দিল্লির ‘নির্ভয়া’র ধর্ষকদের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখল সুপ্রিম কোর্ট

ঢাকা, শনিবার, ২১ জুলাই ২০১৮ | ৬ শ্রাবণ ১৪২৫

দিল্লির ‘নির্ভয়া’র ধর্ষকদের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখল সুপ্রিম কোর্ট

পরিবর্তন ডেস্ক ৫:৩০ অপরাহ্ণ, জুলাই ০৯, ২০১৮

print
দিল্লির ‘নির্ভয়া’র ধর্ষকদের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখল সুপ্রিম কোর্ট

রিভিউ পিটিশনে তরুণী জ্যোতি সিং দিল্লি ধর্ষণের ঘটনায় ৪ জন অভিযুক্তদের মধ্যে ৩ জনেরই মৃত্যদণ্ডের রায় বহাল রেখেছ। ২০১২ সালে ধর্ষণ করে চলন্ত বাস থেকে ছুঁড়ে ফেলে দেয়া ধর্ষিতাকে। পরবর্তীতে ‘নির্ভয়া’ নামে তিনি হয়ে ওঠেছিলেন দেশটির ধর্ষণবিরোধী আন্দোলনের প্রতীক। আল জাজিরার সংবাদ।   

সে সময় এ ঘটনার বিরুদ্ধে ভারতজুড়ে তীব্র আন্দোলন শুরু করে নাগরিক সমাজ। আন্দোলনের মাধ্যমে ধর্ষণবিরোধী কঠোর আইন হিসেবে ধর্ষকদের মৃত্যুদণ্ড আইন করার বাধ্য করে সরকারকে। শুরুতেই ধর্ষিতার নাম ও পরিচয়ের সুরক্ষার জন্য গণমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে ভারতজুড়ে তার নাম হয়ে ওঠে ‘নির্ভয়া’।  

২৩ বছর বয়সী ধর্ষিতা জ্যোতি সিংকে ফিজিওথেরাপির শিক্ষার্থী ছিলেন। উত্তরপ্রদেশের বালিয়া জেলার একটি ছোট্ট গ্রামে, কৃষক পরিবারের মেয়ে জ্যোতি। তার বাবা বদ্রিনাথ সিং তার খরচ মেটাতে সকল ফসলি জমি বিক্রি করে দেন। চূড়ান্ত কাজ করে মেয়ের পড়াশুনোর খরচ মেটান।

ভারতীয় আইন অনুযায়ী প্রথমে তার নাম প্রকাশ করা হয়নি। দেশে ও দেশের বাইরে তিনি হয়ে ওঠেছিলেন ‘নির্ভয়া’।  পরবর্তীতে তার নাম প্রকাশ করা হয়

২০১২ সালের ১৬ ডিসেম্বর রাত সাড়ে নয়টার দিকে তাকে ধর্ষণ করে চলন্ত বাস থেকে ছুঁড়ে ফেলে দেয় ধর্ষকরা। তিনি যখন তার এক ছেলেবন্ধুর সাথে একটি বেসরকারি বাসে ভ্রমণ করছিলেন তখন তাকে পিটুনি দেওয়া হয় এবং তারপর তাকে গনধর্ষণ করা হয়। ঐ বাসে চালকসহ আরো ৬ জন ছিলেন যাদের প্রত্যেকেই জ্যোতিকে ধর্ষণ করে এবং তার বন্ধুকে পিটুনি দেয়। রাত এগারটার দিকে জ্যোতির বন্ধুরা অর্ধউলঙ্গ অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যায়  

হামলার তেরো দিন পর, তাকে জরুরী চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়, কিন্তু দুই দিন পর তিনি তার আঘাতের প্রতিক্রিয়ায় মারা যান।

এ ঘটনার বিরুদ্ধে নাগরিক সমাজের আন্দোলনের প্রেক্ষিতে ধর্ষকদের সর্বোচ্চ সাজা হিসেবে মৃত্যুদণ্ডের বিধান করে দেশটি। পরবর্তীতে দেশটির সর্বোচ্চ আদালত অভিযুক্ত ৪ জনকেই মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত দেয়।

এ ঘটনায় ৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়। ২০১৩ সালে কারগারে থাকা অবস্থায় একজন আত্মহত্যা করে। বাকি দুইজনের বয়স কম হওয়ায় তাদেরকে সংশোধনের সুযোগ দিয়ে ৩ বছরের সাজা দেয়া হয়, পরবর্তীতে ২০১৫ সালে মুক্তি পায় তারা।  বাকিদেরকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হলে আজকে তা বহাল রাখে সুপ্রিম কোর্ট।

ধর্ষিতার বাবা বদ্রিনাথ সিং জানান, তার মেয়ে শেষপর্যন্ত ন্যায়বিচার পেল। 

প্রধান বিচারপতি দিপক মিশ্রের অধীনে ৩ সদস্য বিশিষ্ট আদালত বেঞ্চ আজকে ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন। দিপক মিশ্র  জানান, আমাদের এ সিদ্ধান্ত যুক্তিযুক্ত।   

তিনি জ্যোতি সিংকে নিজের মেয়ে হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, পিটিশনটির রিভিউ করতে আদালত এক বছর সময় নিলেও আমি আনন্দিত যে আমার মেয়ে শেষপর্যন্ত ন্যায়বিচার পেয়েছে।

আরজি/

 
.



আলোচিত সংবাদ