নামায মুমিনের সর্বোত্তম ইবাদত

ঢাকা, বুধবার, ২২ মে ২০১৯ | ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬

বিষয় :

নামায

মুসলমানের সর্বোত্তম ইবাদত

নামাযের গুরুত্ব

জামাতে নামায আদায়ের গুরুত্ব

নামায মুমিনের সর্বোত্তম ইবাদত

মেহেদী হাসান সাকিফ ৭:৪৯ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২১, ২০১৯

নামায মুমিনের সর্বোত্তম ইবাদত

ইসলামের মৌলিক স্তম্ভগুলোর মধ্যে নামায অন্যতম। যে পাঁচটি ভিত্তির উপর ইসলাম দাঁড়িয়ে আছে এর মধ্যে নামায দ্বিতীয়। মুল স্তম্ভ বা বুনিয়াদ ছাড়া তার ভিত্তি কল্পনা করা যায় না। তেমনিভাবে নামায ছাড়া ইসলাম এর কল্পনা করা অসম্ভব। ঈমানের পর ইসলামে নামাযের চেয়ে গুরুত্ব অন্য কোনো ইবাদতে প্রদান করা হয়নি। কোরআন শরিফে ৮৩ বার নামাযের আলোচনা এসেছে। নামায প্রসঙ্গে আল্লাহ তাআলা বলেন,

قُل لِّعِبَادِيَ الَّذِينَ آمَنُواْ يُقِيمُواْ الصَّلاَةَ

“হে নবী! আমার বান্দাদের মধ্যে মুমিনদের বলুন, তারা যেন নামায কায়েম করে।” – সূরা ইব্রাহীম আয়াত, আয়াত : ৩১

আল্লাহ পবিত্র কুরআনের অসংখ্যক জায়গায় নামায কায়েমের নির্দেশ দিয়েছেন।

আল্লাহ বলেন-

 أَقِيمُواْ الصَّلاَةَ

“তোমরা নামায প্রতিষ্ঠা করো।” – সূরা বাকারাহ, আয়াত : ১১০

মহান আল্লাহর এই নির্দেশ পালন করা ফরয। তা পালন না করা কবীরা গুনাহ। অন্যত্র আল্লাহ বলেন-

وَارْكَعُواْ مَعَ الرَّاكِعِينَ

“তোমরা রুকুকারীদের সাথে রুকু করো।” –সূরা বাকারাহ, আয়াত : ৪৩

আলোচ্য আয়াতে জামাতে নামায আদায়ের উপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। সাহাবায়ে কেরামগণ নামায ত্যাগকারীকে কাফির মনে করতেন। আর জামাত পরিত্যাগকারীদের মনে করতেন মুনাফিক।

প্রিয়নবী (স.) হাদীসে নামাযের বিশাল ফযিলত ঘোষনা করেছেন।

আবূ হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এ কথা বলতে শুনেছেন,

أَرَأَيْتُمْ لَوْ أَنَّ نَهَرًا بِبَابِ أَحَدِكُمْ يَغْتَسِلُ فِيهِ كُلَّ يَوْمٍ خَمْسًا ، مَا تَقُولُ : ذَلِكَ يُبْقِي مِنْ دَرَنِهِ قَالُوا : لاَ يُبْقِي مِنْ دَرَنِهِ شَيْئًا ، قَالَ : فَذَلِكَ مِثْلُ الصَّلَوَاتِ الخَمْسِ ، يَمْحُو اللَّهُ بِهِ الخَطَايَا

“আচ্ছা তোমরা বলো তো, যদি কারোর বাড়ির দরজার সামনে একটি নদী থাকে, যাতে সে প্রতিদিন পাঁচবার করে গোসল করে, তাহলে তার শরীরে কোন ময়লা অবশিষ্ট থাকবে কি?” সাহাবীগণ বললেন, ‘(না,) কোন ময়লা অবশিষ্ট থাকবে না।’ তিনি বললেন, “পাঁচ ওয়াক্তের নামাযের উদাহরণও অনুরূপ। এর দ্বারা আল্লাহ পাপরাশি নিশ্চিহ্ন করে দেন।” – বুখারী হাদীস : ৫২৬

মানব আত্নার উৎপত্তি আল্লাহর নিকট থেকে। মহান আল্লাহর পরম সান্নিধ্য লাভের জন্য মানব আত্না সদা ব্যাকুল থাকে। কিন্তু, কখনো প্রবৃত্তির তাড়নায় আবার কখনো শয়তানের প্ররোচনায় আল্লাহর নিকট হতে দূরে সরে গিয়ে পাপাচারে লিপ্ত হয়। তবে ইমানদার ব্যক্তি পাপের পীড়ায় দগ্ধ হতে থাকে প্রতি মুহূর্তে। তখন আল্লাহর কাছে ফিরে এসে গুনাহ থেকে ক্ষমা চেয়ে নামায আদায়ের মাধ্যমে সে পরম প্রশান্তি ও পরিতৃপ্তি লাভে সক্ষম হয়।

আল্লাহ বলেন-

وَأَقِمِ الصَّلَاةَ لِذِكْرِي

“এবং আমার স্মরণে নামায কায়েম করো।” (সুরা ত্বহা :১৩)

আলোচ্য আয়াতে কারীমের ব্যাখায় বলা হয়েছে- এখানে নামাযের মূল উদ্দেশ্যের উপর আলোকপাত করা হয়েছে। নামায কায়েম করুন, যাতে আমাকে স্মরণ করতে পারেন। [ইবন কাসীর] অর্থাৎ মানুষ যেন আল্লাহ থেকে গাফেল না হয়ে যায়। আল্লাহর সাথে মানুষের সম্পর্কোন্নয়নে সবচেয়ে বড় মাধ্যম হচ্ছে নামায। নামায মানুষকে প্রতিদিন কয়েকবার দুনিয়ার কাজকারবার থেকে আল্লাহর দিকে নিয়ে যায়। কোন কোন মুফাসসির এ অর্থও নিয়েছেন যে, নামায কায়েম করো, যাতে আমি তোমাকে স্মরণ করতে পারি, যেমন অন্যত্র বলা হয়েছে-

فَاذْكُرُونِي أَذْكُرْكُمْ وَاشْكُرُواْ لِي وَلاَ تَكْفُرُونِ

“আমাকে স্মরণ করো আমি তোমাকে স্মরণ রাখবো” – সূরা বাকারাহ, আয়াত : ১৫২ (ফাতহুল কাদীর)

আল্লাহ তাআলা আরও বলেন,

وَاسْتَعِينُواْ بِالصَّبْرِ وَالصَّلاَةِ

“আর তোমরা ধৈর্য ও নামাযের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা করো।” – সূরা বাকারাহ, আয়াত : ৪৫

আল্লামা শানকীতী (রহ.) বলেন, ধৈৰ্য্যের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা করা সুস্পষ্ট বিষয়। ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করলে এক সময় তার উপর আল্লাহ্‌র রহমত নাযিল হবে এবং সে সফলকাম হবে। নামাযের মাধ্যমে অন্যায় অশ্লীল কাজ থেকেও মুক্তি লাভ করা যায়। আল্লাহ্‌ বলেন,

إِنَّ الصَّلَاةَ تَنْهَى عَنِ الْفَحْشَاء وَالْمُنكَرِ

 “নিশ্চয় নামায অন্যায় ও অশ্লীল কাজ থেকে দূরে রাখে।” –সূরা আনকাবুত, আয়াত : ৪৫

এটা নিশ্চয় এক বিরাট সাহায্য। তাছাড়া নামাযের মাধ্যমে রিযকে প্রশস্ততা আসে। আল্লাহ্‌ বলেন,

وَأْمُرْ أَهْلَكَ بِالصَّلَاةِ وَاصْطَبِرْ عَلَيْهَا لَا نَسْأَلُكَ رِزْقًا نَّحْنُ نَرْزُقُكَ وَالْعَاقِبَةُ لِلتَّقْوَى

“আর আপনার পরিবারবর্গকে নামাযের আদেশ দিন ও তাতে অবিচল থাকুন, আমরা আপনার কাছে কোন জীবনোপকরণ চাই না; আমরাই আপনাকে জীবনোপকরণ দেই এবং শুভ পরিণাম তো তাকওয়াতেই নিহিত।” –সূরা ত্বা-হা, আয়াত : ১৩২

আর এ জন্যই “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন কোন বিষয়ে সমস্যায় পড়তেন বা চিন্তাগ্রস্ত হতেন তখনই তিনি নামাযে দাঁড়িয়ে যেতেন।” –মুসনাদে আহমাদ : ৫/৩৮৮

সুতরাং যে কোন বিপদাপদে ও সমস্যায় নামাযে দাঁড়িয়ে আল্লাহ্‌র সাথে সম্পর্কটা তাজা করে নেয়ার মাধ্যমে সাহায্য লাভ করা যেতে পারে। 

সালফে সালেহীন তথা সাহাবা, তাবেয়ীন ও সত্যনিষ্ঠ ইমামগণ থেকে এ ব্যাপারে বহু ঘটনা বর্ণিত আছে। ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমার নিকট তার ভাই ‘কুছাম’ এর মৃত্যুর খবর পৌঁছল, তিনি তখন সফর অবস্থায় ছিলেন। তিনি তার বাহন থেকে নেমে দু’রাকাত নামায আদায় করেন এবং এ আয়াত তেলাওয়াত করলেন। তাবারী অনুরূপভাবে আবদুর রহমান ইবনে আউফ রাদিয়াল্লাহু আনহু অসুস্থ অবস্থায় পড়লে একবার এমনভাবে বেহুশ হয়ে যান যে সবাই ধারণা করে বসেছিল যে, তিনি বুঝি মারাই গেছেন। তখন তার স্ত্রী উম্মে কুলসুম মসজিদে গিয়ে আল্লাহ্‌র নির্দেশ অনুসারে সবর ও নামাযের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা করলেন। –মুস্তাদরাকে হাকিম: ২/২৬৯

এমএফ/

আরও পড়ুন...
ওজুর অবিশ্বাস্য স্বাস্থ্যগত উপকারিতা
‘আল্লাহ সুন্দর পছন্দ করেন!’
হালাল উপার্জনেও জিহাদের সওয়াব!
আল্লাহর পরম প্রিয় আমল তওবা
ঘর ও পরিবারের ছয় ইবাদত
তাহাজ্জুদের দু’আ!
তাহাজ্জুদের নিয়তে ঘুমালেও সদকা!
দুআ কবুলের প্রতিশ্রুতি যে নামাযে
কেন নামায পড়া আমাদের একান্ত প্রয়োজন?
প্রথম কাতারে নামায : আল্লাহকে ভালবাসার উত্তম প্রতিযোগিতা
নামাযে বিভিন্ন কথা মনে হয়? আপনার জন্য চার পরামর্শ
নামাযে রাকাত নিয়ে সংশয়ে পড়লে যা করবেন
নামাযে অজু নিয়ে সন্দেহ হলে কি করবেন?
প্রস্রাবের পর পোশাকের পবিত্রতা নিয়ে সন্দেহ হলে যা করবেন 

সিজদা কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?
এই উত্তম সময়টিতে আল্লাহর সঙ্গে কথা বলুন
চাশতের নামাযের ফযিলত ও আদায়ের নিয়ম