সুন্নাহর আলোকে মুহাররম মাসের আমল

ঢাকা, রবিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮ | ৮ আশ্বিন ১৪২৫

সুন্নাহর আলোকে মুহাররম মাসের আমল

পরিবর্তন ডেস্ক ৭:১১ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৮

সুন্নাহর আলোকে মুহাররম মাসের আমল

মুহাররম মাসের আমল সম্পর্কে সহিহ হাদিস সমূহে যা বর্ণিত হয়েছে তা হল আশুরার রোযা রাখা। রাসুলুল্লাহ (সা.) ১০ই মুহাররম রোযা রেখেছেন। কিন্তু ইহুদি ও নাসারারা শুধুমাত্র ১০ই মুহাররমকে সম্মান করত এবং রোযা পালন করত। তাই রাসুল (সা.) তাদের সাথে মিল না রাখার জন্য ঐ দিনসহ তার পূর্বের অথবা পরের দিন সহ রোযা পালনের নির্দেশ দিয়েছেন। অতএব সুন্নাত হল, ৯ ও ১০ই মুহাররম অথবা ১০ ও ১১ই মুহাররমে রোযা রাখা। আব্দুল্লাহ ইবনে আববাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,

حِيْنَ صَامَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَوْمَ عَاشُوْرَاءَ وَأَمَرَ بِصِيَامِهِ قَالُوْا يَا رَسُوْلَ اللهِ إِنَّهُ يَوْمٌ تُعَظِّمُهُ الْيَهُوْدُ وَالنَّصَارَى. فَقَالَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَإِذَا كَانَ الْعَامُ الْمُقْبِلُ إِنْ شَاءَ اللهُ صُمْنَا الْيَوْمَ التَّاسِعَ قَالَ فَلَمْ يَأْتِ الْعَامُ الْمُقْبِلُ حَتَّى تُوُفِّىَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم-

“রাসুলুল্লাহ (সা.) যখন আশুরার রোযা পালন করলেন এবং রোযা পালনের নির্দেশ দিলেন, তখন সাহাবায়ে কেরাম রাসুল (সা.)-কে বললেন, হে আল্লাহর রাসুল (সা.)! ইহুদি ও নাসারাগণ এই দিনটিকে (১০ই মুহাররম) সম্মান করে। তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘আগামী বছর বেঁচে থাকলে ইনশাআল্লাহ আমরা ৯ই মুহাররম সহ রোযা রাখব’। রাবী বলেন, কিন্তু পরের বছর মুহাররম আসার আগেই তাঁর মৃত্যু হয়ে যায়।” (মুসলিম-১১৩৪) 

অন্য হাদিসে এসেছে, ইবনে আববাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,

صُوْمُوْا يَوْمَ عَاشُوْرَاءَ وَخَالِفُوْا فِيْهِ الْيَهُوْدَ صُوْمُوْا قَبْلَهُ يَوْماً أَوْ بَعْدَهُ يَوْماً-

‘তোমরা আশুরার দিন রোযা রাখ এবং ইহুদিদের বিরোধিতা কর। তোমরা আশুরার সাথে তার পূর্বে একদিন বা পরে একদিন রোযা পালন কর’। (বায়হাক্বী ৪/২৮৭) 

আশুরার রোযার ফযীলত 

ফযীলতের দিক থেকে রমযানের রোযার পরেই আশুরার রোযার অবস্থান। এটা পূর্ববর্তী এক বছরের গুনাহের কাফফারা স্বরূপ। অর্থাৎ এর মাধ্যমে পূর্ববর্তী এক বছরের গুনাহ ক্ষমা হয়। আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন,

أَفْضَلُ الصِّيَامِ بَعْدَ رَمَضَانَ شَهْرُ اللهِ الْمُحَرَّمُ وَأَفْضَلُ الصَّلاَةِ بَعْدَ الْفَرِيْضَةِ صَلاَةُ اللَّيْلِ-

‘রমযানের পরে সর্বোত্তম রোযা হ’ল মুহাররম মাসের রোযা (অর্থাৎ আশুরার রোযা) এবং ফরয ছালাতের পরে সর্বোত্তম ছালাত হ’ল রাতের নফল ছালাত’ (অর্থাৎ তাহাজ্জুদের নামায)। (মুসলিম-১১৬৩)

অন্য হাদীছে এসেছে, আবু ক্বাতাদাহ (রা.) হতে বর্ণিত রাসুলুল্লাহ (সা.) এরশাদ করেন,

وَصِيَامُ يَوْمِ عَاشُوْرَاءَ أَحْتَسِبُ عَلَى اللهِ أَنْ يُكَفِّرَ السَّنَةَ الَّتِى قَبْلَهُ

‘আমি আশা করি আশুরা বা ১০ই মুহাররমের রোযা আল্লাহর নিকটে বান্দার বিগত এক বছরের (ছগীরা) গোনাহের কাফফারা হিসাবে গণ্য হবে’। (মুসলিম হা-১১৬২)

রাব্বুল আলামিন আমাদের আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

এমএফ/  
আরও পড়ুন...
মুহাররম মাস : ফযিলত, আমল ও বিদআত