নীলফামারীতে ধান সংগ্রহে কচ্ছপ গতি

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৫ এপ্রিল ২০১৯ | ১১ বৈশাখ ১৪২৬

নীলফামারীতে ধান সংগ্রহে কচ্ছপ গতি

জেলা প্রতিনিধি ৬:৩১ অপরাহ্ণ, জুন ২০, ২০১৬

নীলফামারীতে ধান সংগ্রহে কচ্ছপ গতি

দেড়মাসেও সন্তোষজনক হারে ইরি বোরো ধান সংগ্রহ করতে পারেনি নীলফামারী খাদ্য বিভাগ। সংগ্রহ অভিযান শুরু হয়নি কিশোরগঞ্জ ও জলঢাকা উপজেলায়। দফতরটি বলছে কৃষকের তালিকা না পাওয়ায় সংগ্রহ অভিযান শুরু হচ্ছে না খাদ্যগুদাম দুটিতে।

এদিকে কৃষকের নামের তালিকা প্রণয়ন নিয়ে অভিযোগের অন্ত নেই প্রকৃত চাষিদের। তালিকায় নাম না থাকা কৃষকদের অভিযোগ কৃষি কর্মকর্তারা আর্থিক সুবিধা নিয়ে তাদের পছন্দের ব্যক্তিকে অন্তর্ভুক্ত করেছেন।

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় সূত্র জানায়, চলতি ইরি-বোরো মৌসুমে ১২ হাজার ৬৩৮ টন ধান সংগ্রহ করা হবে জেলার ছয় উপজেলার সাতটি খাদ্যগুদামে। এরমধ্যে নীলফামারী সদরে ৩ হাজার ৫৯১, সৈয়দপুরে ১ হাজার ১৬৬, ডোমারে ১ হাজার ১৫৫, চিলাহাটিতে ৯শ, জলঢাকায় ২ হাজার ১৭৬, ডিমলায় ২ হাজার ১৭ এবং কিশোরগঞ্জে ১ হাজার ৬৩৩ টন ধান সংগ্রহ করা হবে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে। মঙ্গলবার (২০ জুন) পর্যন্ত সংগ্রহ করা হয়েছে প্রায় ১ হাজার ৭১৯ টন ধান, যা গড়ে ১৪ শতাংশ।

এবার সরকারি দরে কৃষকরা বাজার দরের চেয়ে লাভবান হওয়ায় খাদ্যগুদামে ধান দেওয়ার প্রবণতা বেশি। ফলে তালিকা প্রণয়ন নিয়ে শুরু হয় জটিলতা। চাহিদার চেয়ে বেশি সংখ্যক কৃষক হওয়ায় লটারির মাধ্যমে কৃষকের নামও নির্বাচন করা হয়।

নীলফামারী সদর, ডোমার, ডিমলা, সৈয়দপুর উপজেলায় সংগ্রহ অভিযান চললেও শুরু হয়নি জলঢাকা ও কিশোরগঞ্জ উপজেলায়। এই দুই উপজেলায় তালিকা প্রণয়ন না হওয়ায় খাদ্যগুদামে ধান দিতে পারছেন না কৃষকরা।

জলঢাকা উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক রেজাউল করিম জানান, উপজেলা খাদ্যশস্য সংগ্রহ কমিটির অনুমোদিত চূড়ান্ত তালিকা না আসায় অদ্যাবধি সংগ্রহ অভিযান শুরু হয়নি। তবে খুব শিগগিরই তালিকা পাওয়া যাবে বলে আশা করছেন তিনি।

উপজেলার কাঁঠালি ইউনিয়নের কৃষক বিজয় কুমার রায় অভিযোগ করে বলেন, আমি তিন বিঘা জমিতে ধান আবাদ করেছি। শুনেছি সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে সরকার ধান কিনবে কিন্তু কীভাবে নামের তালিকা প্রণয়ন করা হলো জানতে পারলাম না।

তিনি অভিযোগ করেন, মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা আর্থিক সুবিধা নিয়ে পছন্দের ব্যক্তিদের নাম অন্তর্ভুক্ত করেছেন।

শুধু জলঢাকা উপজেলায় নয়, তালিকা নিয়ে অভিযোগ রয়েছে নীলফামারী সদরেও। পৌরসভার চার নং ওয়ার্ডের কৃষক আনিছুর রহমান, জাহিদুল ইসলাম, রফিকুল ইসলাম, জহুরুল হক বলেন, উপজেলা পরিষদ যে তালিকা করা হয়েছে সেখানে আমাদের নাম নেই। কিভাবে হলো আমরা বুঝিনি।

খাদ্য বিভাগ বলছে, উপজেলা কৃষি অফিসের পাঠানো কৃষকের তালিকা অনুযায়ী সংগ্রহ অভিযানে কৃষকদের ধান সংগ্রহ করা হচ্ছে। এখানে খাদ্য বিভাগের কোনো নিজস্ব বিধি তৈরি করা হয়নি। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি কৃষক হওয়ায় উপজেলা কমিটির সিদ্ধান্তে লটারির মাধ্যমে নির্বাচিতদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা হচ্ছে ধান।

সদর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আব্দুল করিম সরকার জানান, নীলফামারী সদর উপজেলায় ধান সংগ্রহ করা হবে ৩ হাজার ৫৯১ টন কিন্তু আমরা কৃষকের তালিকা পেয়েছি ১২ হাজার ২২৭ জনের। বাধ্য হয়ে উপজেলা সংগ্রহ অভিযান কমিটির সিদ্ধান্তে লটারির মাধ্যমে ৩ হাজার ৫৯১ জন কৃষককে নির্বাচিত করে ১ টন করে ধান সংগ্রহ করা হচ্ছে।

খাদ্যগুদামে ধান দেওয়ার সময় কৃষকের সরাসরি উপস্থিতি, জাতীয় পরিচয়পত্র এবং কৃষি কার্ড থাকা বাধ্যতামূলক। তা না হলে ওই কৃষকের ধান গ্রহণ করা হচ্ছে না। এছাড়া খাদ্য গুদামগুলোতে নির্বাচিত কৃষকদের নামের তালিকা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

এদিকে ঝুট ঝামেলা এড়াতে কৃষকরা তাদের স্লিপ বিক্রি করে দিয়েছেন অভিযোগ উঠলেও খাদ্য বিভাগ বলছে কৃষকদের টাকা সরাসরি তাদের ব্যাংক হিসাবে অ্যাকাউন্ট পে চেকের মাধ্যমে পরিশোধ করা হবে।

সংগ্রহ অভিযানে কচ্ছপ গতির কারণ হিসেবে তালিকা প্রণয়নকে দুষছেন খাদ্য বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তা। দেড় মাস অতিক্রম করলেও এখনো সময় রয়েছে মন্তব্য করে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কাজী সাইফুদ্দিন জানান, কিশোরগঞ্জ ও জলঢাকা উপজেলায় জটিলতা দ্রুত নিরসন না হলে উপরের নির্দেশনা মতো তালিকা ছাড়াই প্রকৃত কৃষকদের জাতীয় পরিচয়পত্র, কৃষি কার্ড নিয়ে উপস্থিত হলে তার কাছ থেকে ধান সংগ্রহ করা হবে।

তালিকা প্রণয়ন নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর নীলফামারীর উপ-পরিচালক গোলাম মোহাম্মদ ইদ্রিস জানান, মাঠ পর্যায়ে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা নিয়ম মাফিক তালিকা তৈরি করেছেন।

এনএ/এসএফ/এসজে