দুঃখ-দুশ্চিন্তা দূর করার অব্যর্থ চার দুআ

ঢাকা, ২৪ আগস্ট, ২০১৯ | 2 0 1

দুঃখ-দুশ্চিন্তা দূর করার অব্যর্থ চার দুআ

মুহাম্মাদ ফয়জুল্লাহ ৫:৫২ অপরাহ্ণ, মার্চ ০৬, ২০১৯

দুঃখ-দুশ্চিন্তা দূর করার অব্যর্থ চার দুআ

জীবনে নানা উত্থান-পতন, দুঃখ-দুশ্চিন্তা পার্থিব জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। কোন একটি মানুষও নিরঙ্কুশ শান্তিতে পৃথিবীর জীবনটা পার করতে পারে না। তা কেবল জান্নাতেই সম্ভব।

কিন্তু এই নানা রোগ-শোক ও দুঃখ-কষ্টের প্রতিকূল পরিস্থিতিগুলোতে বান্দার জন্য আল্লাহ তাআলাই হচ্ছেন একমাত্র শান্তি ও সমাধান। আমাদের ভাঙ্গা হৃদয়টা নিয়ে ফিরতে হবে আল্লাহর কাছেই। প্রিয় নবী (সা.) আমাদের এটাই শিখিয়েছেন। কষ্টের সময়ে তিনি আমাদের দেখিয়েছেন কীভাবে চোখের পানিগুলো অজুর পানি দিয়ে ধুয়ে নিয়ে নামাযে দাঁড়িয়ে যেতে হয়। কীভাবে সিজদায় আল্লাহর কাছে ভাঙ্গা হৃদয়ের সব আর্তিগুলো মন খুলে বলে নির্ভার হতে হয়।

তিনি শিখিয়েছেন অনেক দুআ – ঋণগ্রস্ত হলে, দুঃখ-দুশ্চিন্তায় পতিত হলে যার মাধ্যমে আল্লাহর কাছে থেকে সমাধান আনা যায়। এমনই চারটি দুআ নিম্নে উল্লেখ করা হল।    

এক. বুখারী ও মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে, রাসূলুল্লাহ (সা.) মুসিবতের সময় বলতেন :

لا إله إلا الله العظيم الحليم، لا إله إلا الله رب العرش العظيم، لا إله إلا الله رب السموات ورب الأرض رب العرش الكريم
উচ্চারণ : লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহুল আযীমুল হালীম। লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু রাব্বুল আরশিল আযীম। লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু রাব্বুস সামাওয়াতি ওয়া রাব্বুল আরদ্বি ওয়া রাব্বুল আরশিল আযীম।

অর্থ : আল্লাহ ব্যতীত আর কোন উপাস্য নেই, যিনি মহান, সহনশীল। আল্লাহ ব্যতীত আর কোন উপাস্য নেই, যিনি মহা আরশের অধিপতি। আল্লাহ ব্যতীত আর কোন উপাস্য নেই, যিনি আকাশ-যমিনের প্রতিপালক, মর্যাদাশীল আরশের প্রতিপালক।

দুই. তিরমিযি শরীফে বর্ণিত হয়েছে, আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, কোন বিষয় রাসূলুল্লাহ (সা.) কে দুশ্চিন্তায় নিমগ্ন করলে, রাসূলুল্লাহ (সা.) আকাশের দিকে তাকিয়ে বলতেন, "سبحان الله العظيم" (সুবহানাল্লাহিল আযিম, অর্থ: মহান আল্লাহ কতই না পবিত্র!) এবং খুব দুআ করতেন ও বলতেন : يا حي يا قيوم (ইয়া হাইয়্যু ইয়া কাইয়্যুম, অর্থ: হে চিরস্থায়ী চিরঞ্জীব সত্ত্বা!)

তিন. মুসনাদে আহমদে রয়েছে, ইবনে মাসউদ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি অসাল্লাম থেকে বলেন, যে কোন বান্দার দুশ্চিন্তা বা পেরেশানী হলে, সে যদি এ দোয়া পড়ে,

اللهم إني عبدك، وابن عبدك، وابن أمتك، ناصيتي بيدك، ماضٍ فيَّ حكمك، عدل فيَّ قضاؤك، أسألك بكل اسم هو لك سميت به نفسك، أو أنزلته في كتابك، أو علمته أحداً من خلقك، أو استأثرت به في علم الغيب عندك أن تجعل القرآن العظيم ربيع قلبي، ونور صدري، وجلاء حزني، وذهاب همّي. إلا أذهب الله همه وحزنه، وأبدله مكانه فرحًا".

আল্লাহ তার দুশ্চিন্তা ও পেরেশানী দূর করে দেবেন এবং তার পরিবর্তে দেবেন আনন্দ।

চার. আবু দাউদ শরীফে বর্ণিত হয়েছে, রাসূলুল্লাহ (সা.) আবু উমামা (রা.) কে বলেন, আমি কি তোমাকে এমন একটি কালেমা শিক্ষা দেব, তুমি যখন তা বলবে, আল্লাহ তোমার দুশ্চিন্তা দূর করে দেবেন এবং তোমাকে ঋণমুক্ত করে দেবেন। তুমি সকাল-সন্ধ্যায় বলো,
 اللهم إني أعوذ بك من الجُبن والبخل، وأعوذ بك من غلبة الدين وقهر الرجال
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নী আউযু বিকা মিনাল জুবুনি ওয়াল বুখলি, ওয়া আউযু বিকা মিন গলাবাতিদ্দাইনি ওয়া কাহরির রিজাল।
অর্থ: ‘হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি, কাপুরুষতা ও কৃপণতা থেকে, অধিক ঋণ থেকে এবং দুষ্ট লোকের প্রাধান্য থেকে।’

আবু উমামা (রা.) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা.) এর কথার ওপর আমল করেছি, আল্লাহ তাআলা আমার দুশ্চিন্তা দূর করে দিয়েছেন এবং আমাকে ঋণ মুক্ত করে দিয়েছেন।

নাসাঈ শরীফে দুআটি আরেকটু বর্ধিত অংশসহ উল্লেখিত আছে। তা হলো,
اللهم! إني أعوذ بك من الهم والحزن، والكسل، والبخل، والجبن، و ضلَع الدين، وغلبة الرجال -  رواه النسائي
উচ্চারণ : “আল্লাহহুম্মা ইন্নী আউযুবিকা মিনাল্ হাম্মি ওয়াল্ হুযনি, ওয়াল্ আজযি ওয়াল্ কাসলি, ওয়াল্ বুখলি ওয়াল্ জুবনি, ওয়া যালাইদ্দাইনি ওয়া গালাবাতির রিজাল।”

অর্থ : ‘হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি, চিন্তা-ভাবনা, অপারগতা, অলসতা, কৃপণতা এবং কাপুরুষতা থেকে। অধিক ঋণ থেকে এবং দুষ্ট লোকের প্রাধান্য থেকে।’ (নাসাঈ, অধ্যায়: ইস্তিআযাহ, নং ৫৪৭৮)

এমএফ/

আরও পড়ুন...
টেনশন দূর করার অব্যর্থ তিন দোয়া
ঋণগ্রস্ত হওয়া থেকে বাঁচতে নবীজি (সা.) যে দুআ করতেন
দুঃখ ভারাক্রান্ত আত্মার জন্য প্রশান্তির বার্তা
আশাহত মানুষের প্রতি কুরআনের বার্তা
বিপদগ্রস্ত? কুরআন আপনাকে যা বলে...
বিপদগ্রস্ত বান্দা ও আল্লাহর সাহায্য
বিপদগ্রস্ত? প্রথমেই সাহায্য চান আল্লাহর কাছে!

 

আমল / জীবন পাথেয়: আরও পড়ুন

আরও