চাশতের নামাযের ফযিলত ও আদায়ের নিয়ম

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৫ এপ্রিল ২০১৯ | ১১ বৈশাখ ১৪২৬

চাশতের নামাযের ফযিলত ও আদায়ের নিয়ম

মুহাম্মাদ ফয়জুল্লাহ ৫:২০ অপরাহ্ণ, মার্চ ২১, ২০১৯

চাশতের নামাযের ফযিলত ও আদায়ের নিয়ম

চাশতের নামাযকে হাদিসে ‘সলাতুদ্‌ দুহা’ বলা হয়েছে। ‘দুহা’ শব্দের অর্থ ‘প্রভাত সূর্যের ঔজ্জল্য’, যা সূর্য স্পষ্টভাবে প্রকাশিত হওয়ার পর থেকে শুরু হয়। এই নামায প্রথম প্রহরের পর থেকে দ্বিপ্রহরের পূর্বেই পড়া হয় বলে একে ‘সালাতুদ দুহা’ বা ‘চাশতের নামায’ বলা হয়।  

নফল নামাযগুলোর মধ্যে চাশতের নামায গুরুত্বপূর্ণ একটি। রাসুলুল্লাহ (সা.) এই নামায সব সময় পড়েছেন এবং সাহাবাদেরকে নিয়মিত পড়তে উপদেশও দিয়েছেন। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে,
أوصاني خليلي بثلاث لا أدعهن حتى أموت : صوم ثلاثة أيام من كل شهر ، وصلاة الضحى ، ونوم على وتر . رواه البخاري

“রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাকে তিনটি বিষয়ে অসিয়ত করেছেন – যা আমি মৃত্যু পর্যন্ত কখনো ছাড়বো না। ১. প্রতি মাসের তিন রোযা, ২. চাশতের নামায (সালাতুদ্‌ দুহা), ৩. এবং ঘুমাতে যাওয়ার আগে বিতর নামায আদায় করা।” – বুখারী, হাদিস : ১১২৪; মুসলিম, হাদিস : ৭২১

বুরাইদা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ্‌ (সা.) বলেছেন,
يُصبح على كل سُلامى من أحدكم صدقة، فكل تسبيحة صدقة، وكل تحميدة صدقة، وكل تهليلة صدقة، وكل تكبيرة صدقة، وأمر بالمعروف صدقة، ونهي عن المنكر صدقة، ويُجزئ من ذلك ركعتان يركعهما من الضّحى

“মানুষের শরীরে ৩৬০ টি জোড় রয়েছে। অতএব, মানুষের কর্তব্য হল প্রত্যেক জোড়ের জন্য একটি করে সদাকা করা।” সাহাবায়ে কেরাম (রা) বললেন, “ইয়া রাসূলুল্লাহ্‌! কার শক্তি আছে এই কাজ করার?” তিনি (সা) বললেন, “মসজিদে কোথাও কারোর থুতু দেখলে তা ঢেকে দাও অথবা রাস্তায় কোন ক্ষতিকারক কিছু দেখলে সরিয়ে দাও। তবে এমন কিছু না পেলে, চাশতের দুই রাকাআত নামাযই এর জন্য যথেষ্ট।” –আবু দাউদ, হাদীস : ৫২২২

উপরোক্ত হাদীসটি মুলত চাশতের নামাযের অপরিসীম গুরুত্ব ও মাহাত্ম্যের কথাই তুলে ধরে। এর থেকে আরও বোঝা যায় যে, চাশতের নামায ৩৬০ টি সাদাকার সমতুল্য।

চাশতের নামাযের রাকাত সংখ্যা
চাশতের নামাযের সর্বনিম্ন ২ রাকাত পড়া যায়। উপরে ৪, ৮, ১২ রাকাত পর্যন্ত হাদিসে পাওয়া যায়। মক্কা বিজয়ের দিন দুপুরের পূর্বে আল্লাহ্‌র রাসূল (সা.) আলী (রা.) এর বোন উম্মে হানী (রা.) এর গৃহে খুবই সংক্ষিপ্তভাবে ৮ রাকাত পড়েছিলেন। সংক্ষিপ্তভাবে পড়লেও রুকু এবং সিজদায় তিনি পূর্ণ ধীরস্থিরতা বজায় রেখেছিলেন এবং প্রতি দুই রাকাত অন্তর সালাম ফিরিয়ে ছিলেন। –বুখারী, হাদীস : ২০৭

হাদিস শরীফে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) আবু যর (রা.) কে বলেছেন,

إن صليّت الضّحى ركعتين لم تُكتب من الغافلين، وإن صلّيتها أربعاً كُتِبتَ من المُحسنين، وإن صلّيتها ستّاً كُتِبتَ من القانتين، وإن صلّيتها ثمانياً كُتبتَ من الفائزين، وإن صلّيتها عشراً لم يُكتب عليك ذلك اليوم ذنب، وإن صلّيتها اثنتي عشرة ركعة بَنى الله لك بيتاً في الجنّة

“তুমি যদি চাশতের নামায দুই রাকাত পড়ো, তাহলে তোমাকে গাফেলদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে না। আর যদি চার রাকাত পড়ো, তাহলে তুমি নেককার মধ্যে গণ্য হবে। আর যদি আট রাকাত পড়ো, তবে সফলদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে। আর যদি দশ রাকাত পড়ো তাহলে কেয়ামত দিবসে তোমার কোন গুনাহ থাকবে না। আর যদি বারো রাকাত পড়ো, তাহলে আল্লাহ তোমার জন্য জান্নাতে একটি বাড়ি তৈরি করবেন।” –সুনানে কুবরা লিল-বাইহাকী, পৃষ্ঠা : ৩/৪৮

চাশতের নামাযের নিয়ম
চাশতের নামায অন্য যেকোনো দুই রাকাত বিশিষ্ট সুন্নত বা নফল নামায আদায়ের মতই। কোন নফল নামাযে যেমন দুই রাকাত পড়ে ডানে ও বামে সালাম ফিরিয়ে থাকেন, এখানেও তেমনই। হযরত ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,  
صلاة الليل والنهار مثنى مثنى
“দিন ও রাতের নফল নামায দুই দুই রাকাত করে।” – তিরমিযি, হাদিস : ৫৯৭; আবু দাউদ, হাদিস : ১২৯৫

চাশতের নামাযের সময়
চাশতের নামাযের সময়টা আমরা ধরে নিতে পারি সকাল ৯ : ০০ থেকে বেলা ১১ : ০০ পর্যন্ত।  সূর্যের তাপ যখন প্রখর হতে শুরু করে তখন এই নামায আদায় করা উত্তম। কেননা, নবী কারীম (সা.) বলেছেন,
صلاة الأوابين حين ترمض الفصال
“চাশতের নামায পড়া হবে যখন সূর্যের তাপ প্রখর হয়।” –সহীহ্‌ মুসলিম, হাদীস : ৭৪৮

বিশেষজ্ঞদের মতে, যখন দিনের এক চতুর্থাংশ অর্থাৎ, দিনের চার ভাগের একভাগ পার হয় তখন এই নামায আদায় করা উত্তম। কাজেই, চাশতের নামায বা সালাতুদ্‌ দুহা আদায় করার উত্তম সময়টি হচ্ছে সূর্যোদয় এবং যোহর নামাযের মধ্যবর্তী সময়টা। –মাজমূ’ ফাতাওয়াহ্‌ লিল ইমাম আন-নাবাউয়ী, ৪/৩৬; আল-মাওসূ’য়াহ্‌ আল-ফিক্‌হিয়্যাহ্‌, ২৭/২২৪

এমএফ/

তাহাজ্জুদের দু’আ!
তাহাজ্জুদের নিয়তে ঘুমালেও সদকা!
দুআ কবুলের প্রতিশ্রুতি যে নামাযে
কেন নামায পড়া আমাদের একান্ত প্রয়োজন?
প্রথম কাতারে নামায : আল্লাহকে ভালবাসার উত্তম প্রতিযোগিতা
নামাযে বিভিন্ন কথা মনে হয়? আপনার জন্য চার পরামর্শ
নামাযে রাকাত নিয়ে সংশয়ে পড়লে যা করবেন
নামাযে অজু নিয়ে সন্দেহ হলে কি করবেন?
প্রস্রাবের পর পোশাকের পবিত্রতা নিয়ে সন্দেহ হলে যা করবেন 

সিজদা কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?
এই উত্তম সময়টিতে আল্লাহর সঙ্গে কথা বলুন