এক মণ ধানে একজন কামলার মজুরি

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ | ৯ ফাল্গুন ১৪২৫

এক মণ ধানে একজন কামলার মজুরি

জেলা প্রতিনিধি ১০:১৪ পূর্বাহ্ণ, মে ১৯, ২০১৬

এক মণ ধানে একজন কামলার মজুরি

টাঙ্গাইলের সর্বত্র বোরো ধান কাটার ধুম পড়েছে। আর এই ধান কাটার জন্য কামলার (শ্রমিক) হাট এখন জমজমাট। তবে এবারই প্রথম কামলার দাম সর্বোচ্চ ৬০০ টাকা পর্যন্ত উঠেছে। অন্যদিকে ধানের দাম ৫০০ টাকা। এ কারণে ধানচাষীদের মন ভীষণ খারাপ।

 

কামলার হাট মানে যে হাটে শ্রম বিক্রি হয়। আর শ্রম বিক্রি হওয়া মানে নির্ধারিত সময়ের জন্য শ্রমিকদের বিক্রি হয়ে যাওয়া।

প্রতিবছর এপ্রিলের শেষ ভাগ থেকে টাঙ্গাইলে বোরো ধান কাটা শুরু হয়। ধান কাটা চলে একটানা মে মাস পর্যন্ত। এই সময় টাঙ্গাইলে ধান কাটা শ্রমিকের তীব্র সংকট দেখা দেয়। অন্যদিকে দেশের উত্তরবঙ্গে এই সময়ে ধান কাটা শেষ হয়ে যায়। আবার কোনো কোনো এলাকায় ধান কাটা শুরুই হয় না। এই সময়ে ওই অঞ্চলের দরিদ্র শ্রমিকদের কোনো কাজ থাকে না। তারা এই অবসর সময়টা কাজে লাগিয়ে কিছু বাড়তি অর্থ রোজগারের উদ্দেশ্যে দল বেধে যমুনা পার হয়ে টাঙ্গাইলে চলে আসেন। এজন্য তাদেরকে ‘অতিথি শ্রমিক’ বলা যেতেই পারে।

এবারো তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। টাঙ্গাইলের বিভিন্ন অঞ্চলে ধান কাটার জন্য অতিথি শ্রমিকের আগমন ঘটেছে ব্যাপকহারে। যথারীতি তারা টাঙ্গাইলের করটিয়া বাজার, করটিয়া বাইপাস, টাঙ্গাইল শহর বাইপাসের রাবনা, উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার কালিহাতী উপজেলার এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ড ও কালিহাতী বাসস্ট্যান্ডসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অবস্থান নেন বিক্রি হওয়ার জন্য। বিভিন্ন এলাকার কৃষকরা এসে এসব জায়গা থেকে তাদের চাহিদামত কামলা কিনে নিয়ে যান।

তবে কামলার দাম চড়া। এক মণ ধান বিক্রি করেও একজন কামলার দাম হচ্ছে না। সরেজমিনে কালিহাতী উপজেলার এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে দেখা যায়, কামলারা কেউ বসে আছেন, কেউ দাঁড়িয়ে। কারো হাতে ধান বহনের জন্য বাঁশের তৈরি বাইক, আবার কারো হাতে ব্যাগ। সবাই এসেছেন উত্তরবঙ্গ থেকে।

এলেঙ্গাতে কথা হয় কালিহাতী উপজেলার কোকডহরা ইউনিয়নের বাড্ডা গ্রামের কৃষক আমীর আলীর (৫০) সঙ্গে। তিনি বলেন, কয়েকদিন আগে এলেঙ্গা থেকে পাঁচজন কামলা কিনেছিলেন। প্রতি কামলার দাম নিয়েছিল ৬০০ টাকা করে। তিন বেলা খাবার দিয়ে যার দাম পড়েছে কমপক্ষে ৬৫০ টাকা। অথচ এক মণ ধানের দাম মাত্র ৪৮০ থেকে ৫৩০ টাকা। এখানে এক মণ ধানের চেয়ে একজন কামলার দামই বেশি পড়েছে। তবে কামলার দাম আগের চেয়ে কিছুটা কমেছে।

কালিহাতী উপজেলার পালিমা গ্রামের কৃষক আব্দুল করিম মিয়া ১ হাজার টাকা দিয়ে দুইজন কামলা কিনে নিয়ে যান। তিনি বলেন, ক্ষেতে ধান পেকে যাচ্ছে। ধান কাটা জরুরি হয়ে পড়েছে। তাই লোকশান হলেও বাধ্য হয়ে বেশি দাম দিয়া কামলা কিনলাম। 

রাজশাহীর তানোর উপজেলার দেবীপুর গ্রামের জসিম উদ্দিন (৩৫) আটজনের একটি দল নিয়ে ধান কাটতে এসেছেন এই এলাকায়। ৪৫০ টাকার কমে ধান কাটলে পুষায় না বলে জানান জসিম উদ্দিন।

পাবনার চাটমোহর থেকে আসা শ্রমিক রেজাউল করীম বলেন, এখানে সব জায়গায় একসঙ্গে ধান কাটা লাগছে, তাই কামলার দাম একটু বেশি। তিনি বলেন, ‘আমাদের এলাকায় ধান কাটা আগেই শেষ হয়ে গেছে। অবসর সময়টা বাড়িতে বইসা না থাইকা এই এলাকায় ধান কাটবার আসছি।’

এএন/আরআর/এমডি