সালামের শুদ্ধ-অশুদ্ধ উচ্চারণ, অর্থ ও মর্মোপলব্ধি

ঢাকা, সোমবার, ১৪ অক্টোবর ২০১৯ | ২৯ আশ্বিন ১৪২৬

সালামের শুদ্ধ-অশুদ্ধ উচ্চারণ, অর্থ ও মর্মোপলব্ধি

মুহাম্মাদ ফয়জুল্লাহ ৫:২৩ অপরাহ্ণ, জুলাই ২৯, ২০১৯

সালামের শুদ্ধ-অশুদ্ধ উচ্চারণ, অর্থ ও মর্মোপলব্ধি

সালাম একটি দুআ ও অভিবাদন। পাশাপাশি ইসলামের শেআর ও প্রতীক পর্যায়ের একটি আমল। এর সঠিক উচ্চারণের প্রতি গুরুত্ব দেয়া জরুরী। কমপক্ষে এতটুকু বিশুদ্ধ উচ্চারণ অবশ্যই জরুরী, যার দ্বারা অর্থ ঠিক থাকে। বলা ও লেখা উভয় ক্ষেত্রেই সঠিক উচ্চারণ ও সঠিক বানানের প্রতি খেয়াল রাখা কর্তব্য। নিম্নে পূর্ণাঙ্গ সালাম মূল আরবী, বাংলা উচ্চারণ ও অর্থসহ দেয়া হল–

আরবী উচ্চারণে সালাম : اَلسَّلَامُ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَةُ اللّٰهِ وَبَرَكَاتُه
বাংলা উচ্চারণ
: আসসালামু আলাইকুম, ওয়া রাহমাতুল্লাহি, ওয়া বারাকাতুহু।
অর্থ : আপনার উপর শান্তি, আল্লাহর রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক।

আরবী উচ্চারণে সালামের জবাব : وَعَلَيْكُمُ السَّلَامُ وَرَحْمَةُ اللهِ وَبَرَكَاتُهُ
বাংলা উচ্চারণ :
ওয়া আলাইকুমুস সালাম, ওয়া রাহমাতুল্লাহি, ওয়া বারাকাতুহু।
অর্থ : আপনার উপরেও শান্তি, আল্লাহর রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক।

উল্লেখ্য যে, ‘আলাইকুম’ শব্দের প্রথম অক্ষরটি হলো আরবী হরফ ‘ع’। বাংলা লেখায় এই হরফের যথাযথ উচ্চারণের প্রতিফলন সম্ভব নয়। শুধু অবিকল্প হিসেবে ‘আ’ বর্ণ দিয়ে প্রতিবর্ণায়ন করা হয়েছে। তবে, অনেক লেখক ‘আ’ বর্ণটির পেছনে আরবী হরফ ‘ع’ বোঝাতে ‘আ’ বর্ণের শুরুতে একটি ঊর্ধ্বকমা (‘) দিয়ে থাকেন।

উপরোল্লিখিত সঠিক উচ্চারণ ছাড়া ‘স্লামালিকুম’, ‘আস্লামালেকুম’ ‘সামাইকুম’সহ যতরকম ভুলভাল উচ্চারণ প্রচলিত আছে, তা সজ্ঞানে বর্জন করা উচিত। কেননা এসব ভুল উচ্চারণ কখনো সালামের অর্থকে পরিবর্তন করে দেয় অথবা সালামকে করে দেয় নিরর্থ।

এমনকি কখনো এতে আপনার সালাম অভিবাদনের পরিবর্তে অভিসম্পাত হয়ে ওঠে। যেমন ‘আসসামু আলাইকুম’ (السام عليكم) বা আরও ভুল উচ্চারণে ‘আসসামালাইকুম’ অর্থ হয়–‘আপনার মৃত্যু হোক’। কেননা আরবী শব্দ ‘سام’ অর্থ মৃত্যু। এই শব্দে স্বয়ং রাসুলুল্লাহ (সা.)কে এক ইয়াহুদী অভিসম্পাত করেছিল। (দেখুন : সহীহ বুখারী, হাদীস নং:৫৯৪৯)

অর্থ ও মর্মোপলব্ধির সঙ্গে হোক সালামের আদান-প্রদান 
আরব-অনারব নির্বিশেষে সকল মুসলিমই আরবীতে সালাম দেয়। সালাম মূলত দুআ। আমরা যাকে সালাম দিচ্ছি, তার জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে শান্তি বর্ষণের জন্য দুআ করছি। কিন্তু অর্থ না বুঝে সালামের প্রচলনের কারণে এর মধ্যকার আবেগটা হারিয়ে কালচারের অংশ হয়ে গেছে। ফলতঃ অনেকেই এটাকে হাই-হ্যালোর একটি বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করে।

অতএব, এখন থেকে যখনই কাউকে সালাম দিব, এর অর্থ অন্তরে অনুভব করে যথাসম্ভব শুদ্ধোচ্চারণে দিব ইনশাআল্লাহ। আল্লাহ তাওফিক দান করুন।

এমএফ/

 

আমল / জীবন পাথেয়: আরও পড়ুন

আরও