ভারতের বিপক্ষে অসহায় আত্মসমর্পণ টাইগারদের

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৮ | ২ কার্তিক ১৪২৫

ভারতের বিপক্ষে অসহায় আত্মসমর্পণ টাইগারদের

পরিবর্তন ডেস্ক ১২:৩৩ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২২, ২০১৮

ভারতের বিপক্ষে অসহায় আত্মসমর্পণ টাইগারদের

২০১৫ সাল থেকে বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচ ক্রিকেটে নতুন দ্বৈরথের জানান দিচ্ছিল। প্রায় হারিয়ে যাওয়া পাকিস্তান-ভারত ম্যাচের আমেজ অনেকে খুঁজে পাচ্ছিলেন এই দুই দলের লড়াইয়ে। সেবার বিশ্বকাপে নানা বিকর্তের ম্যাচে ভারতের কাছে হারের পর ঘরের মাঠে ওয়ানডে সিরিজে মহেন্দ্র সিং ধোনির দলকে ২-১ এ হারিয়েছিল বাংলাদেশ। এরপর থেকেই বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচের বাজার রমরমা। কিন্ত গেল বছর চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সেমি ফাইনালের পর ওয়ানডেতে আরো একটি নিরুত্তাপ বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচের প্রদর্শনী হলো এশিয়া কাপে। দুবাইয়ে শুক্রবার সুপার ফোরের ম্যাচে বাংলাদেশকে এক রকম হেসে খেলে ৭ উইকেটে হারিয়েছে ভারত।

দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় বিকেল সাড়ে ৫টায় মুখোমুখি হয়েছিল দল দুটি। টস হেরে আগে ব্যাট করে ৪৯.১ ওভারে ১৭৩ রানে গুটিয়ে যায় টাইগাররা। জবাবে ১৩.৪ ওভার বাকী থাকতেই মাত্র ৩ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছে ভারত। অধিনায়ক রোহিত শর্মা অপরাজিত ৮৩ রানের ইনিংস খেলেন। সুপার ফোর পর্বে বাংলাদেশের শুরুটা হলো তাই হতাশা দিয়ে।

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে গ্রুপে দুর্দান্ত জয় দিয়ে আসর শুরু হলেও বৃহস্পতিবার গ্রুপের শেষ ম্যাচে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ১৩৬ রানের বড় ব্যবধানে হারে বাংলাদেশ। সেই ম্যাচের পরদিনই নেমে পড়তে হয় ভারতের বিপক্ষে সুপার ফোরের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে। ক্লান্তি নিয়ে তাই কথা হয়েছে অনেক। শেষ পর্যন্ত ক্লান্ত বাংলাদেশকে যেন খুঁজেই পাওয়া গেল না ব্যাটিংয়ে। আর ১৭৩ রানের পুঁজি নিয়ে ভারতের বিপক্ষে তো আর লড়াই করা যায় না। সে জন্য চাই বোলিং-ফিল্ডিংয়ে দুর্দান্ত কিছু। টাইগাররা সেটিও পারেনি।

আফগানদের বিপক্ষে বৃহস্পতিবার যে হতশ্রী ব্যাটিংয়ে হেরেছিল বাংলাদেশ, সেই হতাশার ব্যাটিং এদিন আরেকবার। দুই ওপেনার লিটন দাস ও নাজমুল হোসেন শান্ত ব্যর্থ। দুজনেই ফিরলেন ব্যক্তিগত ৭ রান করে। প্রথমজন ভুবনেশ্বর কুমার আর পরেরজন  জসপ্রিত বুমরাহর শিকার।

কিন্তু বাংলাদেশকে ছন্নছাড়া করে দেওয়ার আসল কাজটা করলেন রবীন্দ্র যাদেজা। ২০১৭ সালের জুলাইয়ের পর ওয়ানডে দলে ফিরে স্পিনের মায়াজ্বাল ছড়ালেন। টানা তুলে নিলেন সাকিব আল হাসান (১৭), মোহাম্মদ মিথুন (৯) ও মুশফিকুর রহীমকে (২১)। ৬৫ রান ৫ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ তখনই ব্যাটফুটে। পরে তুলে নেন আরো এক উইকেট। ১০ ওভার হাত ঘুরিয়ে ২৯ রানে ৪ উইকেট তার।

মোসাদ্দেক হোসেনকে নিয়ে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ লড়ার চেস্টা করছিলেন। কিন্তু ২৫ রান করে মাহমুদউল্লাহকে ফিরতে হয় আম্পায়ারের ভুল সিদ্ধান্তে। ভুবনেশ্বর কুমারের বল প্রথমে ব্যাটে লেগে তার প্যাডে আঘাত করলেও আম্পায়ার আঙুল তুলে নেন। ততক্ষণে রিভিউও শেষ বাংলাদেশের। পরের ওভরে কোনো রান যোগ না হতে ফিরে যান মোসাদ্দেক হোসেনও। ১২ রান করেন তিনি।

তবে এরপর মেহেদী হাসান মিরাজ ও মাশরাফি বিন মুর্তজার লড়াইয়ে দেড়’শ পেরোয় বাংলাদেশ। অস্টম উইকেটে দুজন ৬৬ রান যোগ করেন। মাশরাফি ৩২ বলে ২৬ রান করেন ২ ছক্কায়। মিরাজ ৫০ বলে ২ চার ও ২ ছক্কায় করেন ৪২ রান।

জবাব দিতে নেমে শিখর ধাওয়ান এবং রোহিত শর্মার ব্যাটে দারুণ শুরু পায় বাংলাদেশ। ৬১ রান যোগ করেন এই দুজন। সাকিব আল হাসানের শিকার হয়ে ধাওয়ান ফিরেন ব্যক্তিগত ৪০ রান করে। অম্বতি রাইডু দ্রুত বিদায় নিলেও রোহিত-ধোনি জুটিতে জয়ের কাছে চলে যায় ভারত। ধোনি ৩৩ রান করে মাশরাফির শিকার হলেও দিনেশ কার্তিককে (১) নিয়ে বাকী কাজ সাড়েন রোহিত। শেষ পর্যন্ত ১০৪ বলে ৫ চার ও ৩ ছক্কায় অপরাজিত ৮৩ রান করেন তিনি। ম্যাচ সেরা হয়েছেন রবীন্দ্র জাদেজা।

টিএআর