দুআ কবুলের প্রতিশ্রুতি যে নামাযে

ঢাকা, শুক্রবার, ২৬ এপ্রিল ২০১৯ | ১২ বৈশাখ ১৪২৬

দুআ কবুলের প্রতিশ্রুতি যে নামাযে

পরিবর্তন ডেস্ক ৩:১২ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১৫, ২০১৮

দুআ কবুলের প্রতিশ্রুতি যে নামাযে

নফল নামাযগুলোর মধ্যে তাহাজ্জুদ নামাযের সর্বাধিক গুরুত্ব ও ফযিলত রয়েছে। এ সময় মানুষের মনের মধ্যে একাগ্রতা বেশি থাকে। আশপাশের পরিবেশ কোলাহলমুক্ত থাকে। দুনিয়াবি বিষয়ের চিন্তা কম থাকে।

নামায কবুল হওয়া কিংবা নামাযের মাধ্যমে সফলতা অর্জনের ক্ষেত্রে একাগ্রতা বা গভীর মনোযোগ খুবই জরুরি। এরশাদ হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই ওইসব মুমিনগণ সফলকাম হয়েছে, যারা তাদের নামায খুশুখুজুর সঙ্গে আদায় করে।’ (সূরা মুমিনুন : ১-২)

তাহাজ্জুদ আদায়কারীকে আল্লাহ তাআলা খুব বেশি পছন্দ করেন। যে ব্যক্তিকে আল্লাহ পছন্দ করবেন, নিঃসন্দেহে দুনিয়ার সব মানুষ ওই ব্যক্তিকে সম্মান ও পছন্দ করবেন। এরশাদ হয়েছে, ‘রাতের কিছু অংশে তাহাজ্জুদ প্রতিষ্ঠা করুন, এটা আপনার জন্য অতিরিক্ত, আশা করা যায় আপনার প্রভু এর দ্বারা আপনাকে প্রশংসিত মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করবেন।’ (সূরা বনি ইসরাইল: ৭৯)
অন্যত্র এরশাদ হয়েছে, “যে ব্যক্তি রাত্রিকালে সেজদার মাধ্যমে অথবা দাঁড়িয়ে এবাদত করে, পরকালের আশংকা রাখে এবং তার পালনকর্তার রহমত প্রত্যাশা করে, সে কি তার সমান, যে এরূপ করে না; বলুন, যারা জানে এবং যারা জানে না; তারা কি সমান হতে পারে? চিন্তা-ভাবনা কেবল তারাই করে, যারা বুদ্ধিমান।” (সূরা যুমার:৯)

তাহাজ্জুদের সময় দুআ কবুলের উত্তম মুহূর্ত। এ সময় দুআ করলে মানুষের মনের আর্তিগুলো পূর্ণ হয়। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) এরশাদ করেন,
“যখন রাতের এক-তৃতীয়াংশ বাকি থাকে, তখন স্বয়ং আমাদের প্রতিপালক দুনিয়ার নিকটবর্তী আসমানে অবতীর্ণ হন এবং বলতে থাকেন, বান্দাগণ! কে আছো আমার কাছে কিছু চাইবে, আমি তাকে দিয়ে দিব। কে আছো, এ সময় আমার কাছে গুনাহ থেকে ক্ষমা চাইবে, আমি তাকে ক্ষমা করে দিব।” (বুখারি:১১৪৫)

হযরত জাবের (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুল (সা.) কে এ কথা বলতে শুনেছি, নিশ্চয়ই রাতের এমন একটি সময় আছে, যদি কোনো মুসলমান ওই সময়টি পায়, আর তখন দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণ থেকে কোনো কিছু প্রার্থনা করে, তাহলে অবশ্যই আল্লাহ তাকে দেন। আর এ সময়টা রাতেই আসে। (মুসলিম : ৭৫৭)

তাহাজ্জুদ মধ্যরাত থেকে ফজরের সময় হবার আগ মুহূর্ত পর্যন্ত পড়া যায়। তবে রাতের শেষ তৃতীয়াংশে পড়াই উত্তম। নফল নামাযের মতো দুই রাকাত করে পড়তে হয়। এভাবে চার রাকাত, আট রাকাত ও বারো রাকাত পর্যন্ত আদায় করা উত্তম। রাব্বুল আলামিন আমাদেরকে তাহাজ্জুদ আদায়ের তাওফিক দান করুন। আমিন।

এমএফ/

আরও পড়ুন...
জুমআর দিনে নিশ্চিত দুআ কবুলের যে মুহূর্ত
দু’আ কবুলের গুরুত্বপূর্ণ কিছু আদব
দুআ কবুল হচ্ছে না? আপনার জন্যই এই লেখা
দুআ করছেন, কবুল হচ্ছে না?