পাবনায় জিঙ্ক সমৃদ্ধ ধানের সফল উৎপাদন

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ | ৯ ফাল্গুন ১৪২৫

পাবনায় জিঙ্ক সমৃদ্ধ ধানের সফল উৎপাদন

জেলা প্রতিনিধি ১:২৪ অপরাহ্ণ, মে ১৪, ২০১৬

পাবনায় জিঙ্ক সমৃদ্ধ ধানের সফল উৎপাদন

পাবনায় জিঙ্ক সমৃদ্ধ ব্রি-৬৪ ধানের সফল উৎপাদন হয়েছে। উচ্চ ফলনশীল ও পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ হওয়ায় এ ধান আবাদে আগ্রহও বাড়ছে কৃষকের।

 

মানবদেহের গঠন, বৃদ্ধি, রোগ প্রতিরোধ ও বুদ্ধিমত্তার বিকাশে একটি অন্যতম উপাদান জিঙ্ক। শিশুর নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, ম্যালেরিয়া প্রতিরোধেও কার্যকর ভূমিকা রাখে খাদ্যের এ উপাদান। মাংস, দামি ফলমূলে এ উপাদান থাকায় দেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠী জিঙ্কের অভাবজনিত নানা রোগে আক্রান্ত হয়। এ ঘাটতি পূরণে ২০১৪ সালে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের উদ্ভাবনে বাজারে আসে জিঙ্ক সমৃদ্ধ ধান ব্রি-৬৪। চলতি বোরো মৌসুমে পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার নুরনগর গ্রামে এ জাতের ধানের সফল উৎপাদন হয়েছে। ভালো ফলন হওয়ায় কৃষকের মুখেও ফুটেছে হাসি।

নুরনগর গ্রামের কৃষক মো. জুয়েল বলেন, কৃষি বিভাগের পরামর্শে চলতি মৌসুমে অল্প কিছু জমিতে এ ধানের পরীক্ষামূলক আবাদ করি। ফলন খুবই ভালো হয়েছে। আগামীতে আমি আরো বেশি জমিতে এ ধানের আবাদ করব। গ্রামের অন্যান্য কৃষকও আমার কাছে এ ধানের আবাদ করার জন্য বীজ চেয়েছেন।

কৃষি বিশেষজ্ঞরা জানান, প্রতি কেজি ব্রি-৬৪ ধানে ১৯ মিলিগ্রাম জিঙ্ক ও নয় শতাংশ আমিষ রয়েছে। অধিক ফলনশীল ও স্বল্প সময়ে চাষযোগ্য এই ধান রোপণের একশ দিন পরেই ঘরে উঠায় উৎপাদন খরচও কমেছে কৃষকের। ব্যাপক পরিসরে এ ধানের আবাদ সম্প্রসারণ করলে দেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জিঙ্কের ঘাটতি পূরণ অনেকটাই সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ প্রসঙ্গে হার্ভেস্ট প্লাস বাংলাদেশের কুষ্টিয়া কৃষি উন্নয়ন ও গবেষণা কেন্দ্রের কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, আমাদের দেশের গ্রামাঞ্চলের মানুষ জিঙ্কের অভাবে নানা রোগে ভোগে। গর্ভবতী নারী ও শিশুদের জন্য এ উপাদানটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু দামি খাবার ও ফলমূলে এ উপাদান থাকায় তা একসময় অত্যন্ত ব্যয়বহুল ছিল। বর্তমানে ব্রি-৬৪ ধানে এ উপাদান সংযুক্ত থাকায় দরিদ্র মানুষ এখন খুব সহজেই এ চালের ভাত থেকে এ উপাদানটি গ্রহণ করতে পারবে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, খামারবাড়ী, পাবনার উ-পরিচালক বিভূতিভূষণ সরকার বলেন, পাবনায় ব্রি-৬৪ ধান আবাদে কৃষকের মধ্যে ব্যাপক সাড়া পড়েছে। পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ হওয়ায় ফলন বাড়ার পাশাপাশি আগামীতে দেশের মানুষের পুষ্টি চাহিদা পূরণ ও রোগ প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। হেক্টর প্রতি ছয় থেকে সাত টন উৎপাদন সক্ষমতা থাকায় কৃষকের কাছে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে এ ধান।

আরজে/আরআর