গুনাহে লিপ্ত? তবু নামায আদায় করুন

ঢাকা, ২২ জুন, ২০১৯ | 2 0 1

গুনাহে লিপ্ত? তবু নামায আদায় করুন

পরিবর্তন ডেস্ক ২:৫১ অপরাহ্ণ, জুন ৩০, ২০১৯

গুনাহে লিপ্ত? তবু নামায আদায় করুন

নামায ইসলামের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ আমল। একজন মুমিন এবং একজন কাফেরের মধ্যে প্রধান পার্থক্যই হল নামায। সুতরাং আপনি যখন যে পরিস্থিতিতেই থাকুন না কেন, নামায আদায় করুন। যত বড় গুনাহই করুন না কেন  অথবা নামায আদায় না করতে আপনার যত বড় অজুহাতই থাকুক না কেন, নামাযকে ছাড়বেন না।

কোন বোন যদি বলে, ‘ভাই, আমি পর্দা করি না’, তবু তাকে বলব আপনি নামায পড়ুন। সে যদি বলে, ‘আমার পোশাকও শালীন নয়’, তবু তাকে আবার বলব আপনি নামায আদায় করুন।

কোন ভাই যদি বলেন, তিনি মদ পান করেন এবং মাদকাসক্ত। পাশাপাশি তার মেয়ে বন্ধুও আছে। তখনও তাকে উপদেশ দিব আপনি নামায আদায় করুন এবং কখনও অন্তত নামায ছাড়বেন না।

আপনার জীবনে যাই ঘটুক না কেন, কখনোই নামায ছেড়ে দেবেন না।

কিন্তু কী করে আমরা একই সাথে একদিকে নামায আদায় করবো আবার অন্যান্য বিভিন্ন গুনাহে লিপ্ত থাকবো? এটি তো সম্পূর্ণভাবে অসম্মানজনক ও মুনাফেকি কাজ।

হতাশ হওয়ার কিছু নেই। আমরা কেউই নিখুঁত নই। আমাদের প্রায় সবারই গুনাহ আছে, আমরা সকলেই জীবনে চলার পথে কিছু না কিছু ত্রুটি করে ফেলি। ঠিক এই কারণেই আমাদের উচিত নিয়মিত নামায আদায় করা, যেনো আল্লাহ আমাদেরকে আমাদের ত্রুটি ও গুনাহ থেকে মুক্ত করেন।   

কখনো কখনো কোন কোন লোক বলেন, “দেখুন, আমার এখন এই অবস্থা এবং এই এই সমস্যা আছে। এ সকল অবস্থা ও সমস্যা কাটিয়ে উঠলেই আমি নিয়মিত নামায আদায় করা শুরু করবো, ইনশাআল্লাহ।”

আপনি যদি নামায আদায় না করেন, তবে কিভাবেই বা আপনার সমস্যা সমাধানের জন্য শক্তি অর্জন করবেন? কিভাবে নিজেকে খারাপ সময়টা মোকাবেলার জন্য তৈরি করবেন? 

আপনার এবং আপনার আল্লাহর মাঝে কাউকে আসতে দিবেন না। আপনার জীবনে যাই হোক না কেন, নামায আদায় করুন এবং যেখানেই থাকুন না কেন। 

কেউ হয়তো আপনাকে এসে বলতে পারে, “তুমি একটা ভন্ড! পর্দা কর না আবার নামায আদায় কর!”

শান্ত ভাবে তাকে বলুন, “তোমাকে অনেক ধন্যবাদ! হ্যাঁ আমি ভন্ড, কিন্তু আমার নামায আমার আর আমার আল্লাহর মধ্যকার বিষয়, সেখানে কারো কিছু বলার নেই।”

হযরত বুরাইদা ইবনে হুসাইব (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,

العهد الذي بيننا وبينهم الصلاة فمن تركها فقد كفر

“আমাদের (মুমিন) এবং তাদের (কাফের) মধ্যে পার্থক্যকারী বিষয় হল নামায। সুতরাং যে নামায ছেড়ে দিল, সে কুফর করলো।” (আহমাদ, আবু দাউদ, তিরমিযী, ইবনে মাজাহ)

কিয়ামতের দিন সর্বপ্রথম বান্দাকে যে বিষয়ে প্রশ্ন করা হবে, তা হল তার নামায। যদি আপনি এই ধাপ সহজে পার করতে পারেন, তবে বাকী ধাপগুলো পার করাও আপনার জন্য সহজ হবে। কিন্তু এই ধাপে যদি আপনি ব্যর্থ হন, বাকি ধাপগুলোও আপনার জন্য কঠিন হবে।

সুতরাং নামায আদায়ের মাধ্যমে আল্লাহর ভালোবাসা অর্জন করুন, তার করুণা ও ক্ষমা অর্জনের চেষ্টা করুন।

ধরুন, আল্লাহ আপনার বন্ধু। যদি আসমান-জমীনের মালিক আল্লাহ আপনার বন্ধু হয়ে যান, তবে আপনার শক্তির কথা চিন্তা করুন। কেউই আপনাকে অপদস্থ করতে পারবে না, দমাতেও পারবে না। এছাড়া আল্লাহ তাআলা তো বলেছেন,

إِنَّ الصَّلَاةَ تَنْهَىٰ عَنِ الْفَحْشَاءِ وَالْمُنكَرِ

“নিশ্চয়ই নামায অশ্লীল ও গর্হিত কার্য থেকে বিরত রাখে।” সূরা আনকাবুত, আয়াত: ৪৫

অতএব, আশা করা যায়, যে গুনাহগুলোতে আপনি লিপ্ত রয়েছেন এবং মনে করছেন কখনোই এই গুনাহগুলো ছাড়তে পারবেন না। কারণ এর মধ্য দিয়ে আপনার জীবনকে উপভোগ করছেন। ইনশাআল্লাহ একদিন আপনি এসব ঘৃণাভরে পরিত্যাগ করবেন যদি আপনি নামায আদায়ে দৃঢ় থাকেন।

নামায আদায়ের মধ্য দিয়ে আপনার জীবনে যাই আসুক না কেন, আপনাকে আল্লাহ থেকে ফিরিয়ে নিতে কাউকেই অনুমতি দেবেন না। যখন আল্লাহর সামনে আপনার মাথাকে সিজদাবনত করবেন, তার ক্ষমা প্রার্থনা করুন, তার কাছে সাহায্য ও দিকনির্দেশনা কামনা করুন। নামাযের মধ্য দিয়ে আপনি অন্তরে এক নতুন সুখ খুঁজে পাবেন।

রাব্বুল আলামিন আমাদেরকে নামায প্রতিষ্ঠাকারীদের অন্তর্ভুক্ত করুন। আমীন।

এমএফ/

 

আমল / জীবন পাথেয়: আরও পড়ুন

আরও