জেনে নিন ফরয নামায পরবর্তী সহিহ দু’আ ও জিকির সমূহ

ঢাকা, সোমবার, ১৭ জুন ২০১৯ | ৩ আষাঢ় ১৪২৬

জেনে নিন ফরয নামায পরবর্তী সহিহ দু’আ ও জিকির সমূহ

মুহাম্মাদ ফয়জুল্লাহ ৫:৫৫ অপরাহ্ণ, জুলাই ০৪, ২০১৮

জেনে নিন ফরয নামায পরবর্তী সহিহ দু’আ ও জিকির সমূহ

ফরয নামাযের পর রাসুলুল্লাহ সা. বিভিন্ন যিকির-আযকার ও মৌখিক দু’আ পাঠ করতেন। সাহাবায়ে কেরামও তাই করতেন যা আল্লাহর রাসুলকে করতে দেখতেন। কিন্তু দুঃখজনকভাবে আমাদের দেশে সর্বত্র একটি ভুল আমল প্রচলিত হয়ে গেছে যে পাঁচ ওয়াক্ত ফরয নামাযের পর ইমাম-মুক্তাদীগণ সম্মিলিতভাবে মুনাজাত করে থাকেন। এর মাধ্যমে ফরয নামাযগুলোর পরে রাসূল সা. ও সাহাবায়ে কেরাম থেকে প্রমাণিত যে সকল মাসনুন আমল ও দু’আ-জিকির রয়েছে, সেই সহিহ আমলগুলো ছুটে যাচ্ছে।

আসলে ইসলামের প্রতিটি অনুসঙ্গ আল্লাহ তাআলা তাঁর কুরআন ও রাসুল সা. এর পূর্ণ জীবনাদর্শের মাধ্যমে পরিপূর্ণ করে দিয়েছেন। কোন স্থানে কোন প্রকার খালি বা অপূর্ণতা রাখেননি। যে কথা আল্লাহ তাআলা রাসুল সা. এর হায়াতের শেষ দিকে আয়াত নাযিল করে কুরআনে বলেও দিয়েছেন যে- তিনি তাঁর দ্বীন ও যাবতীয় নেয়ামতকে পরিপূর্ণ করে দিয়েছেন। অতএব, রাসুল সা. ও সাহাবাদের পরে দ্বীনের মাঝে কোন আমল যদি বৃদ্ধি করা হয়, তাহলে তা অবশ্যই কোন সহিহ সুন্নাহকে বিয়োজন করে তদস্থলে নতুন আমল সংযোজন করা হয়েছে। এটা দ্বীন বিকৃতির শামিল। যেখান থেকে একটি সুন্নাহ উঠে যায় সেখানে একটি বিদআত বা জাহেলি প্রথা জায়গা করে নেয়। আমাদের ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে। পাঁচ ওয়াক্ত নামায পরবর্তী সুন্নাহসম্মত আমলগুলোর প্রতি আমাদের অবহেলার কারণে এখানে একটি বিদআত জায়গা করে নিয়েছে। আমরা মুনাজাতকে নামায পরবর্তী আমল ভেবে নিয়ে বসে থাকছি। এরপর ইমাম সাহেব যখন মুনাজাত শেষ করছেন, আমরাও সকলে বের হয়ে চলে আসছি- যেন এর মাধ্যমেই নামায পরিপূর্ণভাবে শেষ হল। অথচ তা নামাযের কোন আংশও নয়। হাদিস শরীফে এসেছে, ফরয নামাযের পরে দু’আ কবুল হয়। কিন্তু তা একাকী। সম্মিলিত মুনাজাত ফরয নামাযের পর কোনভাবেই প্রমাণিত নয়। আল্লাহ যেন আমাদেরকে বিদআত বর্জন করে সুন্নাহর অনুসরণ করার তাওফীক দান করেন। আমীন।

ইনশাআল্লাহ, এ নিবন্ধে আমরা সংক্ষিপ্ত আলোচনায় কুরআন ও সহীহ সুন্নাহ থেকে উৎসারিত ফরয নামায শেষে ইমাম-মুক্তাদী সবার জন্য পঠিতব্য কিছু দু’আ ও যিকির উল্লেখ করবো- আল্লাহ আমাদের তাওফিক দান করুন।

(১) اَللهُ أَكْبَرُ، أَسْتَغْفِرُ اللهَ، اَسْتَغْفِرُ اللهَ، اَسْتَغْفِرُ اللهَ-

উচ্চারণ : ১. আল্লা-হু আকবার (একবার পড়বে)। আসতাগফিরুল্লাহ, আসতাগফিরুল্লাহ, আস্তাগফিরুল্লাহ (তিনবার)।

অর্থ : আল্লাহ সবার চেয়ে বড়। আমি আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি। (বুখারি, মুসলিম)

(২) اَللَّهُمَّ أَنْتَ السَّلاَمُ وَمِنْكَ السَّلاَمُ، تَبَارَكْتَ يَا ذَا الْجَلاَلِ وَ الْإِكْرَامِ.

আল্লা-হুম্মা আন্তাস্ সালা-মু ওয়া মিন্কাস্ সালা-মু, তাবা-রকতা ইয়া যাল জালা-লি ওয়াল ইকরাম।

অর্থ : ‘হে আল্লাহ! আপনিই শান্তি, আপনার থেকেই আসে শান্তি। বরকতময় আপনি, হে মর্যাদা ও সম্মানের মালিক’। যে সকল নামাযের পরে সুন্নাত নামায রয়েছে, সে নামাযগুলোর পর এটুকু পড়েই ইমাম উঠে যেতে পারেন। (মুসলিম)

এই সময় তিনি তাঁর স্থান থেকে একটু সরে গিয়ে সুন্নাত পড়বেন, যাতে দুই স্থানের মাটি ক্বিয়ামতের দিন তার ইবাদতের সাক্ষ্য দেয়।

যেমন আল্লাহ বলেন- يَوْمَئِذٍ تُحَدِّثُ أَخْبَارَهَا

“কিয়ামতের দিন মাটি তার সকল বৃত্তান্ত বর্ণনা করবে।” (সূরা যিলযাল-৪)

(৩) لآ إِلَهَ إِلاَّ اللهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيْكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَ لَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيْرٌ، لاَحَوْلَ وَلاَ قُوَّةَ إلاَّ بِاللهِ- اَللَّهُمَّ أَعِنِّيْ عَلَى ذِكْرِكَ وَ شُكْرِكَ وَ حُسْنِ عِبَادَتِكَ، اَللَّهُمَّ لاَ مَانِعَ لِمَا أَعْطَيْتَ وَلاَ مُعْطِيَ لِمَا مَنَعْتَ وَلاَ يَنْفَعُ ذَا الْجَدِّ مِنْكَ الْجَدُّ-

লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু ওয়াহ্দাহূ লা শারীকা লাহূ, লাহুল মুল্কু ওয়া লাহুল হামদু ওয়া হুয়া ‘আলা কুল্লি শাই-ইন ক্বাদীর; লা হাওলা ওয়ালা কুউওয়াতা ইল্লা বিল্লা-হ (উঁচুস্বরে)। (মুসলিম) আল্লা-হুম্মা আ‘ইন্নী ‘আলা যিকরিকা ওয়া শুকরিকা ওয়া হুসনি ‘ইবা-দাতিকা। আল্লা-হুম্মা লা মা-নি‘আ লিমা আ‘ত্বাযইতা ওয়ালা মু‘ত্বিয়া লিমা মানা‘তা ওয়ালা ইয়ানফা‘উ যাল জাদ্দি মিনকাল জাদ্দু।

অর্থ : নেই কোন উপাস্য আল্লাহ ব্যতীত, যিনি একক ও শরীকবিহীন। তাঁরই জন্য সকল রাজত্ব ও তাঁরই জন্য যাবতীয় প্রশংসা। তিনি সকল কিছুর উপরে ক্ষমতাশালী। নেই কোন ক্ষমতা, নেই কোন শক্তি, আল্লাহ ব্যতীত’। (মুসলিম) ‘হে আল্লাহ! আপনাকে স্মরণ করার জন্য, আপনার শুকরিয়া আদায় করার জন্য এবং আপনার সুন্দর ইবাদত করার জন্য আমাকে সাহায্য করুন’। (আহমাদ, আবু দাউদ) ‘হে আল্লাহ! আপনি যা দিতে চান, তা রোধ করার কেউ নেই এবং আপনি যা রোধ করেন, তা দেওয়ার কেউ নেই। কোন সম্পদশালী ব্যক্তির সম্পদ কোন উপকার করতে পারে না আপনার রহমত ব্যতীত’। (বুখারি, মুসলিম)

(৪) رَضِيتُ بِاللَّهِ رَبًّا وَّبِالْإِسْلاَمِ دِيْنًا وَّبِمُحَمَّدٍ نَبِيًّا-

রাযীতু বিললা-হি রববাঁও ওয়া বিল ইসলা-মি দীনাঁও ওয়া বিমুহাম্মাদিন্ নাবিইয়া।

অর্থ: আমি সন্তুষ্ট হয়ে গেলাম আল্লাহর উপরে প্রতিপালক হিসাবে, ইসলামের উপরে দ্বীন হিসাবে এবং মুহাম্মাদের উপরে নবী হিসাবে’।

রাসূলুল্লাহ সা. বলেন-

যে ব্যক্তি এই দু’আ পাঠ করবে, তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হয়ে যাবে’। (আবু দাউদ)

(৫) اَللَّهُمَّ إِنِّىْ أَعُوْذُبِكَ مِنَ الْجُبْنِ وَأَعُوْذُبِكَ مِنْ الْبُخْلِ وَأَعُوْذُبِكَ مِنْ أَرْذَلِ الْعُمُرِ وَأَعُوْذُبِكَ مِنْ فِتْنَةِ الدُّنْيَا وَ عَذَابِ الْقَبْرِ-

উচ্চারণঃ আল্লা-হুম্মা ইন্নী আ‘ঊযু বিকা মিনাল জুবনি ওয়া আ‘ঊযুবিকা মিনাল বুখলি ওয়া আ‘ঊযুবিকা মিন আরযালিল ‘উমুরি; ওয়া আ‘ঊযুবিকা মিন্ ফিতনাতিদ দুন্ইয়া ওয়া ‘আযা-বিল ক্বাবরি।

অর্থঃ ‘হে আল্লাহ! (১) আমি আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি ভীরুতা হতে (২) আশ্রয় প্রার্থনা করছি কৃপণতা হতে (৩) আশ্রয় প্রার্থনা করছি অতি বার্ধক্য হতে এবং (৪) আশ্রয় প্রার্থনা করছি দুনিয়ার ফিৎনা হতে ও (৫) কবরের আযাব হতে’। (বুখারি)

(৬) اَللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوْذُ بِكَ مِنَ الْهَمِّ وَالْحَزَنِ وَالْعَجْزِ وَالْكَسَلِ وَالْجُبْنِ وَالْبُخْلِ وَضَلَعِ الدَّيْنِ وَغَلَبَةِ الرِّجَالِ -

আল্লা-হুম্মা ইন্নী আ‘ঊযুবিকা মিনাল হাম্মি ওয়াল হুযনি ওয়াল আজঝি ওয়াল কাসালি ওয়াল জুবনি ওয়াল বুখলি ওয়া দলা‘ইদ দাযইনি ওয়া গালাবাতির রিজা-লি।

অর্থ : হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকটে আশ্রয় প্রার্থনা করছি দুশ্চিন্তা ও দুঃখ-বেদনা হ’তে, অক্ষমতা ও অলসতা হ’তে, ভীরুতা ও কৃপণতা হ’তে এবং ঋণের বোঝা ও মানুষের যবরদস্তি হ’তে’। (বুখারি, মুসলিম)

(৭) سُبْحَانَ اللهِ وَ بِحَمْدِهِ عَدَدَ خَلْقِهِ وَ رِضَا نَفْسِهِ وَ زِنَةَ عَرْشِهِ وَ مِدَادَ كَلِمَاتِهِ-

সুবহা-নাল্লা-হি ওয়া বিহামদিহি ‘আদাদা খালকিহী ওয়া রিযা নাফ্সিহী ওয়া ঝিনাতা ‘আরশিহী ওয়া মিদা-দা কালিমা-তিহী (৩ বার)।

অর্থ : কতই না পবিত্র আল্লাহ আর সকল প্রশংসা তাঁর জন্য। তাঁর সৃষ্টিকুলের সংখ্যার সমপরিমাণ, তাঁর সত্তার সন্তুষ্টির সমপরিমাণ এবং তাঁর আরশের ওযন ও মহিমাময় বাক্য সমূহের ব্যাপ্তি সমপরিমাণ। (মুসলিম, মিশকাত)

(৮) يَا مُقَلِّبَ الْقُلُوْبِ ثَبِّتْ قَلْبِي عَلَى دِيْنِكَ، اَللَّهُمَّ مُصَرِّفَ الْقُلُوْبِ صَرِّفْ قُلُوْبَنَا عَلَى طَاعَتِكَ-

ইয়া মুক্বাল্লিবাল ক্বুলূব, ছাবিবত ক্বালবী ‘আলা দ্বীনিকা, আল্লা-হুম্মা মুছারিরফাল কলূবি ছাররিফ ক্বুলূবানা ‘আলা ত্বো-‘আতিকা।

অর্থ : হে হৃদয় সমূহের পরিবর্তনকারী! আমার হৃদয়কে তোমার দ্বীনের উপর দৃঢ় রাখো’। ‘হে অন্তর সমূহের রূপান্তরকারী! আমাদের অন্তর সমূহকে তোমার আনুগত্যের দিকে ফিরিয়ে দাও’। (তিরমিযি, ইবনে মাযাহ)

(৯) اَللَّهُمَّ أَدْخِلْنِىْ الْجَنَّةَ وَ أَجِرْنِىْ مِنَ النَّارِ-

আল্লা-হুম্মা আদখিলনিল জান্নাতা ওয়া আজিরনী মিনান্ না-র (৩ বার)।

অর্থ : হে আল্লাহ তুমি আমাকে জান্নাতে প্রবেশ করাও এবং জাহান্নাম থেকে পানাহ দাও! (তিরমিযি, নাসায়ি)

(১০) اَللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْهُدَى وَالتُّقَى وَالْعَفَافَ وَالْغِنَى-

আল্লা-হুম্মা ইন্নী আসআলুকাল হুদা ওয়াত তুক্বা ওয়াল ‘আফা-ফা ওয়াল গিনা।

অর্থ : হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকটে সুপথের নির্দেশনা, পরহেযগারিতা, পবিত্রতা ও সচ্ছলতা প্রার্থনা করছি। (মুসলিম, মিশকাত)

(১১) سُبْحَانَ اللهِ، اَلْحَمْدُ ِللهِ، اَللهُ أَكْبَرُ، لآ إلهَ إلاَّ اللهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيْكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَ لَهُ الْحَمْدُ وَ هُوَ عَلَى كُلِّ شَيْئٍ قَدِيْرٌ-

সুবহা-নাল্লা-হ (৩৩ বার)। আলহাম্দুলিল্লা-হ (৩৩ বার)। আল্লাহু-আকবার (৩৩ বার)। লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু ওয়াহ্দাহূ লা শারীকা লাহূ; লাহুল মুল্কু ওয়া লাহুল হাম্দু ওয়া হুয়া ‘আলা কুল্লি শাই-ইন ক্বাদীর (১ বার)। অথবা আল্লা-হু আকবার (৩৪ বার)।

অর্থ : পবিত্রতাময় আল্লাহ। যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আল্লাহ সবার চেয়ে বড়। নেই কোন উপাস্য একক আল্লাহ ব্যতীত; তাঁর কোন শরীক নেই। তাঁরই জন্য সমস্ত রাজত্ব ও তাঁরই জন্য যাবতীয় প্রশংসা। তিনি সকল কিছুর উপরে ক্ষমতাশালী। (মুসলিম)

রাসূলুল্লাহ সা. বলেন- “যে ব্যক্তি প্রত্যেক ফরয নামাযের পর উক্ত দু’আ পাঠ করবে, তার সকল গোনাহ মাফ করা হবে। যদিও তা সাগরের ফেনা সমতুল্য হয়।” (মুসলিম, মিশকাত)

 

অন্য বর্ণনায় এসেছে- “তিনি আয়েশা ও ফাতেমা (রাঃ)-কে বলেন, তোমরা এ দু’আটি প্রত্যেক নামাযের শেষে এবং শয়নকালে পড়বে। এটাই তোমাদের জন্য একজন খাদেমের চাইতে উত্তম হবে।” (বুখারি, মুসলিম)

(১৩) سُبْحَانَ اللهِ وَ بِحَمْدِهِ ، سُبْحَانَ اللهِ الْعَظِيْمِ-

সুব্হা-নাল্লা-হি ওয়া বিহাম্দিহী, সুব্হা-নাল্লা-হিল ‘আযীম। অথবা সকালে ও সন্ধ্যায় ১০০ বার করে ‘সুবহা-নাল্লা-হি ওয়া বিহামদিহী’ পড়বে।

অর্থ : ‘কতই না পবিত্র আল্লাহ এবং সকল প্রশংসা তাঁরই জন্য। মহাপবিত্র আল্লাহ, যিনি মহান’। এই দু’আ পাঠের ফলে তার সকল গোনাহ ঝরে যাবে। যদিও তা সাগরের ফেনা সমতুল্য হয়’।

রাসূলুল্লাহ সা. এই দু’আ সম্পর্কে বলেন যে, “দু’টি কালেমা রয়েছে, যা রহমানের নিকটে খুবই প্রিয়, যবানে বলতে খুবই হালকা এবং মীযানের পাল্লায় খুবই ভারী। তা হল সুবহা-নাল্লা-হি ওয়া বি হামদিহি সুবহানাল্লাহিল আযিম।” (বুখারি, মুসলিম)

ইমাম বুখারী (রহ.) তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ সহিহ বুখারী উপরোক্ত হাদীছ ও দু’আর মাধ্যমে শেষ করেছেন।

(১৩) اَللهُ لآ إِلهَ إِلاَّ هُوَ الْحَىُّ الْقَيُّوْمُ، لاَ تَأْخُذُهُ سِنَةٌ وَّلاَ نَوْمٌ، لَهُ مَا فِى السَّمَاوَاتِ وَمَا فِى الْأَرْضِ، مَنْ ذَا الَّذِىْ يَشْفَعُ عِنْدَهُ إِلاَّ بِإِذْنِهِ، يَعْلَمُ مَا بَيْنَ أَيْدِيْهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْ وَلاَ يُحِيْطُوْنَ بِشَيْئٍ مِّنْ عِلْمِهِ إِلاَّ بِمَا شَآءَ، وَسِعَ كُرْسِيُّهُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ، وَلاَ يَئُودُهُ حِفْظُهُمَا وَ هُوَ الْعَلِيُّ الْعَظِيْمُ-

আয়াতুল কুরসী: আল্লা-হু লা ইলা-হা ইল্লা হুওয়াল হাইয়ুল ক্বাইয়ূম। লা তা’খুযুহু সিনাতুঁ ওয়ালা নাঊম। লাহূ মা ফিস্ সামা-ওয়াতি ওয়ামা ফিল আরদ। মান যাল্লাযী ইয়াশফা‘উ ‘ইনদাহূ ইল্লা বি-ইয্নিহি। ইয়া‘লামু মা বাইনা আইদীহিম ওয়ামা খালফাহুম, ওয়ালা ইউহীতূনা বিশাই-ইম্ মিন ‘ইলমিহী ইল্লা বিমা শা-আ; ওয়াসি‘আ কুরসিইয়ুহুস্ সামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদ; ওয়ালা ইয়াউদুহূ হিফযুহুমা ওয়া হুওয়াল ‘আলিইয়ুল ‘আযীম। (বাক্বারাহ ২/২৫৫)

অর্থ : আল্লাহ, যিনি ব্যতীত কোন উপাস্য নেই। যিনি চিরঞ্জীব ও বিশ্বচরাচরের ধারক। কোন তন্দ্রা বা নিদ্রা তাঁকে পাকড়াও করতে পারে না। আসমান ও যমীনে যা কিছু আছে সবকিছু তাঁরই মালিকানাধীন। তাঁর হুকুম ব্যতীত এমন কে আছে যে তাঁর নিকটে সুফারিশ করতে পারে? তাদের সম্মুখে ও পিছনে যা কিছু আছে সবকিছুই তিনি জানেন। তাঁর জ্ঞানসমুদ্র হ’তে তারা কিছুই আয়ত্ত করতে পারে না, কেবল যতুটুকু তিনি দিতে ইচ্ছা করেন। তাঁর কুরসী সমগ্র আসমান ও যমীন পরিবেষ্টন করে আছে। আর সেগুলির তত্ত্বাবধান তাঁকে মোটেই শ্রান্ত করে না। তিনি সর্বোচ্চ ও মহান’। (বাক্বারাহ ২/২৫৫)

রাসূলুল্লাহ সা. বলেন- “প্রত্যেক ফরয নামায শেষে আয়াতুল কুরসী পাঠকারীর জান্নাতে প্রবেশ করার জন্য আর কোন বাধা থাকে না মৃত্যু ব্যতীত।” (নাসাঈ)

শয়নকালে পাঠ করলে সকাল পর্যন্ত তার হিফাযতের জন্য একজন ফেরেশতা পাহারায় নিযু্ক্ত থাকে। যাতে শয়তান তার নিকটবর্তী হতে না পারে’। (বুখারী, মুসলিম)

(১৪) اَللَّهُمَّ اكْفِنِيْ بِحَلاَلِكَ عَنْ حَرَامِكَ وَ أَغْنِنِىْ بِفَضْلِكَ عَمَّنْ سِوَاكَ-

আল্লা-হুম্মাকফিনী বিহালা-লিকা ‘আন হারা-মিকা ওয়া আগ্নিনী বিফাদলিকা ‘আম্মান সিওয়া-কা।

অর্থ : হে আল্লাহ! আপনি আমাকে হারাম ছাড়া হালাল দ্বারা যথেষ্ট করুন এবং আপনার অনুগ্রহ দ্বারা আমাকে অন্যদের থেকে মুখাপেক্ষীহীন করুন!

রাসূল সা. বলেন- “এই দু’আর ফলে পাহাড় পরিমাণ ঋণ থাকলেও আল্লাহ তার ঋণ মুক্তির ব্যবস্থা করে দেন”। (তিরমিযী, বায়হাকী)

(১৫) أَسْتَغْفِرُ اللهَ الَّذِىْ لآ إِلَهَ إِلاَّ هُوَ الْحَىُّ الْقَيُّوْمُ وَ أَتُوْبُ إِلَيْهِ-

আস্তাগফিরুল্লা-হাল্লাযী লা ইলা-হা ইল্লা হুওয়াল হাইয়ুল ক্বাইয়ূমু ওয়া আতূ-বু ইলাইহি’।

অর্থ : আমি আল্লাহর নিকটে ক্ষমা প্রার্থনা করছি। যিনি ব্যতীত কোন উপাস্য নেই। যিনি চিরঞ্জীব ও বিশ্বচরাচরের ধারক। আমি অনুতপ্ত হৃদয়ে তাঁর দিকে ফিরে যাচ্ছি বা তওবা করছি’। এই দু’আ পড়লে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করেন, যদিও সে জিহাদের ময়দান থেকে পলাতক আসামী হয়’। (তিরমিযী, আবু দাঊদ) রাসূলুল্লাহ সা. দৈনিক ১০০ করে বার তওবা করতেন’। (মুসলিম)

(১৬) রাসূলুল্লাহ সা. প্রত্যেক নামাযের শেষে সূরা ফালাক্ব ও সূরা নাস পড়ার নির্দেশ দিতেন। (মুসনাদে আহমাদ, আবুদাঊদ, নাসাঈ)  তিনি প্রতি রাতে নিদ্রা গমনের সময় সূরা ইখলাছ, ফালাক্ব ও নাস পড়ে দু’হাতে ফুঁক দিয়ে মাথা ও চেহারাসহ সাধ্যপক্ষে সমস্ত শরীরে হাত বুলাতেন। তিনি এটি তিনবার করতেন। (বুখারি, মুসলিম, মিশকাত)

এমএফ/