নিজের ও সন্তানের নিরাপত্তায় নবীজির পাঁচ শিক্ষা মেনে চলুন

ঢাকা, রবিবার, ২০ অক্টোবর ২০১৯ | ৪ কার্তিক ১৪২৬

নিজের ও সন্তানের নিরাপত্তায় নবীজির পাঁচ শিক্ষা মেনে চলুন

পরিবর্তন ডেস্ক  ৩:২৪ অপরাহ্ণ, জুন ২৪, ২০১৯

নিজের ও সন্তানের নিরাপত্তায় নবীজির পাঁচ শিক্ষা মেনে চলুন

অনেক বাবা-মাকেই সন্তানের নিরাপত্তা নিয়ে খুব চিন্তিত থাকতে দেখা যায়। এই চিন্তা অমূলক নয়। কারণ আমাদের সন্তানেরা আমাদের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে পবিত্র আমানত। এই আমানত রক্ষার জন্য শুধু তাদের শারীরিক, বুদ্ধিবৃত্তিক ও আত্মিক চাহিদা পূরণ করেই আমাদের দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। বরং একইসাথে আমাদের উচিত তাদেরকে সকল প্রকার বিপদাপদ ও ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষা করা। 

আর দুনিয়ার সকল ক্ষয়ক্ষতি ও বিপদাপদ থেকে সন্তানকে রক্ষা করা সকল পিতা-মাতারই মৌলিক দায়িত্ব। 

রাসূল (সা.) বলেছেন, “তোমাদের প্রত্যেকেই একজন রাখাল এবং সকলেই তাদের অধীনের বিষয়বস্তুর জন্য দায়িত্বশীল। একজন ব্যক্তি তার নিজের পরিবারের জন্য রাখাল এবং তাদের উপর সে দায়িত্বশীল।” (বুখারী ও মুসলিম)

দৃশ্যমান বা অদৃশ্য সকল প্রকার বিপদ থেকে আমাদের সন্তানদের রক্ষা করার জন্য আল্লাহর রাসূল (সা.) আমাদের উপদেশ দিয়েছেন।

এখানে সন্তানদের বিপদ থেকে রক্ষার জন্য রাসূল (সা.) এর শেখানো পদ্ধতিসমূহের মধ্যে পাঁচটি পদ্ধতি আলোচনা করা হল।

১. দুআ করা

হযরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (সা.) প্রায়শই হযরত হাসান (রা.) এবং হযরত হুসাইন (রা.) এর নিরাপত্তার জন্য নিম্নের দুআটি করতেন,

أُعيـذُكُمـا بِكَلِـماتِ اللهِ التّـامَّة، مِنْ كُلِّ شَيْـطانٍ وَهـامَّة، وَمِنْ كُـلِّ عَـيْنٍ لامَّـة

উচ্চারণ: উঈযুকুমা বিকালিমা-তিল্লাহিত তা-ম্মাতি, মিন কুল্লি শাইত্বানিন ওয়া হা-ম্মাতিন, ওয়া মিন কুল্লি আইনিন লাম্মাতিন।

অর্থ: আমি তোমাদের জন্য আল্লাহর কালেমার সাহায্যে আশ্রয় চাচ্ছি সকল প্রকার শয়তান, হিংস্র প্রাণী এবং বদনজরের বিপদ থেকে। (বুখারী, হাদীস নং: ৩৩৭১)

সুতরাং সকাল-সন্ধ্যা, ঘরে-বাইরে আপনার সন্তানের নিরাপত্তার জন্য দুআ করুন।

২. কুরআনের শেষ তিন সূরা ও আয়াতুল কুরসী পাঠ

কুরআনের সর্বশেষ তিনটি সূরা তথা সূরা ইখলাস, সূরা ফালাক ও সূরা নাস গুরুত্বপূর্ণ তিনটি সূরা। রাসূল (সা.) প্রতি রাতে এই তিনটি সূরা পাঠ করে ঘুমাতে যেতেন। হযরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত আছে,

“রাসূল (সা.) যখন রাতে ঘুমাতে যেতেন, তখন তিনি তার হাতকে মুঠো করে তাতে সূরা ইখলাস, সূরা ফালাক ও সূরা নাস তিন বার করে পাঠ করে তাতে ফুঁক দিতেন। তারপর তিনি তার সারা শরীরের হাত বোলাতেন। (বুখারী)

ইবনে আবিস আল-জুহানী (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সা.) তাকে বলেন, “হে ইবনে আবিস! আমি কি তোমাকে জানাবো নিরাপত্তাকামী ব্যক্তির উত্তম নিরাপত্তার কাজ করা বস্তু কি?” ইবনে আবিস (রা.) বলেন, “অবশ্যই হে আল্লাহর রাসূল!” রাসূল (সা.) উত্তরে বলেন, “কুল আউযু বি-রাব্বিল ফালাক ও কুল আউযু বি-রাব্বিন নাস, এই দুইটি সূরা।” (নাসায়ী)

এমনিভাবে সূরা বাকারার ২৫৫ নং আয়াত তথা আয়াতুল কুরসীও একই উদ্দেশ্যে পড়া যেতে পারে। হযরত আবু হুরাইরা (রা.) এর বর্ণিত হাদীসে এসেছে, ঘটনাক্রমে একবার শয়তানের সাথে তার সাক্ষাত হওয়ার পর শয়তান তাকে বলে, আয়াতুল কুরসী পাঠের মাধ্যমে আল্লাহ বান্দার জন্য একজন ফেরেশতাকে নিযুক্ত করেন এবং কোন শয়তানই তার কাছে আসতে পারে না।

পরে তিনি রাসূল (সা.) কে এই বিষয় সম্পর্কে বললে রাসূল (সা.) বলেন, “যদিও সে নিজে পাকা মিথ্যাবাদী, তথাপি সে তোমাকে সত্য বলেছে।” (বুখারী ও মুসলিম)

সুতরাং আপনার শিশুর নিরাপত্তার জন্য আয়াতুল কুরসী এবং সূরা ইখলাস, সূরা ফালাক ও সূরা নাস পাঠ করে নিয়মিত ফুঁক দিন।

৩. সূরা বাকারা পাঠ

যে বাড়িতে সূরা বাকারা পাঠ করা হয় সেই বাড়ি থেকে শয়তান দূরে থাকে। হযরত আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সা.) বলেছেন, “তোমাদের বাড়ী-ঘরকে কবরে পরিণত করে ফেলোনা। যে বাড়ীতে সূরা বাকারা পাঠ করা হয়, শয়তান সেই বাড়ী থেকে পালায়।” (মুসলিম)

সাহল ইবনে সাদ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সা.) বলেছেন, “প্রতিটি বস্তুর যেমন একটি চূড়া থাকে, সূরা বাকারাও কুরআনের তেমন একটি চূড়া । যে ব্যক্তি তার বাড়ীতে রাতে সূরা বাকারা পাঠ করে, শয়তান তার বাড়ীতে তিন রাত প্রবেশ করে না। আবার যে ব্যক্তি তার বাড়ীতে দিনে সূরা বাকারা পাঠ করে, শয়তান তার বাড়ীতে তিন দিন প্রবেশ করে না।” (তাবারানী)

৪. টয়লেটের শিষ্ঠাচার পালন

টয়লেট একটি নোংরা স্থান এবং নোংরা হওয়ার কারণে এখানে শয়তান অবস্থান করতে পারে। সুতরাং টয়লেটে  আমাদের উপর শয়তানের নোংরা আক্রমণ ও প্রভাব বিস্তারের বড় সুযোগ রয়েছে।

টয়লেটে আমাদের প্রয়োজন পূরণের সময় শয়তানের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে নিরাপদে থাকার জন্য তাই রাসূল (সা.) আমাদের যথাযথ শিষ্ঠাচারের শিক্ষা দিয়েছেন। টয়লেটে প্রবেশের পূর্বে আমাদের পড়া উচিত,

ﺍَﻟﻠَّﻬُﻢَّ ﺍِ ﻧِّﻰْ ﺍَﻋُﻮْﺫُ ﺑِﻚَ ﻣِﻦَ ﺍﻟْﺨُﺒْﺚِ ﻭَﺍﻟْﺨَﺒَﺎﺋِﺚِ

অর্থ: আল্লাহর নামে, আল্লাহ সকল প্রকার নোংরা ও নোংরা কাজকারী থেকে তোমার কাছে আশ্রয় চাই। (সহীহ মুসলিম, হাদীস নং: ৩৭৫)

প্রয়োজন পূরণের পর টয়লেট থেকে বের হওয়ার সময় বলতে হবে,

ﻏُﻔْﺮَﺍﻧَﻚَ

অর্থ: হে আল্লাহ, তোমার ক্ষমাপ্রার্থী।

আমাদের সন্তানদের শৈশব থেকেই এই দুআসহ আরো বিভিন্ন দুআ শিক্ষা দেওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি তারা যাতে ভুলে না যায়, সেজন্য নিত্যদিনের দুআর ঘরের বিভিন্ন স্থানে টানিয়ে রাখা যেতে পারে।

৫. মাগরিবের সময় সতর্কতা

মাগরিবের সময় আমাদের শিশু সন্তানদের ঘরের বাইরে যেতে দিতে রাসূল (সা.) নিরুৎসাহিত করেছেন। হযরত জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সা.) বলেছেন,

“যখন রাত ঘনিয়ে আসে, তোমাদের শিশুদের ঘরের ভেতর রাখো। কেননা শয়তান এসময় বেরিয়ে আসে। রাতের কিছু সময় পার হওয়ার পর তোমরা তাদেরকে ছাড়তে পারো।” (বুখারী ও মুসলিম)

সুতরাং এসময় আমাদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত, যাতে শয়তান আমাদের সন্তানদের কোন প্রকার ক্ষতি করতে না পারে।

আল্লাহ আমাদের সন্তানদের সকল প্রকার বিপদাপদ থেকে হেফাজত করুন।

এমএফ/

 

আমল / জীবন পাথেয়: আরও পড়ুন

আরও