লিটনকে কি ‘ভারত-আইনে’ আউট দিলেন মি. টাকের?

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ | ৯ ফাল্গুন ১৪২৫

লিটনকে কি ‘ভারত-আইনে’ আউট দিলেন মি. টাকের?

পরিবর্তন ডেস্ক ৯:২৭ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৮, ২০১৮

লিটনকে কি ‘ভারত-আইনে’ আউট দিলেন মি. টাকের?

সংশয়টা আগে থেকেই ছিল। প্রতিপক্ষ যেহেতু বাংলাদেশ, এশিয়া কাপের ফাইনালে ‘প্রভু’ ভারতকে খুশি করতে আম্পায়াররা কিছু একটা করবেনই। বাংলাদেশের বিপক্ষে বিতর্কিত সিদ্ধান্ত দিয়ে ‘মোড়ল’ ভারতের শিরোপা পথটা প্রশস্ত করে দেবেন। শেষ পর্যন্ত তা করলেনও আম্পায়াররা। না, মাঠের আম্পায়াররা নয়। আজ দুবাইয়ে লিটন দাসকে ‘অন্যায়’ আউট দিয়ে বাংলাদেশের সর্বনাশ করলেন টিভি আম্পায়ার রড টাকের। সঙ্গে ‘প্রভু’ ভারতকে সুবিধা করে দিয়েছেন শিরোপা জয়ের!

কুলদীপ যাদবের বলে লিটনকে যে স্টাম্পিংয়ের আউটটি দিলেন রড টাকের, তা ক্রিকেটের কোনো আইনেই আউট না। ক্রিকেটের আইনকে তোয়াক্কা না করে ইংলিশ আম্পায়ার লিটনকে আউটটা দিয়েছেন আসলে ‘ভারত-আইনে’! মানে একমাত্র ভারতকে খুশি করতেই আউট না হওয়া সত্ত্বেও আউট দিয়েছেন তিনি।

স্টাম্পিং আউটের ক্ষেত্রে ক্রিকেটের স্পষ্ট আইন, বলের আঘাতে বেল পড়ার সময় ব্যাটসম্যানের পা পপিং ক্রিজের লাইনে থাকলে বেনিফিট অব ডাউটের সুবিধা পাবেন ব্যাটসম্যান। মানে সিদ্ধান্ত যাবে ব্যাটসম্যানের পক্ষে। ব্যাটসম্যান থাকবেন নটআউট। আর লিটনের ক্ষেত্রে তো বেনিফিট অব ডাউটের সুবিধা প্রাপ্তিরও দরকার ছিল না। দাগ স্পর্শ শুধু নয়, মহেন্দ্র সিং ধোনি যখন বল ধরে বেল ফেললেন, লিটনের পা ভালোভাবেই দাগের উপর ছিল। বেনিফিট অব ডাউটের সুবিধা ছাড়াও লিটন নটআউট। রিপ্লেতে অন্তত সেটাই স্পষ্ট।

কিন্তু রড টাকের নিজের আম্পায়ার ক্ষমতা বলে নির্লজ্জভাবে জ্বালিয়ে দিলেন ‘লালবাতি’! স্টাম্পিংয়ের ক্ষেত্রে মূলত দুই দিক থেকেই রিপ্লে দেখা হয়। কিন্তু সিদ্ধান্তটি নেওয়ার জন্য মিস্টার টাকের ডান-বাম, সামনে পেছনে সব দিক থেকেই রিপ্লে দেখলেন। এমনকি ভারতের উইকেটকিপার ধোনির দুই পায়ের নিচ দিয়েও রিপ্লে দেখলেন তিনি। হয়তো তিনি সুযোগ খুঁজছিলেন, কোনোভাবে লিটনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার।

কিন্তু কোনো দিক থেকেই লিটনকে আউট দেওয়ার মতো কিছু দেখা যায়নি। সব অ্যাঙ্গেল থেকে দেখানো রিপ্লেতেই স্পষ্ট, লিটনের পায়ের অগ্রভাগ দাগের উপর ছিল। এতোদিক থেকে এটা দেখার পরও টাকের শেষ পর্যন্ত ‘আউট’ বাতিই জ্বালালেন! প্রশ্নটা তাই করতে হচ্ছে, লিটনকে কোন আইনে আউট দিলেন মি. টাকের, ভারত-আইনে? টাকেরে এই সিদ্ধান্তে অনেক বড় সুবিধা পেয়েছে ভারত। বাংলাদেশের হয়েছে সর্বনাশ।

কারণ, উদ্বোধনী জুটিতে ১২০ রান করার পরও ১৫১ রানের মধ্যে ৫ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় বাংলাদেশ। এরপর সৌম্য সরকারকে সঙ্গে নিয়ে আবার ইনিংস মেরামত করা শুরু করে দিয়েছিলেন একপ্রান্ত আগলে রাখা লিটন। আগেই ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি তুলে নেওয়া লিটন থমকে যাওয়া রানের চাকাটা আবার ঘোরানো শুরু করেছিলেন। ঠিক তখনই জ্বলে উঠা লিটনকে আউট দিয়ে রানের সেই গতি থামিয়ে দিয়েছেন টাকের।

১১৭ বলে ১২১ রান করেও তাই বীর লিটনকে ফিরতে হয়েছে আক্ষেপ নিয়ে! আম্পায়ারের অন্যায় শিকার হওয়ার আক্ষেপ। প্যাভিলিয়নে ফিরে তার আক্ষেপটা হয়তো আরও বড় হয়েছে। কারণ, তার বিদায়ের পর  ৪৮.৩ ওভারে ২২২ রানেই অলআউট হয়ে গেছে বাংলাদেশ। পুরো ৫০ ওভারও খেলতে পারেনি।

টাকেরের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে বিতর্কের ঝড় বয়ে যাচ্ছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, ফেসবুক, টুইটার, ইনস্টাগ্রামের সেই ঝড়ে বাংলাদেশের লাভ কি! ক্ষতি যা করার টাকের সেটা তো করেই দিয়েছেন। এখন সংশয় জাগছে বোলিংয়ে একই রকম বিতর্কিত সিদ্ধান্ত দেওয়া নিয়েও।

দুবাইয়ের ফাইনাল শুরুর আগেই একটা রহস্য প্রশ্নটাকে সামনে নিয়ে এসেছিল। মাঠের দুই আম্পায়ারের মধ্যে একজনের নাম ঘোষণা করা হয়। তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার আম্পায়ার মারিয়াস ইরাসমাস। কিন্তু তার সঙ্গে আর কে মাঠের আম্পায়ার থাকবেন, তা জানানো হয়নি! সেটা জানা গেল ম্যাচ শুরুর পর। ইরাসমাসের সঙ্গে মাঠের আম্পায়ারের দায়িত্ব পালন করছেন শ্রীলঙ্কার রুচিরা পলিয়াগুরুগে।

কেআর