রমযানের দ্বিতীয়ার্ধে যেভাবে ইবাদতে পুনরুদ্যম হবেন

ঢাকা, সোমবার, ১৪ অক্টোবর ২০১৯ | ২৯ আশ্বিন ১৪২৬

রমযানের দ্বিতীয়ার্ধে যেভাবে ইবাদতে পুনরুদ্যম হবেন

অনুবাদ: রাফে সালমান রিফাত ৩:৫২ অপরাহ্ণ, মে ২১, ২০১৯

রমযানের দ্বিতীয়ার্ধে যেভাবে ইবাদতে পুনরুদ্যম হবেন

রমযানের প্রথম সপ্তাহের পর এ মাসকে নিয়ে আমাদের প্রবল উদ্দীপনায় ভাটা পড়তে থাকে। নামায আদায়ে বিলম্ব করতে শুরু করি। নামাযে আমাদের মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে যায়। এবং কোনো না কোনো ভাবে কুরআন তিলাওয়াতে আমাদের মনোযোগ ধরে রাখার আগ্রহটাও কমে যেতে থাকে।

আমি মনে করি, এটা স্মরণে রাখা গুরুত্বপূর্ণ যে আমরা শুধু আধ্যাত্মিকভাবে উন্নত হওয়ার দিকেই ছুটছি না, আমরা বরং মহান আল্লাহকে পাওয়ার জন্যে দৌঁড়াচ্ছি যিনি একমাত্র সত্য প্রতিপালক।

সুতরাং, আপনার নিয়তকে পুনরায় সাজান। যে কোনো মুসলিমের জন্যই হতাশ হয়ে যাওয়া স্বাভাবিক যখন রমযান শেষে তার আধ্যাত্মিকতার উচ্চতায় ছাপিয়ে যাওয়ার যে উদ্দীপনা তা ক্ষয়ে যেতে থাকবে। ‘উচ্চ অবস্থান’ আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি নিয়ামত যখন কেউ আল্লাহকে সন্ধান করে। কিন্তু যেই মুহুর্তেই আপনি এটা বন্ধ করবেন সেই মুহুর্ত থেকেই আপনার আধ্যাত্মিক গতি নীচের দিকে নামতে থাকবে।

ইসলামে আমরা কোনো ভুল করলে বা আমলে কোনো কমতি হলে সর্বদাই আল্লাহর দিকে ফেরার সুযোগ দিয়ে আল্লাহ সবসময়ই আমাদের জন্য করুণার এক অব্যাহত ধারা সৃষ্টি করে রেখেছেন। আমাদের মনে রাখা উচিত যে, আমরা মানুষ এবং ভুল করাই আমাদের প্রকৃতি। শুধুমাত্র আল্লাহই নির্ভুল। 

সুতরাং, অর্ধ রমযান চলে গেলেও আমাদের জন্য সুযোগ এখনও নিঃশেষ হয়ে যায়নি।

আমাদের আবেগকে আবার জাগিয়ে তুলে আমরা কীভাবে ইবাদতে পুনরুদ্যমী হতে পারি, সে সম্পর্কে নীচে কিছু পরামর্শ উল্লেখ করা হলো।

১. সমস্যা খুঁজে বের করুন

আধ্যাত্মিকভাবে রুক্ষতার যে সমস্যা তাকে নির্ণয় করতে হলে আমাদেরকে আগে জানতে হবে এটা কী। এখানে কিছু লক্ষণ তুলে ধরা হলো-

আপনার ভেতর থেকে আত্মিক আবেগ যে মুছে যাচ্ছে তা ধরতে ব্যর্থ হওয়া
আল্লাহই যে আমাদের সমস্যার সমাধানদাতা এই বিষয়টিকে উপেক্ষা করা
আল্লাহর সাথে যোগাযোগে অক্ষমতা
শূন্যতা অনুভব করা এবং আমাদের অন্তরে রুক্ষতা গ্রাস করা

২. দুআ করুন

মনে রাখুন যে, মহান আল্লাহই আপনাকে রমযানের প্রথম সপ্তাহে সুন্দর অভ্যাসগুলো তৈরী করতে শক্তি ও সক্ষমতা দিয়েছেন। অতএব, শুধু তিনিই আপনার মধ্যে পুরোটা মাস জুড়ে এটা জারি রাখতে পারেন। আল্লাহকে ডাকুন। শুধু এই অভ্যাস বজায় থাকুক এজন্যই নয়, বরং তিনি যেন আপনার এই প্রচেষ্টাকে কবুল করে নেন এজন্যেও। এবং এটা যেন তার নৈকট্য লাভের একটি উপায় হয়।

আল্লাহর রহমতে অন্তরের রুক্ষতার জন্য আপনি কিছু করতে পারেন। রমযানের প্রথম সপ্তাহে আপনার আত্মিক সজীবতা যে অবস্থানে ছিল আপনি তা বজায় রাখতে পারেন।

উদ্দীপনার জন্য আপনি সপ্তাহের যে সময়ে আল্লাহর কাছাকাছি নিজেকে অনুভব করেছিলেন সেই সময়টাকে মনে আনার চেষ্টা করুন।

৩. সাহায্য প্রার্থনা করুন

অন্তর যখন অনেক বেশি কঠিন হয়ে যায় তখন অন্যদের থেকে সাহায্য নেওয়ার প্রয়োজন হয়। কোনো বন্ধুর কাছে সাহায্য চান আপনার ঈমানের লেভেলকে বৃদ্ধির জন্য। বন্ধুরা আছেই বা কীসের জন্য?

খুব কাছের বন্ধু বা পরিবারের সদস্যের সহায়তা নিন, যার ব্যাপারে আপনি মনে করেন যে টার সাথে আপনার রমযানের ইবাদাত সংক্রান্ত ব্যাপার আলোচনা করা যায়। তাদেরকে বলুন, তারা যেন আপনাকে উৎসাহিত করে যখন তারা নিজেরাও ইবাদত করে।

৪. বুক ভরে নিঃশ্বাস নিতে সময় নিন

আমরা যখন গাড়ির গ্যাস ট্যাঙ্ক পূর্ণ করতে যাই আমাদেরকে ইঞ্জিন বন্ধ করতে হয়। বলছি না যে আমাদের আত্মাকে রিচার্জ করার জন্য আমাদেরকে সমস্ত কাজকর্ম বাদ দিতে হবে এবং এক ঘন্টা ধরে অনড় অবস্থায় বসে থাকতে হবে। কিন্তু আমি সাজেস্ট করবো কমপক্ষে আমাদের কিছু কাজ থেকে ১০ মিনিটের জন্য হলেও অবসর নেওয়া প্রয়োজন।

মনে রাখুন যে আল্লাহর নিকটবর্তী হতে আপনার অন্তরকে আগে মুক্ত করা প্রয়োজন। হৃদয়ের রুক্ষতার এই অবস্থায় বেশি বেশি রবের প্রশংসা করুন। তার প্রতি এজন্য কৃতজ্ঞতা পোষণ করুন যে, তিনি আপনাকে রমযানের প্রথম দিনগুলোতে ইবাদতে তাকওয়ার অনুভূতির সাথে ভালো থাকার তাওফীক দিয়েছেন।

এমনকি যখন সময়টা আত্মিকভাবে খুব একটা ভালো যাচ্ছে না তখনও আপনার অনুভূতিকে স্রষ্টার প্রশংসা এবং কৃতজ্ঞতা জানানো হতে দূরে সরতে দেননি।

স্মরণ করুন, যখন সময়টা ভালো যায় তখন আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করা সহজ থাকে। তথাপি, সত্যিকার বিশ্বাসীরা পরীক্ষার সময়েও তাঁর শুকরিয়া আদায় করে।

৫. কৃত ভুল এবং অবস্থার অবনতির জন্য হতাশ হবেন না

ইসলামে তাওবার সৌন্দর্য হচ্ছে, মহান আল্লাহ আমাদেরকে অনুচিত কাজের পরেও সবসময়ই তার দিকে ফিরে যাওয়ার সুযোগ রেখে এক সুন্দর নিয়ামতে মহিমান্বিত করেছেন। আমাদের মনে রাখা উচিত যে আমরা মানুষ এবং ভুল করাটাই আমাদের জন্য স্বাভাবিক। এই মাসের বাকি সময়টা আমাদের বেশি বেশি ভালো কাজ করার জন্য উদগ্রীব থাকা উচিত। হতে পারে এই ভালো কাজগুলোই আমাদের ফেলে আসা দিনগুলোর ক্ষতি পুষিয়ে দিবে।

ভুলে যাবেন না রমযান হচ্ছে সেই মাস, যে মাসে আমাদের অপরাধ ক্ষমা করে দেওয়া হয়, আমাদের প্রার্থনার জবাব দেওয়া হয় এবং আমাদের ভালোকাজকে বহুগুণে বাড়িয়ে দেওয়া হয়। এই সুবিধা যদি আমরা পূর্ণরূপে আদায় করে নিতে না পারি তবে আমাদের জন্য তা খুবই আফসোসের বিষয়।

একটি গুরুত্বপূর্ণ হাদীস-

হযরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত,

عن عائشة - رضي الله عنها - قالت: سئل النبي - صلى الله عليه وسلم -: أي الأعمال أحب إلى الله؟ قال: أدومها وإن قل. وقال: اكلفوا من الأعمال ما تطيقون

“রাসুলুল্লাহ (সা.) কে জিজ্ঞাসা করা হল, কোন আমল আল্লাহর কাছে অধিক প্রিয়? রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘যে আমল নিয়মিত সবসময় করা হয়, যদিও টা হয় অল্প। তোমরা যতটুকু সক্ষম হও ভালো কাজ করতে থাকো।” –বুখারী, হাদীস নং: ৬৪৬৫

রাব্বুল আলামিন আমাদেরকে কল্যাণের পথে অগ্রগামী হওয়ার এবং নেক আমলে নিয়মানুবর্তিতা বজায় রাখার তাওফিক দান করুন। তিনি আমাদের রোযা এবং এমাসে অধিক পরিমাণে নেক আমলের ইচ্ছাগুলোকেও কবুল করে নিন। আমীন।

এমএফ/

আরও পড়ুন...
রমযানে যে ৪টি দুআ বেশি বেশি করতে হয়
অনন্য ফযীলতের রমাদান মাস
রমযান যাদের আল্লাহর সাথে মিলিয়ে দেয়
রোযা ও রমযান : ফাযায়েল ও জরুরি মাসায়েল
হাদিস থেকে রমযানুল মোবারকের বিশটি স্পেশাল আমল
ইতিকাফ সৌভাগ্যের সোপান
রমযানের রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের হাদিসটি শুদ্ধ নয়
রমযানের ২০টি স্পেশাল আমল জেনে নিন

 

আমল / জীবন পাথেয়: আরও পড়ুন

আরও