নেককাজে অবিচল থাকার ১১ উপকারিতা

ঢাকা, রবিবার, ২০ জানুয়ারি ২০১৯ | ৭ মাঘ ১৪২৫

নেককাজে অবিচল থাকার ১১ উপকারিতা

-পরিবর্তন ডেস্ক ২:৫৫ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ০৩, ২০১৯

নেককাজে অবিচল থাকার ১১ উপকারিতা

“নিশ্চয় যারা বলে, আমাদের পালনকর্তা আল্লাহ, অতঃপর এতেই অবিচল থাকে, তাদের কাছে ফেরেশতা অবতীর্ণ হয় এবং বলে, তোমরা ভয় করো না, চিন্তা করো না এবং তোমাদের প্রতিশ্রুত জান্নাতের সুসংবাদ নাও। ইহকালে ও পরকালে আমরা তোমাদের বন্ধু। সেখানে তোমাদের জন্য আছে যা তোমাদের মন চায় এবং সেখানে তোমাদের জন্যে আছে তোমরা দাবী কর। এটা ক্ষমাশীল করুনাময়ের পক্ষ থেকে সাদর আপ্যায়ন।” –সূরা হা-মীম সেজদাহ:৩০

এছাড়াও, আল্লাহ তাআলা নেককাজের হেফাযতকারী বান্দাদেরকে বহুভাবে সম্মানিত ও উপকৃত করে থাকেন। এমন এগারোটি বিষয় নিম্নে উল্লেখ করা হল-

১। স্রষ্টার সাথে তার সার্বক্ষণিক যোগাযোগ; যা তাকে অগাধ শক্তি, দৃঢ়তা, আল্লাহর সাথে নিবিড় সম্পর্ক ও তার উপর মহা আস্থা তৈরি করে দেয়। এমনকি তার দুঃখ-কষ্ট ও চিন্তা-ভাবনায় আল্লাহই যথেষ্ট হয়ে যান। আল্লাহ তাআলা বলেন:

“যে ব্যক্তি আল্লাহর উপর ভরসা করবে আল্লাহই তার জন্য যথেষ্ট।” (সূরা তালাক: ৩ ) 

২। অলসতা-উদাসীনতা হতে অন্তরকে ফিরিয়ে রেখে সৎ আমলকে আঁকড়ে ধরার প্রতি অভ্যস্ত করা যেন ক্রমান্বয়ে তা সহজ হয়ে যায়। কথিত রয়েছে: “তুমি তোমার অন্তরকে যদি নেককাজে পরিচালিত না কর, তবে সে আমাকে গুনাহর দিকে পরিচালিত করবে।” 

৩। এ নীতি অবলম্বন হল আল্লাহর মুহাব্বাত ও অভিভাবকত্ব লাভের উপায়। হাদীসে কুদসীতে আল্লাহ তাআলা বলেন:

“আমার বান্দা নফল ইবাদতসমূহ দ্বারা আমার নৈকট্য অর্জন করতেই থাকে, এমনকি তাকে আমি মুহাব্বাত করতে শুরু করি—।” (বুখারী) 

৪। নেককাজে অবিচল থাকা বিপদ-আপদে মুক্তির একটি কারণ। নবী করীম (সা.) ইবনে আব্বাস (রা.) কে উপদেশ দেন:

“আল্লাহকে হেফাযত কর (অর্থাৎ তার হুকুম-আহকামগুলো পালন কর) তবে তিনিও তোমাকে হেফাযত করবেন, আল্লাহকে হেফাযত কর তবে তুমি তাঁকে তোমার সামনে পাবে; সুখে-শান্তিতে তাঁকে চেন। তিনি তোমাকে বিপদে চিনবেন।” (মুসনাদে আহমদ) 

৫। নেককাজে অবিচলতা অশ্লীলতা ও মন্দকাজ হতে বিরত রাখে। আল্লাহ তাআলা বলেন:

“নিশ্চয়ই নামায অশ্লীলতা ও অন্যায় কাজ হতে বিরত রাখে।” (সূরা আনকাবূত: ৪৫ ) 

৬। নেককাজে অবিচল থাকা গুনাহ-খাতা মিটে যাওয়ার একটি মাধ্যম। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:

“তোমাদের কারো দরজায় যদি একটি নদী থাকে, আর সে তাতে প্রতিদিন পাঁচবার করে গোসল করে, তবে তার দেহে কি কোন ময়লা অবশিষ্ট থাকবে? সাহাবাগণ বলেন: না, তিনি (সা.) বলেন: এমনই পাঁচ ওয়াক্ত নামায, আল্লাহ যার দ্বারা গুনাহ সমূহকে মিটিয়ে দেন।” (বুখারী-মুসলিম) 

৭। নেককাজে অবিচল থাকা, শেষ পরিণাম ভাল হওয়ার মাধ্যম। আল্লাহ তাআলা বলেন:

“যারা আমার পথে চেষ্টা-সাধনা করবে অবশ্যই আমি তাদেরকে আমার পথ দেখিয়ে দিব, নিশ্চয়ই আল্লাহ নেক আমলকারীগণের সাথে আছেন।” (সূরা আনকাবূত: ৬৯) 

৮। এটি কিয়ামতের দিন হিসাব সহজ হওয়া ও আল্লাহর ক্ষমা লাভের উপায়। 

৯। এ নীতি মুনাফেকী হতে অন্তরের পরিশুদ্ধতা ও জাহান্নামের আগুন হতে পরিত্রাণের একটি উপায়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন:

“যে ব্যক্তি চল্লিশ দিন (ক্রমাগত) জামায়াতের সাথে প্রথম তাকবীর পেয়ে নামায আদায় করবে তার জন্য দু’প্রকার মুক্তির ঘোষণা: (১) জাহান্নামের আগুন হতে মুক্তি ও (২) মুনাফেকী হতে মুক্তি।” (তিরমিযী-হাসান) 

১০। এটি জান্নাতে প্রবেশের উপায়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন,

“যে ব্যক্তি কোন জিনিসের দু’প্রকার আল্লাহর রাস্তায় খরচ করল, তাকে জান্নাতের দরজাসমূহ হতে আহ্বান করা হবে। জান্নাতের রয়েছে আটটি দরজা: সুতরাং যে ব্যক্তি নামাযী তাকে নামাযের দরজা দিয়ে আহ্বান করা হবে, যে ব্যক্তি জিহাদী তাকে জিহাদের দরজা দিয়ে আহ্বান করা হবে, যে ব্যক্তি দান-খয়রাত ওয়ালা তাকে দান-খয়রাতের দরজা দিয়ে আহ্বান করা হবে এবং যে ব্যক্তি রোযাদার তাকে রইয়ান নামক দরজা দিয়ে আহ্বান করা হবে।” (বুখারী-মুসলিম) 

১১। যে ব্যক্তি নিয়মিত সৎ আমল করে অতঃপর অসুস্থতা, সফর বা অনিচ্ছাকৃত ঘুমের কারণে যদি সে আমল বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, তবে তার জন্য সে আমলের সওয়াব লেখা হবে। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন:

“বান্দা যখন অসুস্থ হয় বা সফর করে, তখন তার জন্য অনুরূপ সওয়াব লেখা হয় যা সে গৃহে অবস্থানরত অবস্থায় ও সুস্থ অবস্থায় করত।” -বুখারী

রাসুলুল্লাহ (সা.) আরও বলেন:

“যে ব্যক্তির রাতে নামায ছিল কিন্তু তা হতে নিদ্রা তার উপর প্রভাব বিস্তার করে, তবে আল্লাহ তার জন্য সে নামাযের সওয়াব লিখে দিবেন এবং তার সে নিদ্রা হবে তার জন্য সদকা স্বরূপ। (নাসায়ী, মুয়াত্তা মালেক-সহীহ) 

পরিশেষে, আল্লাহর নিকট প্রার্থনা তিনি যেন আমাদেরকে সহীহ চিন্তা বিশ্বাস ও নেককাজের উপর সুদৃঢ় রাখেন এবং এ অবস্থাতেই মৃত্যু দান করেন। আমীন।

এমএফ/

আরও পড়ুন...
বিপদগ্রস্ত? প্রথমেই সাহায্য চান আল্লাহর কাছে!
দুঃখ-দুশ্চিন্তার সময় যে দোয়া পড়বেন
দুনিয়াবী কাজ হাসিলের জন্য নামায পড়া যায় কি?
বিপদগ্রস্ত? কুরআন আপনাকে যা বলে...
বিপদগ্রস্ত বান্দা ও আল্লাহর সাহায্য
আশাহত মানুষের প্রতি কুরআনের বার্তা
দুঃখ ভারাক্রান্ত আত্মার জন্য প্রশান্তির বার্তা