শিখে নিন অনন্য ফযিলতের নামায সালাতুত তাসবীহ

ঢাকা, সোমবার, ১৭ জুন ২০১৯ | ৩ আষাঢ় ১৪২৬

শিখে নিন অনন্য ফযিলতের নামায সালাতুত তাসবীহ

পরিবর্তন ডেস্ক ৬:৫২ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৩০, ২০১৮

শিখে নিন অনন্য ফযিলতের নামায সালাতুত তাসবীহ

সালাতুত তাসবীহ তথা তাসবীহের নামায। চার রাকাত বিশিষ্ট যে নামাযে নবী (সা.) নির্দেশিত পদ্ধতিতে প্রত্যেক রাকাতে ৭৫ বার করে মোট তিনশতবার “সুবহানাল্লাহি ওয়াল হামদুলিল্লাহি ওয়া লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার” তাসবীহটি পাঠ করা হয়। এর রয়েছে বিশাল ফযিলত। নিম্নে হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) হতে বর্ণিত সহিহ হাদিস থেকে বিস্তারিত তুলে ধরা হল-    

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত-

أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- قَالَ لِلْعَبَّاسِ بْنِ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ « يَا عَبَّاسُ يَا عَمَّاهُ أَلاَ أُعْطِيكَ أَلاَ أَمْنَحُكَ أَلاَ أَحْبُوكَ أَلاَ أَفْعَلُ بِكَ عَشْرَ خِصَالٍ إِذَا أَنْتَ فَعَلْتَ ذَلِكَ غَفَرَ اللَّهُ لَكَ ذَنْبَكَ أَوَّلَهُ وَآخِرَهُ قَدِيمَهُ وَحَدِيثَهُ خَطَأَهُ وَعَمْدَهُ صَغِيرَهُ وَكَبِيرَهُ سِرَّهُ وَعَلاَنِيَتَهُ عَشْرَ خِصَالٍ أَنْ تُصَلِّىَ أَرْبَعَ رَكَعَاتٍ تَقْرَأُ فِى كُلِّ رَكْعَةٍ فَاتِحَةَ الْكِتَابِ وَسُورَةً فَإِذَا فَرَغْتَ مِنَ الْقِرَاءَةِ فِى أَوَّلِ رَكْعَةٍ وَأَنْتَ قَائِمٌ قُلْتَ سُبْحَانَ اللَّهِ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ وَلاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَاللَّهُ أَكْبَرُ خَمْسَ عَشْرَةَ مَرَّةً ثُمَّ تَرْكَعُ فَتَقُولُهَا وَأَنْتَ رَاكِعٌ عَشْرًا ثُمَّ تَرْفَعُ رَأْسَكَ مِنَ الرُّكُوعِ فَتَقُولُهَا عَشْرًا ثُمَّ تَهْوِى سَاجِدًا فَتَقُولُهَا وَأَنْتَ سَاجِدٌ عَشْرًا ثُمَّ تَرْفَعُ رَأْسَكَ مِنَ السُّجُودِ فَتَقُولُهَا عَشْرًا ثُمَّ تَسْجُدُ فَتَقُولُهَا عَشْرًا ثُمَّ تَرْفَعُ رَأْسَكَ فَتَقُولُهَا عَشْرًا فَذَلِكَ خَمْسٌ وَسَبْعُونَ فِى كُلِّ رَكْعَةٍ تَفْعَلُ ذَلِكَ فِى أَرْبَعِ رَكَعَاتٍ إِنِ اسْتَطَعْتَ أَنْ تُصَلِّيَهَا فِى كُلِّ يَوْمٍ مَرَّةً فَافْعَلْ فَإِنْ لَمْ تَفْعَلْ فَفِى كُلِّ جُمُعَةٍ مَرَّةً فَإِنْ لَمْ تَفْعَلْ فَفِى كُلِّ شَهْرٍ مَرَّةً فَإِنْ لَمْ تَفْعَلْ فَفِى كُلِّ سَنَةٍ مَرَّةً فَإِنْ لَمْ تَفْعَلْ فَفِى عُمُرِكَ مَرَّةً »

অর্থঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হযরত আব্বাস ইবনে আব্দিল মুত্তালিবকে বলেছেন, হে আব্বাস, হে চাচা! আমি কি আপনাকে দিব না? আমি কি আপনাকে প্রদান করব না? আমি কি আপনার নিকটবর্তী হব না? আমি কি আপনার জন্য এমন দশটি সৎ গুনের বর্ণনা করব না, যা করলে আল্লাহ তাআলা আপনার পূর্বের ও পরের, নতুন ও পুরাতন, ইচ্ছায় ও ভুলবশত কৃত, ছোট ও বড়, গোপন ও প্রকাশ্য সকল গুনাহ মাফ করে দিবেন? সে দশটি সৎ গুন হল, আপনি চার রাকাআত নামায পড়বেন। প্রতি রাকাআতে সূরা ফাতিহা ও অন্য একটি সূরা পড়বেন। প্রথম রাকাআতে যখন কিরাআত পড়া শেষ করবেন তখন দাঁড়ানো অবস্থায় ১৫ বার বলবেন-

سُبْحَانَ اللَّهِ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ وَلَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَاللَّهُ أَكْبَرُ

এরপর রুকুতে যাবেন এবং রুকু অবস্থায় তা (উক্ত দুআটি) ১০ বার পড়বেন। এরপর রুকু থেকে মাথা উঠাবেন এবং তা ১০ বার পড়বেন। এরপর সিজদায় যাবেন। সিজদারত অবস্থায় তা ১০ বার পড়বেন। এরপর সিজদা থেকে মাথা উঠাবেন অতঃপর তা ১০ বার পড়বেন। এরপর আবার সিজদায় যাবেন এবং সিজদারত অবস্থায় ১০ বার পড়বেন। এরপর সিজদা থেকে মাথা উঠাবেন এবং ১০ বার পড়বেন। এ হলো প্রতি রাকাআতে ৭৫ বার। আপনি চার রাকাতেই অনুরূপ  করবেন। যদি আপনি প্রতিদিন আমল করতে পারেন, তবে তা করুন। আর যদি না পারেন, তবে প্রতি জুমআয় একবার। যদি প্রতি জুমআয় না করেন তবে প্রতি মাসে একবার। আর যদি তাও না করেন তবে জীবনে একবার। –সুনানে আবূ দাউদ, হাদীস নং ১২৯৯; সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং ১৩৮৭; সুনানে বাইহাকী, হাদীস নং ৫১১৩; সহীহ ইবনে খুযাইমাহ, হাদীস নং ১২১৬; মুস্তাদরাকে হাকেম, হাদীস নং ১১৯২

হাদীসটির সনদ সহীহ। ইমাম ইবনে খুযাইমাহ, হাফেয আবূ বকর আজুররী, হাফেয আবুল হাসান মাকদিসী, শায়েখ নাসিরুদ্দীন আলবানী (রহিমাহুমুল্লাহ) হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (দেখুন- আততারগীব ওয়াত তারহীব ১/১৬৫)

এমএফ/

আরও পড়ুন...
কেন নামায পড়া আমাদের একান্ত প্রয়োজন?
সিদ্ধান্তহীনতায় উত্তম সমাধান ইস্তিখারা নামাজ
কোন সিদ্ধান্তে কীভাবে স্থির হবেন? জেনে নিন নবীজির নির্দেশনা