অপচয় এত্ত বড় অপরাধ!

ঢাকা, শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮ | ৭ আশ্বিন ১৪২৫

অপচয় এত্ত বড় অপরাধ!

মোস্তফা কামাল গাজী ৫:২৯ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৫, ২০১৮

অপচয় এত্ত বড় অপরাধ!

দুনিয়াতে বেঁচে থাকার জন্যে মহান আল্লাহ তায়ালা তাঁর বান্দাকে দান করেছেন অফুরন্ত নেয়ামত। বান্দার উচিৎ সে নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করে তার যথাযথ মূল্যায়ন করা এবং অপচয় থেকে বেঁচে থাকা। কেননা অপচয় ইসলামের দৃষ্টিতে একটি নিকৃষ্ট কাজ। এর সঙ্গে গর্ব-অহংকারের সম্পর্কও বিদ্যমান। পবিত্র কুরআনে অপচয়কারীকে শয়তানের ভাই হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ইরশাদ হয়েছে, ‘আর তোমাদের অর্থ-সম্পদ অপ্রয়োজনীয় কাজে খরচ করবে না। জেনে রেখো, যারা অপব্যয় করে তারা শয়তানের ভাই, আর শয়তান নিজ প্রতিপালকের ঘোর অকৃতজ্ঞ।’ (সূরা বনি ইসরাইল, আয়াত : ২৬-২৭) অন্য আয়াতে এসেছে, ‘তোমরা খাও এবং পান কর; অপচয় করো না। নিশ্চয়ই তিনি অপচয়কারীদের পছন্দ করেন না।’ (সুরা আ’রাফ, আয়াত : ৩১) রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, ‘বিলাসিতা পরিহার কর, আল্লাহর নেক বান্দারা বিলাসী জীবনযাপন করে না।’ (মুসনাদে আহমদ : ৩৪২৩)

যারা অপচয় থেকে বিরত থাকে তাদের প্রশংসা করে পবিত্র কুরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘এবং যখন তারা ব্যয় করে তখন তারা অপচয় করে না, কার্পণ্যও করে না। বরং তারা এ দুটির মাঝে মধ্যমপন্থা অবলম্বন করে।’ (সূরা ফুরকান, আয়াত : ৬৭) আজকাল যারা বিলাসী জীবনে অভ্যস্ত, তাদের মধ্যে অপচয়ের প্রবণতা বেশি দেখা যায়। কিয়দংশ খাওয়ার পর পুরো খাবারটিই ফেলে দেয়া হয় ডাস্টবিনে। প্রতিদিন হাজার টাকার খাবার নষ্ট হয় তাদের মাধ্যমে। দেশের শত শত মানুষ যেখানে দিনের পর দিন অভুক্ত থাকে, একবেলা খেতে পারলে অন্যবেলা জোটে না, সেখানে তারা প্রতিদিন নষ্ট করছে হাজার টাকার খাবার। অথচ ইসলাম খাবারের সামান্যতম অংশ নষ্ট করা থেকেও নিষেধ করেছে। এমনকি খাবারের উচ্ছিষ্ট ফেলে না দিয়ে পশুপাখিকে দেয়ার কথা বলা হয়েছে। হজরত আনাস (রা.) এর সূত্রে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন আহার করতেন, আহার শেষে তিনবার আঙুল চেটে খেতেন এবং বলতেন, তোমাদের খানার বাসন থেকে কিছু পড়ে গেলে উঠিয়ে পরিষ্কার করে খেয়ে নাও, তা শয়তানের জন্য ছেড়ে দিয়ো না। (আবু দাউদ : ৩৮৪৫)

প্রচণ্ড শীতে শীতবস্ত্র না থাকায় দেশের অনেক মানুষ কষ্ট পাচ্ছে। সামান্য সম্বল নিয়ে শীত কাটাচ্ছে বহু দরিদ্র পরিবার। অপরদিকে কিছু মানুষ নির্দ্বিধায় টাকা-পয়সা অপচয় করছে অবৈধ কাজে। তারা যদি অপচয় ছেড়ে শীতার্ত মানুষের প্রতি সামান্য সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতো, তাহলে তাদের কষ্ট কিছুটা হলেও ঘুচত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অপ্রয়োজনে পানি নষ্ট করা থেকে নিষেধ করতেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘তোমরা স্থির পানিতে পেশাব কোরো না, নাপাকি ফেলো না, কেননা তা তোমরা ব্যবহার করবে।’ (আবু দাউদ, ৬৯-৭০)

অপ্রয়োজনে পানি নষ্ট করা যেমন পানির অপচয়, তেমনি প্রয়োজন পূরণের সময় প্রয়োজনের অতিরিক্ত পানি খরচ করাও পানির অপচয়। হজরত ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, একদিন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হজরত সাদ (রা.) এর পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। এ সময় হজরত সাদ (রা.) অজু করছিলেন। তাঁর অজুতে পানি বেশি খরচ হচ্ছিল। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা দেখে বললেন, কেন এই অপচয়? সাদ (রা.) আরজ করলেন, ‘অজুতেও কি অপচয় হয়? রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘হ্যাঁ, এমনকি বহমান নদীতে অজু করলেও।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ : ৪২৫) একটি হাদিসে অজুর অঙ্গগুলো তিনবারের অধিক ধোয়াকে সীমালঙ্ঘন আখ্যা দেওয়া হয়েছে। (আল মুজামুল কাবির, ১১০৯১)

আমাদের দেশ এবং বর্তমান পৃথিবীর গবেষকরা সুপেয় পানির ক্রমবর্ধমান অভাব এবং দূষিত পানির পরিমাণ বৃদ্ধি নিয়ে শঙ্কিত, অথচ এসবের মূলে রয়েছে দৈনন্দিন জীবনে পানি ব্যবহারে আমাদেরই অপচয় এবং উদাসীনতা। আধুনিক পৃথিবীতে পানির জন্য এ হাহাকার তো আমাদেরই কর্মফল। অপচয় কেবল পানিতেই নয়, বরং বিদ্যুৎ, গ্যাস, খাওয়া-দাওয়া, কাপড়-চোপড়—সব কিছুতেই হচ্ছে। অপচয় করা আমাদের একটি মারাত্মক ব্যাধি হয়ে দাঁড়িয়েছে। অপচয়ের কারণে কেবল আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে না, বরং সামাজিক ক্ষতিও হচ্ছে প্রতিনিয়ত। আমরা যদি অপচয় বন্ধ করে দেই তাহলে সমাজের সবাই ভালোভাবে চলতে পারবে, সুখে দিন কাটাতে পারবে। 

এএইচটি