সাঙ্গু আমাদের অবহেলিত আমাজন

ঢাকা, শুক্রবার, ২৪ মে ২০১৯ | ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬

সাঙ্গু আমাদের অবহেলিত আমাজন

জামাল জাহাঙ্গীর ৪:৫৮ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ০৩, ২০১৮

সাঙ্গু আমাদের অবহেলিত আমাজন

সমুদ্র থেকে উঠে আসা নাফের ঠিক মাথায় বান্দরবন জেলা। রুমা থানচি আর আলিকদম এক নিসর্গ ও নন্দনের জনপদ। পাশেই ভারতের দেবাশরা আর মায়ানমারের কাওয়াং। তিন তিনটি দেশের মাটির উত্তাপ ছুঁয়ে এক দুরন্ত নদীর জন্ম। এই নদীর নাম সাঙ্গু।

কোথাও সাপের মতো কোথাও ফিতাকৃমির মতো, কোথাওবা আপাত সরলরেখায় চালিত হয়েছে আমাদের আমাজন সাঙ্গু। ২৭০.৩১ কিলোমিটার দীর্ঘ এই নদী। প্রশস্ততা গড়ে ১৫০ মিটার গড় গভীরতা ১৫ মিটার। কর্ণফুলীর মোহনা থেকে ১৬.০৯ কিমি দক্ষিণ দিকে বঙ্গোপসাগরে গিয়ে পড়েছে।

সাঙ্গু নদীর প্রধান উপনদী ডলু সাতকানিয়া উপজেলার সমভূমি নিষ্কাশন করে উত্তরমুখে প্রবাহিত হয়ে সাঙ্গু নদীর সঙ্গে মিশেছে। পটিয়া সমভূমির উপর দিয়ে প্রবাহিত চান্দখালি নদীও এর ডানপাশে এসে মিলিত হয়েছে। আরও ভাটিতে এটি কুমিরাখালির সঙ্গে মিলিত হয়ে অবশেষে কুতুবদিয়া চ্যানেলে পড়েছে।

এ নদীর পাহাড়ী ঢল প্রবল বেগে নিম্ন ঢালে নেমে আসে, ফলে নিম্ন অববাহিকার নদী তীর সংলগ্ন প্লাবনভূমিক প্রায়শ: আকস্মিক বন্যায় প্লাবিত হয় এতে বিপুল পরিমাণে ফসলের ক্ষয়-ক্ষতি হয়ে থাকে।

শীতকালে সাঙ্গু নদীর স্রোত অনেকাংশে ম্রিয়মাণ হয়ে যায়। বর্ষাকালে নদীটির স্রোত তীব্র আকার ধারন করে। সাঙ্গু নদীর দুই তীরের পাহাড়, বন, নদী ও ঝর্ণার সৌন্দর্যে যেকোনো পর্যটকই বিমোহিত হন। সাঙ্গু অপার মুগ্ধতার নদী। যে নদীর বাঁকে বাঁকে অজানা ও অদেখা সুন্দর লুকিয়ে আছে।

অপূর্ব এই নদীর দুইদিকে পাহাড়ের সারি। বর্ষায় পাহাড় বেয়ে নামে ছোট বড় অসংখ্য ছড়া। ছল ছল শব্দে ছড়ার চঞ্চল জল এসে মেশে নদীতে। পাহাড়ের ওপরে ভেসে বেড়ায় মেঘ। মনে হয়, ওই চূড়ায় উঠলেই বুঝি ছোঁয়া যাবে, ধরা যাবে, মেঘের মাঝে ভেসে বেড়ানো যাবে।

সাঙ্গু নদীর আরেক নাম শঙ্খ। এই নদীর পাহাড়ি অংশের ঢলের শব্দের সাথে শাঁখের বিমোহিত স্বর ভেসে আসে তাই এর নাম শঙ্খ। তবে সাঙ্গু নামকরণের সাথে পাহাড়ি তান্ত্রিকের যোগসূত্র রয়েছে বলে জানা যায়।

সাঙ্গু স্থানীয় ভাষায় সমুদ্রে নিমজ্জমান ঋষি। এই ধ্যানরত নদী আমাদের পার্বত্য অঞ্চলের দ্বিতীয় বৃহত্তম জলপ্রবাহ। ঋষি খেপে গেলে খবর আছে। পাহাড় সমুদ্র আর তিন দেশের মানুষের চোখে সবুজ আলো জেলে সাঙ্গু আমাদের অবহেলিত আমাজন। যার অনেকটাই আমাদের অদেখা ও অজানা।