বিষমুক্ত সবজিতে লাভ দেখছেন কৃষকেরা

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৫ এপ্রিল ২০১৯ | ১২ বৈশাখ ১৪২৬

বিষমুক্ত সবজিতে লাভ দেখছেন কৃষকেরা

জেলা প্রতিনিধি ১২:০০ অপরাহ্ণ, জুন ২৪, ২০১৬

বিষমুক্ত সবজিতে লাভ দেখছেন কৃষকেরা

নতুন নতুন প্রযুক্তি, সময়ের চাহিদা আর পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে বিভিন্ন এলাকায় বিভিন্ন সময় মানুষ তার প্রয়োজনে উন্নয়ন, উৎপাদন ও চালচলনের পরিবর্তন করে থাকে। এমনি পরিবর্তন এসেছে টাঙ্গাইলের বাসাইলের কৃষকদের মাঝে। ধানের পরিবর্তে বিষমুক্ত সবজি চাষ করে তাদের জীবনে ও উৎপাদনে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে।

এক সময় এই এলাকার কৃষকরা শুধুমাত্র ধান ও পাটের আবাদ করতেন। গত কয়েক বছরে এসব ফসলে কাঙ্খিত লাভ না পাওয়ায় তারা ঝুঁকছেন সবজি চাষে। বিশেষ করে বিষমুক্ত সবজি চাষ করে অনেকেই নিজেদের ভাগ্য বদল করেছেন। এই এলাকার চরাঞ্চল জুড়ে এখন সবজির সমারোহ।

চলতি মৌসুমে টাঙ্গাইলে বাসাইল সদরের মিরিকপুর এলাকা, কাশিলের সায়ের, নাকাসিম এবং কাঞ্চনপুর ও হাবলা ইউনিয়নের প্রায় দেড় হাজার হেক্টর জমিতে চাল কুমড়া ও মিষ্টি কুমড়া, করলা, মরিচ, লেবু, পেয়ারা, শসাসহ বিভিন্ন ধরনের সবজির আবাদ হচ্ছে।

প্রতিদিন বিকেলে বাসাইল-ভাতকুড়া সড়কের নাকাসিম বটতলা রাস্তার পাশে স্থানীয় কৃষকদের উৎপাদিত এ সকল বিষমুক্ত টাটকা সবজি বিক্রি হচ্ছে। গুণগতমানে উন্নত, দামও তুলনামূলকভাবে কম হওয়ায় বিক্রিও হচ্ছে প্রচুর।

এখানে প্রতি কেজি লেবু বিশ টাকা, জালি চাল কুমড়া প্রতি পিস ১০/১২ টাকা, করলা ২৫/৩০ টাকা কেজি, কাঁচা মরিচ ৩০ টাকা কেজি, শসা প্রতি কেজি ২৫/৩০ টাকা, পেয়ারা ২০/২৫ টাকা হালি দরে বিক্রি হচ্ছে।

৫ বছর আগেও এখানে কৃষকরা শুধু ধান ও পাটের আবাদের উপর নির্ভরশীল ছিল। কিন্তু ধানের উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়া এবং ধানের বাজার মূল্য কম হওয়ার কারণে এ এলাকার কৃষকরা লোকসানের হাত থেকে রক্ষা পেতে বিকল্প চাষের দিকে মনস্থির করে।

আগে যেখানে ধান চাষ করে লোকসান হতো সেখানে বর্তমানে প্রতি বিঘা জমিতে সবজি চাষ করে তাদের খরচ বাদ দিয়ে লাভ থাকে লাখ টাকার উপরে। এতে পাল্টে যাচ্ছে এ উপজেলার কৃষকদের জীবনযাত্রা।

পাশাপাশি সেক্স ফেরোমন ফাঁদ ব্যবহার করে বিষমুক্ত সবজির আবাদ করছেন তারা। ফলে বাজারের অন্য এলাকার সবজির থেকে এখানকার সবজির চাহিদা ও দাম তুলনামূলকভাবে বেশি।

নাকাসিম এলাকার কৃষক শাহাদৎ ও রবি বলেন, ‘আগে ইরি ধান আবাদ কইরা পর্তেক বছর ক্ষতি অইতো, আর এহন উন্যামাসে (শুকনা মৌসুমে) সবজি চাষ করি আর বাইস্যামাসে (বর্ষাকালে) আমন ধান বুনি। এহন আর আমগো ক্ষতি অয় না উল্টা লাব থাকে বালই।’

বিষমুক্ত সবজি আবাদে এগিয়ে এসেছে উপজেলা প্রশাসন। বাসাইল উপজেলা চেয়ারম্যান কাজী শহিদুল ইসলাম ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিলিয়া শারমিন বলেন, ‘পরিষদের অর্থায়নে কৃষকদের সেক্স ফেরোমন ফাঁদসহ প্রযুক্তিগত সকল প্রকার সহায়তা করা হচ্ছে প্রয়োজন অনুসারে। এতে কৃষকরা অনেক উপকৃত হচ্ছে। পাশাপাশি এ এলাকার কৃষকরা বিষমুক্ত সবজি উৎপাদনে উৎসাহিও হচ্ছে।’

টাঙ্গাইল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক আবুল হাশিম বলেন, ‘এখানকার উৎপাদিত সবজির গুণগত মান অনেক ভাল। মান, চাহিদা ও কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার লক্ষে এসব সবজি ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করার প্রচেষ্টা চলছে।’

এএএন/এসএফ/এমডি