হাদীস থেকে ঘুমের আগে কয়েকটি আমল

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৯ | ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

হাদীস থেকে ঘুমের আগে কয়েকটি আমল

পরিবর্তন ডেস্ক ৮:৩৬ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৩, ২০১৯

হাদীস থেকে ঘুমের আগে কয়েকটি আমল

ঘুম মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে বান্দার প্রতি বিশাল ইহসান। এর মাধ্যমে বান্দা আগের দিনের সমস্ত ক্লান্তি মুছে নতুন দিনের জন্য কর্মচঞ্চল হয়ে ওঠে। আমাদের ঘুম হয়ে উঠবে ইবাদত, যদি তার আগে ও পরে থাকে কিছু নেক আমল। সাহাবী হযরত মুআয ইবনে জাবাল (রা.) বলতেন–

أما أنا فأنام وأقوم، فأحتسب نومتي كما أحتسب قومتي

অর্থঃ আর আমি (রাতে) ঘুমাই এবং নামাযে দাড়াই, আমি আমার ঘুমকেও ইবাদত গণ্য করি, যেভাবে ইবাদত গণ্য করি জাগ্রত থেকে নামায আদায়কে। [বুখারী, হাদীস নং:৩৯৯৮]

নিম্নে হাদীস থেকে সংগৃহীত ঘুমানোর আগে কিছু দুআ পেশ করা হল, যেগুলো পাঠে তা হবে আমাদের জন্য রাতের নিরাপত্তা, এবং সেইসঙ্গে ঘুমের অন্যান্য আদব ও সুন্নতগুলো পালনে আমাদের ঘুম হয়ে উঠবে ইবাদত।

এক. আয়াতুল কুরসী পড়া।
হযরত আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদীসে এসেছে, তিনি বলেন,

وكّلني رسول الله صلى الله عليه وسلم بحفظ زكاة رمضان، فأتاني آت فجعل يحثو من الطعام… وذكر الحديث، وفيه أن هذا الآتي قال له: إذا أويت إلى فراشك فاقرأ آية الكرسي، فإنه لن يزال معك من الله تعالى حافظ، ولا يقربك شيطان حتى تصبح، فقال النبي صلى الله عليه وسلم: «صدقك، وهو كذوب، ذاك شيطان»

অর্থঃ রাসূলুল্লাহ (সা.) আমাকে রমযানের ফিতরা সংরক্ষণের দায়িত্ব দিলেন। কোন এক আগন্তুক আমার কাছে আসল, এবং অঞ্জলি ভরে খাবার (চুরি) সংগ্রহ করতে লাগল।... এরপর পূর্ণ হাদীস বর্ণনা করেন। -তাতে আছে- আগন্তুক তাকে বলল : তুমি যখন তোমার বিছানায় যাবে তখন আয়াতুল কুরসী পড়বে, কেননা এর মাধ্যমে সর্বক্ষণ তোমার সাথে আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে একজন হেফাজতকরী থাকবে এবং সকাল পর্যন্ত শয়তান তোমার কাছে ঘেঁসতে পারবে না।

রাসূল (সা.) বললেন, তোমাকে সত্য বলেছে যদিও সে বড় মিথ্যাবাদী। সে হচ্ছে শয়তান। [বুখারী, হাদীস নং: ৩০৩৩]

দুই. সূরা এখলাস, সূরা ফালাক এবং সূরা নাস পড়া।
হযরত আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেন:

أن النبي صلى الله عليه وسلم كان إذا أوى إلى فراشه- كل ليلة – جمع كفيه ثم نفث فيهما، وقرأ فيهما ]قل هو الله أحد[ و ]قل أعوذ برب الفلق[ و ]قل أعوذ برب الناس[، ثم مسح بهما ما استطاع من جسده، بدأ بهما على رأسه ووجهه وما أقبل من جسده، يفعل ذلك ثلاث مرات. . الترمذي (৩৩২৪)

‘নবীজি (সা.) যখন প্রতি রাতে নিজ বিছানায় যেতেন দুই হাতের কবজি পর্যন্ত একত্রিত করতেন অতঃপর তাতে ফুঁ দিতেন এবং সূরা এখলাস, সূরা ফালাক ও সূরা নাস পড়তেন। অতঃপর দুই হাত যথা সম্ভব সমস্ত শরীরে মলে দিতেন। মাথা ,চেহারা এবং শরীরের সামনের অংশ থেকে শুরু করতেন। এরূপ পরপর তিনবার করতেন।’ [তিরমিজী, হাদীস নং: ৩৩২৪]

৩. ঘুমের দুআটি পড়া।
ঘুমের দুআঃ
اللهم باسمك أموت وأحيا
উচ্চারণঃ
আল্লাহুম্মা বিসমিকা আমূতু ওয়া আহইয়া।
অর্থঃ
হে আল্লাহ আপনার নামে মৃত্যবরণ করলাম এবং আপনার নামেই জীবিত হব।

৪. নিম্নোক্ত দোআটি পড়া।
«اللهم أسلمت نفسي إليك، وفوّضت أمري إليك، وألجأت ظهري إليك، رغبة ورهبة إليك، لا ملجأ ولا مَنجى منك إلا إليك، آمنت بكتابك الذي أنزلت، ونبيّك الذي أرسلت».البخاري (৫৮৩৬)

উচ্চারণঃ আল্লাহুম্মা আসলামতু নাফসী ইলাইকা, ওয়া ফাওয়াদতু আমরী ইলাইকা, ওয়া আলজা’তু যহরী ইলাইকা, রুগবাতান ওয়া রুহবাতান ইলাইকা, লা মালজাআ ওয়া লা মানজা মিনকা ইল্লা ইলাইকা। আমানতু বিকিতাবিকাল্লাজী আনযালতা, ওয়া নাবিয়্যাকাল্লাজী আরসালতা।

অর্থঃ হে আল্লাহ! আমি নিজেকে আপনার কাছে সঁপে দিয়েছি। আমার বিষয় আপনার কাছে সোপর্দ করেছি। আমার পিঠ আপনার সাহায্যে দিয়েছি আপনার প্রতি আশা এবং ভয় নিয়ে, আশ্রয় নেয়ার ও আপনার শাস্তি থেকে বাঁচার মত জায়গা  আপনি ছাড়া আর কেউ নেই।  আমি ঈমান এনেছি আপনার অবতীর্ণ কিতাবের প্রতি এবং আপনার প্রেরিত নবীর প্রতি। [বুখারী, হাদীস নং: ৫৮৩৬]

এমএফ/

 

আমল / জীবন পাথেয়: আরও পড়ুন

আরও