আল্লাহর জিকিরেই আত্মা প্রশান্ত হয়

ঢাকা, শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮ | ৭ আশ্বিন ১৪২৫

আল্লাহর জিকিরেই আত্মা প্রশান্ত হয়

ফয়জুল্লাহ সাইফ ৮:২১ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ৩১, ২০১৮

আল্লাহর জিকিরেই আত্মা প্রশান্ত হয়

‘জেনে রাখ! আল্লাহর জিকিরেই হৃদয় প্রশান্তি লাভ করে।’ (সূরা রাআদ, আয়াত : ২৮)

 

আর আল্লাহর জিকির ব্যতিত এমন কোন কাজ নেই যা আত্মাকে এমন প্রশান্তি দিতে পারে এবং যার প্রতিদান এর চেয়ে বেশি। ‘অতএব আমাকে স্মরণ কর, আমিও তোমাদেরকে স্মরণ করব।’ (সূরা বাকারা, আয়াত : ১৫২)

আল্লাহর জিকির (স্মরণ)-ই ভূপৃষ্ঠে তার বেহেশত। এতে যে প্রবেশ করেনি সে আখেরাতের বেহেশতে প্রবেশ করবে না। জিকির শুধুমাত্র এ পৃথিবীর সমস্যা ও উদ্বিগ্নতা থেকে এক নিরাপদ স্বৰ্গই নয়; অধিকন্তু, চূড়ান্ত সাফল্য লাভের এক সংক্ষিপ্ত ও সহজ পথও। আল্লাহর জিকির সম্বন্ধে পবিত্র কুরআনের হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়া আয়াতসমূহ পড়েই দেখুন, জিকিরের চেয়ে উত্তম পুরস্কার আর কোন জিনিসের আছে!

যখন আপনি আল্লাহর জিকির করবেন তখন দুশ্চিন্তা ও ভয়ের কালো মেঘ দূরীভূত হয়ে যাবে ও আপনার সমস্যার পাহাড় সরে যাবে। যারা আল্লাহর জিকির করেন তারা শান্তিতে আছেন বা থাকেন- একথা শুনে আমাদের আশ্চর্য হওয়া উচিত নয়। যা সত্যিই আশ্চর্যের তা হল অবহেলাকারীরা ও অমনোযোগীরা তাকে স্মরণ না করে কীভাবে বেঁচে থাকে। ‘তারা নিষ্প্রাণ, নির্জীব আর তারা জানে না কখন তাদেরকে পুনরুথিত করা হবে।’ (সূরা আন-নাহল, আয়াত : ২১)

ওহে! যে দুঃখ-দুর্দশায় বিনিদ্র রজনীর অতিবাহিত করছে আর যে আতঙ্কগ্ৰস্ত, সে যেন তাঁর পবিত্র নামে তাঁকে স্মরণ করে। ‘তাঁর মতো কারো কথা কি তোমরা জান?’ (সূরা মারইয়াম, আয়াত : ৬৫) ‘তাঁর মতো কিছুই নেই, তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্ৰষ্টা।’ (সূরা শুরা, আয়াত : ১১)

বান্দা আল্লাহকে যে পরিমাণ স্মরণ করবে, আত্মা সে পরিমাণই প্রশান্ত ও সন্তুষ্ট হবে। তাঁর জিকিরের অর্থই হলো তাঁর ওপর পূর্ণ নির্ভরতা, সাহায্যের জন্য তাঁর মুখাপেক্ষী হওয়া তাঁর সম্বন্ধে সুধারণা পোষণ করা এবং তাঁর পক্ষ থেকে বিজয়ের অপেক্ষায় থাকা। সত্যিই যখন তাঁর কাছে আবেদন করা হয় তখন তিনি নিকটেই থাকেন; যখন তাকে ডাকা হয় তিনি তখন  শুনতে পান ও তাঁর নিকট আকুল আবেদন করা হলে তিনি সাড়া দেন। তাই তাঁর সামনে নিজেকে বিনীত করা এবং একনিষ্ঠভাবে তাঁর সাহায্য প্রার্থনা করা। বারবার তার কল্যাণময় (বরকতময়) নামের তাসবিহ পাঠ করা ও তাঁর একমাত্র উপাস্য হওয়ার কথা উল্লেখ করা। তাঁর প্রশংসা করা, তাঁর নিকট কাকুতি-মিনতি করে প্রার্থনা করা ও তাঁর নিকট ক্ষমা ভিক্ষা চাওয়া, তাহলেই ইনশাআল্লাহ সুখ, শান্তি ও অন্তরে প্রশান্তির আলোকস্ফূরণ ঘটবে। ‘অতঃপর আল্লাহ তাদেরকে এ জগতের পুরস্কার ও পরকালের চমৎকার পুরস্কার দান করলেন।’ (সূরা আলে ইমরান, আয়াত : ১৪৮)।

এফএস/এএইচটি