ধৈর্য ও নামাজের মাধ্যমে আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করুন

ঢাকা, শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮ | ৭ আশ্বিন ১৪২৫

ধৈর্য ও নামাজের মাধ্যমে আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করুন

পরিবর্তন ডেস্ক ১০:৩২ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০১৮

ধৈর্য ও নামাজের মাধ্যমে আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করুন

নামাজ আল্লাহর খুবই প্রিয় ইবাদত। আর মুমিনের প্রশংসনীয় গুণাবলীর মাঝে সবর বা ধের্য অন্যতম। তাই আল্লাহ সুবহানাহু তাআলা এই দুই উত্তম জিনিসের মাধ্যমে তাঁর কাছে সাহায্য চাইতে বলেছেন।

পবিত্র কালামুল্লাহ শরিফে তিনি ইরশাদ করেন, ‘হে ইমানদারগণ, তোমরা সবর ও নামাজের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা কর। আর নিশ্চয়ই একাজ বিনয়ী ও খোদা ভীরু ছাড়া অন্যদের জন্য খুবই কঠিন।’ (সুরা বাকারা-৪৫)

উক্ত আয়াতে আল্লাহতায়ালা মানুষকে দুনিয়া ও আখেরাতের যাবতীয় বিপদাপদ ও দুঃখ-কষ্ট থেকে মুক্তি ও সমূহ কল্যাণ লাভের জন্য সবর এবং নামাজের মাধ্যমে তাঁর কাছে সাহায্য প্রার্থনার নির্দেশ দিয়েছেন। এই আয়াতটি আমাদের উত্তমরূপে অনুধাবন করা প্রয়োজন।

ভয়, হতাশা বা উদ্বিগ্নতা যদি কাউকে আচ্ছন্ন করে ফেলে, তাহলে আল্লাহ তাকে তাঁর সমীপে নামাজে দাঁড়িয়ে যাওয়ার আদেশ করছেন। আল্লাহ নামাজের মাঝে বান্দার জন্য শান্তি, স্বস্তি, সান্ত্বনা ও সাহায্য রেখে দিয়েছেন। যতক্ষণ পর্যন্ত বান্দা একনিষ্ঠভাবে ও জাগ্রত হৃদয়ে নামাজ আদায় করতে থাকে, ততক্ষণ পর্যন্ত নামাজ তার ওপর এই প্রভাব ফেলতে থাকে।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখনই কোনো কষ্টে পতিত হতেন, তখনই তিনি বলতেন, ‘হে বিলাল, নামাজের আজান দিয়ে আমাদের শান্তি দাও।’ (আবু দাউদ-২/৬৮১)

রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের খুশি ও আনন্দের উপায় ছিল নামাজ, তাঁর চোখের মণি ছিল নামাজ। তিনি ইরশাদ করেন, ‘আমার চোখের শীতলতা নামাজের মাঝে রাখা হয়েছে।’ (মুসনাদে আহমদ, ৩/১২৮)

আল্লাহর প্রিয় বান্দাদের জীবনী পড়লে দেখা যায়, তারা কোনো দুঃখ-কষ্টে পতিত হলেই নামাজে মনোনিবেশ করতেন- যতক্ষণ না তাঁদের মনে প্রশান্তি, মনোবল, স্থিরতা ও দৃঢ়তা ফিরে আসতো।

সাহাবাদের (রা.) এমন অনেক ঘটনা পাওয়া যায় যে নামাজের মাধ্যমে কিভাবে তারা সরাসরি আল্লাহ থেকে সাহায্য লাভ করেছেন।

হযরত হুজাইফাহ (রা.) বলেন, নবী করিম (সা.) যখন কোনো সমস্যার সম্মুখীন হতেন, তৎক্ষণাৎ তিনি নামাজে মনোনিবেশ করতেন। (দুররে মানসুর, আবু দাউদ, মুসনাদে আহমাদ)

নামাজ আল্লাহর বড় রহমত। তাই প্রত্যেক পেরেশানির সময় নামাজে মনোনিবেশ করা যেন আল্লাহর রহমতের দিকেই ঝুঁকে পড়া। আর আল্লাহর রহমত যখন কারও অনুকূলে সাহায্যকারী হয় তখন সাধ্য কি যে কোনো ভয়, দুশ্চিন্তা বা পেরেশানি বাকি থাকবে!

অনেক রেওয়ায়েতে বিভিন্নভাবে এই বিষয়টি বর্ণিত হয়েছে। সাহাবায়ে কেরাম (রা.)- যারা প্রতিটি কদমে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর অনুসারি ছিলেন, তাদের ঘটনাবলীতেও বিষয়টি বর্ণিত হয়েছে।

হযরত আবু দারদা (রা.) বলেন, যখন ধুলিঝড় শুরু হতো, তখন রাসুল (সা.) মসজিদে চলে যেতেন এবং ঝড় শেষ না হওয়া পর্যন্ত মসজিদ থেকে বাহির হতেন না। এমনিভাবে সূর্য ও চন্দ্রগ্রহণের সময়ও হুজুর (সা.) নামাজে মনোনিবেশ করতেন।

হযরত সুহাইব (রা.) হুজুর (সা.) থেকে বর্ণনা করেন, পূর্ববর্তী আম্বিয়ায়ে কেরাম আলাইহিমুসসালামেরও এই অভ্যাস ছিল যে, যে কোনো মুসিবতের সময় তারা একাগ্রচিত্তে নামাজে মশগুল হয়ে যেতেন।

সালাতুল খাওফ বা ভয়কালীন নামাজ (যা যুদ্ধের সময় পড়া হয়) অনুমোদন করা হয় যখন অঙ্গচ্ছেদ হয়, মাথা দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় তখন পড়ার জন্য। এ সময়ে একমাত্র একাগ্রচিত্তে নামাজ আদায়ের মাধ্যমেই মনোবল ও দৃঢ় প্রত্যয় ফিরে পাওয়া যায়।

তাই, যে কোনো বিপদ-আপদে, দুঃখ-কষ্টে হতাশ না হয়ে, ভেঙে না পরে বরং আমরা যেন সবর ইখতিয়ার করি এবং সর্ব শক্তিমান আল্লাহর দরবারে নিবিষ্ট মনে নামাজে দাঁড়িয়ে যাই।

আল্লাহ তো বান্দার প্রার্থনা শোনেন, তিনি দেখেন হৃদয়ের ব্যকুলতা এবং তিনি উত্তম সাহায্যকারী।

এফএস/আইএম