাদার তেরেসা কেয়ারে তদন্তের নির্দেশ

পরিবর্তন ডেস্ক ১:২৫ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৭, ২০১৮

print
শিশু বিক্রি, সব মাদার তেরেসা কেয়ারে তদন্তের নির্দেশ

ভারতের ঝাড়খণ্ড রাজ্যে শিশু বিক্রির জেরে দেশের সবক’টি মিশনারিজ অব চ্যারিটিতে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার।

মাদার তেরেসার এই সংস্থাগুলোতে অবিলম্বে পরিদর্শনের জন্য রাজ্যগুলোকে নির্দেশ দিয়েছেন কেন্দ্রীয় নারী ও শিশুকল্যাণমন্ত্রী মানেকা গান্ধী।

একইসঙ্গে দত্তক নেয়ার জন্য কেন্দ্রীয় সংস্থার সঙ্গে অন্য হোমগুলোকে যুক্ত করারও নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। খবর: এনডিটিভি ও আনন্দবাজার পত্রিকা।

সম্প্রতি ঝাড়খণ্ডের রাঁচিতে মিশনারিজ অব চ্যারিটির অধীন ‘নির্মল হৃদয়’ নামে একটি হোম থেকে দত্তকের নামে তিনটি শিশু বিক্রির অভিযোগ ওঠে।

ওই ঘটনায় এক সন্ন্যাসিনী এবং এক মহিলাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তারপরই এ নিয়ে দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়।

তার পরই কেন্দ্রের নির্দেশ, অবিলম্বে মিশনারিজ অব চ্যারিটিসহ শিশুদের সব হোম অবিলম্বে পরিদর্শন করতে হবে রাজ্যের পুলিশ প্রশাসনকে। খতিয়ে দেখতে হবে সমস্ত নথিপত্র। তাতে কোনো রকম সন্দেহজনক কিছু পেলেই কেন্দ্রকে জানানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

কেন্দ্রীয়ভাবে শিশু দত্তক সংক্রান্ত বিষয়ে নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ করে সেন্ট্রাল চাইল্ড রিসোর্স অথরিটি বা কারা। বছর দু’য়েক আগে দেশে জুভেনাইল জাস্টিস অ্যাক্ট চালু হয়েছে। এই আইনে শিশুদের সব হোমকেই মন্ত্রকে নথিভূক্ত করাতে হবে এবং কারার সঙ্গে যুক্ত হতে হবে।

মন্ত্রীর নির্দেশে বলা হয়েছে, রাজ্যের সবক’টি হোম ওই সংস্থার সঙ্গে যুক্ত কিনা, পরিদর্শনে তা খতিয়ে দেখতে হবে। কোনো হোম যুক্ত না থাকলে অবিলম্বে কেন্দ্রকে জানাতে হবে এবং সেগুলোকে কারার সঙ্গে যুক্ত করার ব্যবস্থা করতে হবে রাজ্য প্রশাসনকে।

কেন্দ্রীয় শিশু সুরক্ষা কমিশনের রিপোর্ট অনুযায়ী, সারাদেশের হোমগুলোতে প্রায় ২ লাখ ৩০ হাজার শিশু রয়েছে। মোট হোম রয়েছে ৬ হাজার ৩০০। এর মধ্যে ২ হাজার ৩০০ শিশুদের হোম নথিভূক্তির পাশাপাশি কারার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। কিন্তু, এখনও কমবেশি ৪ হাজার হোম কারার সঙ্গে যুক্ত নয়।

এই বিপুল সংখ্যক হোমের কারার সঙ্গে যুক্ত না হওয়া নিয়ে আগেও উদ্বেগ প্রকাশও করেছেন মানেকা গান্ধী। এবার মিশনারিজ অব চ্যারিটি কাণ্ডের জেরে এই হোমগুলোকে যুক্ত করার জন্য কড়া বার্তা দিলেন তিনি।

‘নির্মল হৃদয়’ কাণ্ডের পরই ঝাড়খণ্ডেও তোলপাড় শুরু হয়েছে। মিশনারিজ অব চ্যারিটির অধীনে সব হোমেই এই ধরনের চক্র কাজ করে বলে অভিযোগ ওঠে নানা মহল থেকে। তারপর থেকেই ঝাড়খণ্ডের হোমগুলোতে চলছে তল্লাশি।

ঝাড়খণ্ড শিশু সুরক্ষা সংস্থার চেয়ারপারসন আরতি কুজুর জানিয়েছেন, হোমগুলোতে পরিদর্শন ও নজরদারির জন্য আলাদা টিম গঠন করা হয়েছে। আগস্টের মধ্যেই ওই টিমের রিপোর্ট পাওয়া যাবে বলে আশা করা যায়।

তিনি আরও জানান, কোনো হোমে কোনো ধরনের সন্দেহজনক বা বেআইনি কিছু নজরে এলেই কড়া ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আইএম

 
.


আলোচিত সংবাদ