জামাতে নামায পড়ার পাঁচ উপকারিতা

ঢাকা, ২২ জুন, ২০১৯ | 2 0 1

জামাতে নামায পড়ার পাঁচ উপকারিতা

পরিবর্তন ডেস্ক ৫:১৮ অপরাহ্ণ, জুলাই ১০, ২০১৯

জামাতে নামায পড়ার পাঁচ উপকারিতা

পাঁচ ওয়াক্ত ফরয নামায ইসলামের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ আমল। পাশাপাশি একাকি নামায আদায়ের চেয়ে জামাতে নামায আদায়ের গুরুত্ব এবং এর কল্যানকর প্রভাব অনেক বেশি। রাসূল (সা.) আমাদেরকে পাঁচ ওয়াক্ত নামায জামাতে আদায়ের জন্য জোর তাগিদ প্রদান করেছেন।

এখানে জামাতে নামায আদায়ের বিপুল কল্যানকর প্রভাব, প্রতিদান ও উপকারিতা থেকে সংক্ষেপে পাঁচটি সম্পর্কে আলোচনা করা হল।

১. সাতাশ গুণ বেশি প্রতিদান
রাসূল (সা.) থেকে সহীহ হাদীসের সূত্রে বর্ণনা করা হয়েছে, জামাতে নামায আদায়ের মাধ্যমে একাকি নামাযের তুলনায় সাতাশ গুণ অধিক প্রতিদান পাওয়া যাবে। অপর এক বর্ণনায় পঁচিশ গুণ অধিক প্রতিদানের কথা বলা হয়েছে।

সাতাশ বা পঁচিশ যেটিই হোক না কেন, একাকি নামাযের তুলনায় জামাতে নামায অধিক গুরুত্বপূর্ণ।

২. ফেরেশতাদের দুআ
হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সা.) বলেছেন, “তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি অজু অবস্থায় তার নামায আদায়ের স্থানে যতক্ষণ অবস্থান করে, ফেরেশতারা তার জন্য ততক্ষণ পর্যন্ত দুআ করতে থাকে। তারা দুআ করে: হে আল্লাহ! তাকে ক্ষমা করুন। হে আল্লাহ! তাকে দয়া করুন।” (বুখারী)

সুতরাং, আপনি যদি শুধু অজু করে মসজিদেও অবস্থান নেন, ফেরেশতারা আপনার জন্য দুআ করতে থাকবে।

৩. মুনাফেকি থেকে সুরক্ষা
হযরত আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সা.) বলেছেন, “মুনাফেকদের জন্য সবচেয়ে কঠিন নামায হল এশা ও ফজরের নামায। যদি তারা এর প্রতিদান সম্পর্কে জানতো, তবে হামাগুড়ি দিয়ে হলেও তারা নামাযে এসে অংশগ্রহণ করতো।” (বুখারী)

এই হাদীসে রাসূল (সা.) মূলত আমাদের সতর্কতা দিয়ে বলেছেন, এই দুই ওয়াক্তের নামায যাদের পক্ষে আদায় করা কঠিন, তাদের মনে মুনাফেকির প্রভাব আছে। সুতরাং এই দুই নামায জামাতে আদায়ের মাধ্যমে আমরা আমাদের মনকে মুনাফেকি থেকে মুক্ত করতে পারি।

৪. পূর্ণ রাত নামায আদায়ের সওয়াব
রাসূল (সা.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি জামাতের সাথে এশার নামায আদায় করবে, সে যেনো অর্ধেক রাত নামাযে অতিবাহিত করলো। আবার যে ব্যক্তি এশা ও ফজরের নামায জামাতের সাথে আদায় করলো, সে যেনো সম্পূর্ণ রাত নামাযে অতিবাহিত করলো।” (তিরমিজি)

সুতরাং, জামাতে এশা ও ফজর আদায়ের মাধ্যমে আমরা পূর্ণ রাত নামায আদায়ের মত বিশাল প্রতিদান আল্লাহর পক্ষ থেকে পেতে পারি।

৫. গুনাহ মাফ ও মর্যাদা বৃদ্ধি
হযরত আবু সাইদ খুদরী (রা.) থেকে বর্ণিত, একবার রাসূল (সা.) তার সমবেত সাহাবাদের প্রশ্ন করেন, “আমি কি তোমাদের এমন একটি কাজের কথা বলবো না, যার মাধ্যমে আল্লাহ তোমাদের গুনাহকে মাফ করবেন এবং তোমাদের নেকিকে বাড়িয়ে দিবেন?”

সকলে বলল, “জি অবশ্যই, হে আল্লাহর রাসূল!”

রাসুল (সা.) বললেন, “প্রতিবন্ধকতা থাকলেও যথাযথভাবে অজু করে পায়ে হেটে মসজিদে গিয়ে জামাতে নামায আদায়ের জন্য অপেক্ষা করতে থাকা।” (ইবনে মাযাহ)

সুতরাং, জামাতে নামায আদায়ের মাধ্যমে আমরা আমাদের গুনাহগুলোকে আল্লাহর কাছ থেকে ক্ষমা করিয়ে নিতে এবং তার দৃষ্টিতে আমাদের মর্যাদাকে বাড়িয়ে নিতে পারি।

রাব্বুল আলামিন আমাদেরকে পাঁচ ওয়াক্ত নামায যথা সময়ে মসজিদে উপস্থিত হয়ে জামাতের সঙ্গে আদায় করার তাওফিক দান করুন। আমীন।

এমএফ/

 

আমল / জীবন পাথেয়: আরও পড়ুন

আরও