নামাযে খুশুখুজু অর্জনে পাঁচ পরামর্শ

ঢাকা, বুধবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৯ | ২৯ কার্তিক ১৪২৬

নামাযে খুশুখুজু অর্জনে পাঁচ পরামর্শ

দিনা মুহাম্মদ বাসিউনি ৫:৩৪ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৮, ২০১৯

নামাযে খুশুখুজু অর্জনে পাঁচ পরামর্শ

খুশু তথা নামাযের মধ্যে গভীর মনোনিবেশ করা নামাযের গুরুত্বপূর্ণ এক অঙ্গ। মূলত নামাযের মধ্যে নামাজীর পূর্ণ মাত্রায় প্রবেশ করার অবস্থাই হল খুশু। আল্লাহ তাআলা বলেন,

قَدْ أَفْلَحَ الْمُؤْمِنُونَ . الَّذِينَ هُمْ فِي صَلَاتِهِمْ خَاشِعُونَ

“মুমিনগণ সফলকাম হয়ে গেছে, যারা নিজেদের নামাযে খুশু রক্ষা করে” (সূরা মুমিনুন, আয়াত: ১-২)

অনেক সময় আমরা বেখেয়ালে অন্যান্য কাজের মত কেবল রুটিনওয়ার্ক হিসেবে নামায আদায় করি। কিন্তু আমাদের উচিত নামাযকে উপলব্ধি করা এবং নামাযের মধ্যে আল্লাহর সামনে নিজেকে উপস্থাপন করা ও তাঁর সঙ্গে কথোপকথনকে উপভোগ করা।

খুশু নামাযীকে নামাযের মধ্যে আল্লাহর সঙ্গে গভীর সম্পর্কে আবদ্ধ হতে সাহায্য করে।

এখানে নামাযে খুশু অর্জনের জন্য পাঁচটি সহায়ক উপায় নিয়ে আলোচনা করা হলো।

এক. নামাযের মধ্যে কুরআন তিলাওয়াতের সময় লক্ষ্য রাখুন আপনি কী পাঠ করছেন। পাশাপাশি আপনার তিলাওয়াত করা অংশটুকুর অর্থ বোঝার চেষ্টা করুন। কুরআনে আমাদের জন্য পাঠানো আল্লাহর নির্দেশনা সম্পর্কে আমাদের যথাযথ জ্ঞান অর্জন করা প্রয়োজন। কুরআনের বিভিন্ন আয়াতের অর্থ বোঝার মাধ্যমে আমরা এই জ্ঞান অর্জন করতে পারি।

দুই. সূরা ফাতিহা সঠিকভাবে তিলাওয়াত করুন। যদি আমরা নামাযের মধ্যে যথাযথভাবে সূরা ফাতিহা তিলাওয়াত করি এবং এই সম্পর্কে চিন্তা করতে পারি, তবে এটি আমাদের সামনে নামাযের সারমর্মকে পূর্ণভাবে তুলে ধরে।

আমাদের প্রয়োজন সর্বোচ্চ সচেতন, আন্তরিক ও মনোযোগী থাকা যখন আমরা নামাযের মধ্যে তিলাওয়াত করি,

إِيَّاكَ نَعْبُدُ وإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ . اهدِنَــــا الصِّرَاطَ المُستَقِيمَ

“আমরা শুধু তোমারই ইবাদত করি এবং তোমার কাছেই সাহায্য চাই। আমাদের সরল পথে পরিচালিত করো।” (সূরা ফাতিহা, আয়াত: ৫-৬)

আমাদের দৈনন্দিন জীবনে আমরা বিভিন্ন বিষয়েই সিদ্ধান্ত নেই। এই সিদ্ধান্তগুলো সঠিক হওয়ার ক্ষেত্রে একমাত্র পূর্ণ জ্ঞানের অধিকারী সর্বশক্তিমান আল্লাহই আমাদের সাহায্য করতে পারেন।

সুতরাং, মন ও আত্মার সংযোগে গভীর আন্তরিকতার সঙ্গে তাঁর কাছে আমাদের সাহায্য প্রার্থনা করা উচিত, যাতে আমাদের জীবনে চলার পথে আমরা কল্যান অর্জন করতে পারি।

তিন. সেজদায় বা নামাযের পরে দুআ করুন। দুআ মূলত আল্লাহর সঙ্গে আমাদের এমন কথোপকথন যার মাধ্যমে আমরা আমাদের চাওয়া বিভিন্ন বিষয়কে তাঁর কাছে তুলে ধরি। আল্লাহর কাছে আমাদের চাওয়া বিষয়গুলোকে তুলে ধরতে আমাদের সত্যিকার আন্তরিকতার প্রয়োজন, যার মাধ্যমে আমরা খুশু অর্জনের পথে যেতে পারি।

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সা.) বলেছেন, “আল্লাহ সম্পর্কে সচেতন হও, তুমি আল্লাহকে তোমার সঙ্গেই পাবে। যখন তুমি কোন বস্তুর জন্য প্রার্থনা কর, আল্লাহর কাছেই প্রার্থনা করো। যদি তুমি সাহায্য চাও, আল্লাহর কাছেই সাহায্য চাও।” (তিরমিযী)

সুতরাং আপনার মাঝে খুশু তৈরির জন্য আল্লাহর কাছে আন্তরিকভাবে সাহায্য প্রার্থনা করুন।

চার. একই সূরা বারবার নামাযে তিলাওয়াত না করে বিভিন্ন সূরার তিলাওয়াতে নামায আদায় করুন। আমরা যতই ভিন্ন ভিন্ন সূরার সাহায্যে নামায আদায় করবো, আল্লাহর সঙ্গে আমাদের কথোপকথনের সুযোগ ততই বৃদ্ধি পাবে।

মূলত কুরআনের এই সূরা ও আয়াতের সাহায্যেই আল্লাহর সঙ্গে আমাদের কথোপকথন হয়। আমাদের হৃদয় দিয়ে এগুলো অনুধাবন করা উচিত, যাতে নামাযের মধ্যে যথাযথভাবে আল্লাহর সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ তৈরি হয়।

পাঁচ. নামাযে আল্লাহর সঙ্গে এমন ঘনিষ্ঠ বন্ধনে থাকুন যেমন করে আপনি আপনার ঘনিষ্ঠ বন্ধুর সঙ্গে থাকেন। এমনভাবে নামাযে ছুটে যান, যেভাবে আপনি আপনার কল্যাণকামী বন্ধুর কাছে আপনার সারাদিনের বিবরণ ও আপনার সমস্যা সম্পর্কে জানাতে যান।

ঘনিষ্ঠ বন্ধুর কাছে আমাদের আবেগ-অনুভূতিগুলো বলে আমরা হৃদয়ে শান্তি লাভ করি। তেমনিভাবে আল্লাহর কাছে আমাদের আবেগ-অনুভূতি ও আকাঙ্ক্ষাগুলো বলে আমরা শান্তি লাভ করতে পারি। কুরআনে আল্লাহ বলেছেন,

اللّهُ وَلِيُّ الَّذِينَ آمَنُواْ يُخْرِجُهُم مِّنَ الظُّلُمَاتِ إِلَى النُّوُرِ

“যারা ঈমান এনেছে, আল্লাহ তাদের অভিভাবক। তাদেরকে তিনি বের করে আনেন অন্ধকার থেকে আলোর দিকে।” (সূরা বাকারাহ, আয়াত: ২৫৭)

সুতরাং নামাযে এমনভাবে প্রবেশ করুন, যাতে আল্লাহ আপনাকে অন্ধকার থেকে বের করে আলোতে নিয়ে আসেন এবং সেই আলোতে আপনার জীবনের সকল সমস্যার সমাধান করে দেন।

এমএফ/

 

আমল / জীবন পাথেয়: আরও পড়ুন

আরও